১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

সোনার খনি খুঁড়তে গিয়ে মিলল আরো দামি সম্পদ

এই ক্যারিবু হরিণের দেহাবশেষ মিলেছে। ছবি: সৌজন্যে ইউকুন সরকারের টুইটার অ্যাকাউন্ট - ছবি : সংগৃহীত

কানাডার উত্তর-পশ্চিমে সোনার খনি। আর ইয়ুকুনের এই সোনার খনি নিয়েই চলছিল তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ। ছিল খনির কর্মীরাও। সেই সময় মিলল ৫০ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন দুটি পশুর মমি। একটি নেকড়ের ছানা আর একটি ক্যারিবু হরিণের শাবকের মমি মিলেছিল ২০১৬ সালেই। বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এলো সেই প্রাণীদের মমিগুলোর ছবি।

রোম, ত্বক, পেশী এগুলো জীবাশ্মের মধ্যে পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা নষ্ট হয়নি। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ধরলে বিশ্বের প্রাচীনতম ‘মামিফায়েড টিস্যু’-র মধ্যে পড়বে এটি।

ক্যারিবু শাবকটির ক্ষেত্রে মাথা, দুটি পা ও এবং হাত ও মাথা বাদ দিয়ে ধড়ের সম্পূর্ণ অংশটিই প্রায় এক রকম রয়ে গিয়েছে। আর নেকড়ের ছানাটির ক্ষেত্রে একটুও নষ্ট হয়নি পেশী কিংবা রোম। যেন সদ্য মারা গেছে এই দুটি প্রাণী।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রাণীগুলো তুষার যুগে বিরাজ করত পৃথিবীতে, ঠিক যখন ম্যামথের মতো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রাচীন আমলের গন্ডার ও হাতি ছিল পৃথিবীতে।

প্রাচীন যুগের এই প্রাণীগুলো আবিষ্কার কিন্তু ডিসকভারি চ্যানেলের গোল্ড রাশ শোয়ের টোনি বিটসের দল । ফেসবুকে এ কথা তিনি শেয়ারও করে নিয়েছেন। নিমেষের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেড় হাজার জন তা লাইক করেন।

ডেস মোয়েনেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ জুলিয়ে মিয়েশেন গবেষণা করেছেন এই প্রাণীগুলি নিয়ে। বছর দুয়েক গবেষণার পর এ গুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হল।

এই ক্যারিবু হরিণের দেহাবশেষ মিলেছে। ছবি: সৌজন্যে ইউকুন সরকারের টুইটার অ্যাকাউন্টCaption

এই পশুগুলোর বয়স ৫০ হাজার বছরের বেশি, তা রেডিও-কার্বন ডেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বলা গেলেও তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এই প্রাণীগুলির খাদ্যনালীতে যদি প্রাচীন কোনও ব্যাকটিরিয়া থাকে, করা হবে তার সন্ধান। একটি প্রাণী অপর প্রাণীটির শিকারই ছিল এ ক্ষেত্রে। তবুও কবে তাদের মৃত্যু হয়েছিল, কী খেত তারা, জিনের গঠনই বা কেমন, এ গুলি জানতে পারলে প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে।

ডওসন সিটির সংগ্রহশালায় রাখা রয়েছে এই প্রাচীন প্রাণীগুলি। এরা ঘুরত-ফিরত বেরিঞ্জিয়ায়। বেরিঞ্জিয়া প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি স্থলভাগ যা এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে সংযুক্ত করেছিল। প্লিস্টোসিন যুগের কিছু পর্বে পৃথিবীর তাপমাত্রা এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে ভূ-পৃষ্ঠের বেশির ভাগ জল বরফে পরিণত হয়েছিল। সেই তুষার যুগের (চতুর্থ পর্যায়) প্রাণীগুলোকে দেখতে ভিড় জমছে সংগ্রহশালায়।

আরো পড়ুন :

বিড়াল নিষিদ্ধ করা নিয়ে এত কাণ্ড!
বিবিসি ও গার্ডিয়ান

নিউজিল্যান্ডের একটি গ্রামে বিড়াল পোষা নিষিদ্ধ করা নিয়ে চলছে ব্যাপক হৈ চৈ। কর্তৃপক্ষ চাইছে আইন করে ওই গ্রামে বিড়াল পোষা নিষিদ্ধ করবে, কিন্তু গ্রামবাসীদের কেউ কেউ এর বিরুদ্ধে হয়েছেন সােচ্চার।

ঘটনা নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের একটি গ্রামের। ওমাওই নামের ওই গ্রামটির বাসিন্দাদের প্রায় সবারই এক বা একাধিক পোষা বিড়াল রয়েছে। ফসল ও বাড়ি ঘরে ইঁদুরের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে, কেউ বা শখের বসে বিড়াল পোষেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, বিড়ালের কারণে এলাকাটিতে জীব বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিড়াল পোষা নিষিদ্ধ করতে চান তারা। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন করা হবে।


আইনটির প্রস্তাব করেছেন নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের (সাউথল্যান্ড) পরিবেশ দফতর। আইন অনুযায়ী সবার পোষা বিড়ালকে জন্মনিরোধক টিকা দেয়া হবে এবং কারো বিড়াল মারা গেলে নতুন করে সে আর বিড়াল সংগ্রহ করতে পারবে না।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিড়ালের কারণে প্রতিবছর এলাকাটিতে লাখ লাখ পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী মারা যায়। তারা বলছে, আমরা বিড়াল বিরোধী নই, কিন্তু পোষা বিড়াল বাড়ির বাইরে এসে কেন পশু-পাখির ক্ষতি করবে।

২০৫০ সাল নাগাদ নিউজিল্যান্ডকে প্রাণীদের জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

যদিও বাসিন্দাদের কেউ কেউ এই যুক্তি মানতে রাজি নন। নিকো জারভিস নামে এক বাসিন্দা বলেন, তিনটি পোষা বিড়ালের কারণে আমি ইদুরের উৎপাত থেকে রক্ষা পাই। বিড়াল তিনটি না থাকলে আমার বাড়ি ঘরে থাকা দায় হবে। তিনি কর্তৃপক্ষের এই পরিকল্পনাকে ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।


আরো সংবাদ