১৫ নভেম্বর ২০১৮

নিউ ইয়র্কে সেমিনার : নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

-

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করানো হয়েছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি দল এমন আইন পাশ করেছে। এই আইন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। এই সংবিধান বিরোধী।
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যাস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই তরিঘরি কওে এ আইন পাশ করানো হয়েছে। অথচ মুক্ত গণ মাধ্যম থাকলে গুজব তৈরি হয়না।
বুধবার সন্ধ্যায় আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘মুক্ত সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব একথা বলেন। এ আইন আওয়ামী লীগের জন্যই একদিন অভিশাপ হয়ে দাড়াবে বলে মত দেন বক্তরা। প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন দেশের বিশিষ্ট টক-শো আলোচক, কলাম লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, টকশো ব্যাক্তিত্ব সুভাশ সিংহ রায় , বিএফইউজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ, প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন নাসের, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, আজকাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সম্পাদক মনজুর আহমদ, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ,
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অফিসের ব্যুরো প্রধান ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারু ইসলাম,সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ইমরান আনসারী, লেখক আহমদ মাজহার, প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি শওকত ওসমান রচি, দেশকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও কলামিষ্ট আবু জাফর মাহমুদ, মানবাধিকার কর্মী কাজী ফৌজিয়া প্রমুখ।
বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচন বিতর্কিত হলেও সাংবাদিকরা ৫৭ ধারার ভয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। বর্তমান সরকার এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এমন ধারা রেখেছে-একজন পুলিশ অফিসার যে কোন সময়, যে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। গ্রেপ্তারও করতে পারবে। অপরাধ করুক বা না করুক, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তা করতে পারবে পুলিশ। আর মামলায় সাজা হলে ১৪ বছরের কারাদন্ড। তিনি আরো বলেন, এই আইন বলবৎ থাকলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন না। দুর্নীতির সংবাদও লিখতে পারবেন না। যে কারো বিরুদ্ধে আইনটির প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে পুলিশ।
আসিফ নজরুল বলেন, যে আইন অস্পস্ট, যে আইন একটি বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে এবং আইনটি প্রয়োগে জবাবদিহিতা নেই-এমন আইন কখনই জনগর পক্ষে যায় না। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় চেতনা হচ্ছে গনতন্ত্র, বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সম্পদ কুক্ষিগত না করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা। আমরা যদি এসবের কথা বলি-তাহলে মামলা-হামলার শিকার হতে পারি। তিনি বলেন, আজ যারা আইন করছেন, কাল ঐ আইনে তারাও ফেঁসে যেতে পারেন। অতীতে দেখেছি-বিশেষ ক্ষমতা আইনে সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বিএনপি র‌্যাব বানিয়েছিল-এর সুবিধা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমন উদাহরণ আরো আছে।
এই বৈঠকে একই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টক শো-আলোচক ও কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায় বলেছেন, সাংবাদিকদের সব সময় লড়াই করেই চলতে হয়। উন্নত সমাজ ব্যবস্থায়ও সাংবাদিকরা লড়াই করেন। তিনি বলেন-বর্তমান সরকারের আমলে মিডিয়া জগতের উত্তরণ ঘটেছে এবং মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে তথ্য। তিনি আরো বলেন-কোন আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গেলে তা প্রতিরোধ করতে হলে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ-বিদেশে সাংবাদিকরা বিবাদে লিপ্ত।
সাংবাদিক মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, সাংবাদিকদেও কণ্ঠরোধ করবার চেষ্টা অতীতেও অনেক সরকার করেছে কিন্তু তারা টিকে থাকতে পারেনি। আমি এই আইন পাশ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সম্পাদকদেও উদ্বেগকে তোয়াক্কা করা হয় না। এর দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে।
মইনুদ্দিন নাসের বলেন, এই আইন পাশের পর আমার মনে হয়েছে আমরা কি ১০০ বছর পিছনে ব্রিটিশ সিক্রেট আইনে ফিওে গেলাম কিনা। সামরিক শাসকরাও এই ধরণের কালো আইন তৈরীর সাহস করতো না। আবু তাহের বলেন, সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ বিএনপির লেজুর বৃত্তি করছে দেখেই ডিজিটাল আইন পাশ হওয়া সম্ভব হয়েছে
ইমরান আনসারী বলেন, এই আইন সংবিধান বিরোধী। এই আইনের মাধ্যমে সরকার প্রবাসী বাংলাভাষাভাষি লেখক সাংবাদিকদেও কণ্ঠরোধ করবার চেষ্টা করছে।


আরো সংবাদ