১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ছাত্ররা আসক্ত হয়ে পড়ছে, তাই রাতে ফেসবুক বন্ধের দাবি রওশনের 

ছাত্ররা আসক্ত হয়ে পড়ছে, তাই রাতে ফেসবুক বন্ধের দাবি রওশনের  - সংগৃহীত

রাত ১১টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। 

সরকারের উদ্দেশে রওশন এরশাদ বলেন, ‘ছাত্রদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া আর কোকেন তুলে দেওয়া একই কথা।তারা সারারাত জেগে ফেসবুক দেখে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দিলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। ’ 

 বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী দিনে দেওয়া বক্তব্যে রওশন এরশাদ সরকারের কাছে এই অনুরোধ জানান।

রওশন এরশাদ প্রশ্ন করে বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান করতে না পারলে সোনার বাংলা কীভাবে হবে? সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখতে হবে।তাদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সমস্যার সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছে।এটা করতে গিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু সংঘাতের মাধ্যমে কোনোকিছুর সমাধান হয়না। কোটা সংস্কারের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভাঙচুর হয়েছে সেটাকে আমরা সমর্থন করিনা। তাই আলাপ–আলোচনা করেএর সমাধান হলে সেটা ভাল।’

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা রাখা সম্ভব না হলে অন্যভাবে সুযোগ–সুবিধা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা হয়ত রাখতে হবে। কারণ তারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। তাদের জন্য কোটা না রাখা গেলে অন্যভাবে সুযোগ–সুবিধা রাখা যেতে পারে।’

রওশন এরশাদ ভারত ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের আরও একাধিক দেশের উদাহরণ টেনে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন,ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক।সুতরাং ছেলেদের দাবি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন : নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রীসভায় থাকার আশা এরশাদের 
নয়া দিগন্ত অনলাইন ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৭

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারি আমি, এতে কোনো বাধা নেই।’ বৃহস্পতিবার রংপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন এইচ এম এরশাদ।

এরশাদ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেত্রী মন্ত্রিসভায় থাকতে পারবেন না। উনি বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকবেন শেষদিন পর্যন্ত। কিন্তু আমি থাকব।’ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘ইভিএম আগেও সমর্থন করিনি, এখনো করি না।’


এরশাদ আরো বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন এলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয়পার্টি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে। তাহলে বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলনে।

আরো পড়ুন: আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চায় সংসদের প্রধান বিরোধী দল
নয়া দিগন্ত অনলাইন ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চায় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই দাবী করেছেন। 

বৃহস্পতিবার তিন দিনের ব্যক্তিগত সফরে রংপুর এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছি। এর মধ্যে ৭০ আসন তো পেতে পারি।’


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নিজে এবার তিন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ রয়েছে। আর বাকিটা সময়ে বলে দেবে।’

জাতীয় ঐক্যে বিএনপির যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জাতীয় ঐক্যে যোগ দিলে কতটা শক্তিশালী হবে তা বলতে পারব না। তবে যদি বিএনপি আসে, আমি তো আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকব’।

‘জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে মহাজোটকে কেউ হারাতে পারবে না। যতই জাতীয় ঐক্য হোক না কেন, তারা মহাজোটের ধারেকাছেও আসতে পারবে না।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতি বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেনি। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এ কারণে আমি নিজেও ইভিএম পদ্ধতি পছন্দ করি না।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির এরশাদের সঙ্গে ছিলেন।

আরো পড়ুন : শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয় : দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৬

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন বিএনপি গ্রহণ করবে না জানিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনেও বিএনপি যেতে চেয়েছিল কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশন যে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেনি। সেটি সেই সময়ে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে। এখনো বলি- বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তার সাথে আলোচনা করেন তাহলে দেশে সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে এটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনাদেরকে পাগল ছাড়া কিছুই ভাববো না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকুসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের শর্ত জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিন্তু পরিষ্কার কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন আমরা গ্রহণ করবো না। বর্তমান যে নির্বাচন কমিশন তিনি এক সময় চাকরি হারিয়েছিলেন শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে এসেছে তার উপকারের জন্য। তিনি নিজেও বলেছেন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি দিতে পারবে না।

দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ২০ দলের দাবি মেনে নেয়া- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে আর এটির জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি আরো বলেন, আমরা শুধু আন্দোলন করবো নির্বাচনে যাব না এটা ঠিক না দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন গ্যারান্টি পেলে আমরা নির্বাচনে যাব। আর সেই সুষ্ঠ নির্বাচনের গ্যারান্টি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ২০ দলের দাবি মেনে নেয়া সেই সাথে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে দুদু বলেন, শেখ হাসিনা নাকি দেশে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছে তিনি নাকি কত কিছু করেছে আমরা বলি দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই একটি দলের সাফল্য কতটুকু তা প্রমাণ হয়। দেশের সব রাজনৈতিক দল একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। সেজন্য সবাই রাজপথে নামার উদ্যোগ নিয়েছে সে ক্ষেত্রে সরকার যদি সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে তারা ভুল করবে।

বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বেগম খা‌লেদা জিয়া ভীষণভা‌বে অসুস্থ। তার চি‌কিৎসার জন্য সরকারগঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তিনজনই আওয়ামী লী‌গের। তারাও ব‌লে‌ছে খা‌লেদা জিয়া খুবই অসুস্থ, অবিলম্বে তা‌কে হাসপা‌তো‌লে স্থানান্তর করতে হ‌বে। আমাদের সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে দাবি জানিয়ে ছিল বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দমতো ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করার পরও দুঃখের বিষয় হলো সরকার গঠিত বোর্ড করেছে বিএনপির আবেদন খালেদা জিয়ার আবেদন সরকার অগ্রাহ্য করেছে। তারপরও এই বোর্ড সুপারিশ করেছে হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য সেটাও করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার এত নির্মম যে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন তাকে শুধু মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়নি তার সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। তাই এই সরকারকে বলব এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে এই দিনই নিয়ে যাবে সেই দিনের কাছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুদ্দীন এহিয়া খান মজলিস সারোয়ার, জাগপার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো: আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।


আরো সংবাদ