২০ অক্টোবর ২০১৮

দু'মাথাওয়ালা সাপ নিয়ে তোলপাড়

দু'মাথাওয়ালা সাপ নিয়ে তোলপাড় - ছবি : সংগৃহীত

দু'মাথাওয়ালা একটি সাপ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যে একটি দু'মাথাওয়ালা কপারহেড সাপ পাওয়া গেছে। বৈজ্ঞানিকরা বলছেন এটা খুবই দুর্লভ এক ঘটনা।

ভার্জিনিয়া রাজ্যে এক বাড়ির বাগানে সাপটি পাওয়া যায়।

কপারহেড সাপ সাধারণ ১৮ থেকে ৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি একটি বিষাক্ত এবং ভাইপারজাতীয় সাপ যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাংশে পাওয়া যায়। কপারহেড সাপকে আক্রমণাত্মক বলে মনে করা হয় না।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দু'মাথাওয়ালা এই সাপটি একটি বাচ্চা সাপ এবং মাত্র ইঞ্চি ছয়েক লম্বা।

দু-মাথা নিয়ে জন্মানো প্রাণীকে বলা হয় বাইসেফালিক। এগুলো বেশি দিন বাঁচে না, এবং এদের পক্ষে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন বলে সর্পবিশেষজ্ঞ ড. জন ডি ক্লিওফার এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন।

অনেক সময় এমনও হয় যে একটি মাথা অপর মাথাটিকে আক্রমণ করে।

মনে করা হচ্ছে যে বন্যপ্রাণীর কোন একটি আশ্রয়কেন্দ্র এ সাপটিকে তাদের কাছে রাখবে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকী মন্তব্য করেছে, দু'মাথাওয়ালা সাপকে অনেকটা মাঝে মাঝে যে জোড়া-লাগানো শিশু জন্মের ঘটনা ঘটে - তার সাথে তুলনা করা যায়।


আরো পড়ুন
সাপ কেন মানুষের ঘরে এসে বাসা বাঁধে
প্রকাশ : ৮ জুলাই, ২০১৭
বাংলাদেশের রাজশাহীতে সাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। রাজশাহী শহরে এবং তানোরের এক গ্রামে এক সপ্তাহের মধ্যেই দুটি বাড়িতে পাওয়া গেছে বহু বিষধর গোখরা সাপ।

গত মঙ্গলবার রাজশাহী শহরের বুধপাড়ার বাসিন্দা মাজদার আলীর বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল ২৭টি গোখরা সাপ।

শুক্রবার তানোরের এক কৃষক আক্কাস আলীর বাড়িতে পাওয়া গেছে ১২৫টি গোখরা সাপ।

হঠাৎ করে কি রাজশাহীতে সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে? বিষাক্ত সাপ কেন মানুষের ঘরে একে বাসা বাঁধছে?

বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট প্রাণীবিজ্ঞানী এবং 'ওয়াইল্ড টিম' নামে একটি সংস্থার প্রধান আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন, মানুষের ঘরে সাপের আনাগোনা কোর বিরল ব্যাপার নয়।

"গ্রামের দিকে মানুষের সাধারণত মাটির ঘরে থাকে। মাটির ঘরে সাপের আনাগোনা মোটেই বিরল নয়। আর রান্না ঘরে তো নয়ই। কারণ রান্নাঘরে খাবার খেতে ইঁদুর যায়। পোকামাকড় যায়। অতএব রান্নাঘরে সাপ আনাগোনা করবেই"।

"আমরা একটি গবেষণায় দেখেছি যে, অনেক গ্রামে মানুষের ঘরের ভেতর গোলাঘর থাকে। এবং গোলাঘরে যে ধান থাকে, তার জন্যই ইঁদুর কিন্তু সেখানেও যেতে পারে। ইঁদুর যেখানে যাবে, সাপও সেখানে যাবে।"

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কোনও কোনও সাপ একশো পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। এর মধ্যে যদি পঞ্চাশটা ডিমও ফোটে, পঞ্চাশটা সাপের বাচ্চা থাকতে পারে।

তিনি বলেন, সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুনোর পর সেগুলো একসময় আবার জঙ্গলেই চলে যায়।

বছরের ঠিক এসময়টাই কেন সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়?

সাভারের বেদেপল্লীর একজন সাপুড়ে রমজান আলী বলছেন, বর্ষার শুরুতে সাপের উপদ্রব বাড়ার কারণ আছে।

"এই যে বর্ষা মওসুম এখন, আষাঢ় মাস। বর্ষার পানিতে চারদিক ভরে যায়। ফলে ধানখেতে বা জঙ্গলে যে সাপ থাকে, বিষধর সাপ, সেগুলো তখন মানুষের বাড়িতে চলে আসে। আর বর্ষা আসার মূহুর্তে সাপ ডিম পাড়ে। তখন ডিম পাড়ার জন্যও তারা উচু জায়গা খোঁজে।"

রাজশাহীর দুটি ঘটনাতেই যে সাপগুলোকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, তাতে দুঃখ পেয়েছেন রমজান আলী।

"সাপ যখন মেলে ফেলে তখন আমাদের কাছে খুব কষ্ট লাগে। আমরা তো এই সাপ দিয়েই আয়-রোজগার করি। আমরা কষ্ট পাই। কষ্ট লাগে।'

রমজান আলী বলেন, বাংলাদেশে সাপের সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে।


আরো সংবাদ