১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

মন্ত্রীর তফসিল, ব্যবস্থা নেবে না ইসি

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। ছবি - সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। এখনই আচরণবিধির মধ্যে যেতে পারবে না। তফসিল ঘোষণার পরেই কমিশন আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টা দেখবে। তার আগে দেখবে না। সোমবার নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ কমিশনার বলেন, তফসিলের তারিখ ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে মাথায় রেখেই কিন্তু তফসিলের তারিখ ঘোষণা করবেন। এ ধরনের আলোচনা এখনো কমিশনে হয় নাই, কমিশন সভায় তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সভার পরে ঘোষণা করা হবে। সেটা যেহেতু হয় নাই, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করে এই কথা বলা হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর, রবিবার সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তোপের মুখে পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন হতে পারে আগামী ২৭ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হতে পারে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী ভুল করেছেন। আমাদের সাথে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উনার এ কথা বলা উচিত হয়নি।

এর আগে সিটি নির্বাচনেও প্রার্থীদের আচারণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। জাতীয় নির্বাচনে কমিশন ব্যবস্থা নিতে কতটুকু সক্ষম হবে জানতে চাইলে কবিতা খানম বলেন, এটা ঠিক না। আমাদের কাছে নোটিশ আসার পর আমরা সেটা তদন্ত করি। তদন্ত করে আমরা যদি সত্যতা খুঁজে পাই, তখন আমরা অনেককে জরিমানা করি। অনেককে জরিমানা করেছি বিভিন্ন জায়গায়।

জাতীয় নির্বাচনে আইন কতটুকু প্রয়োগ করতে পারবেন জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন প্রয়োগ তো অবশ্যই হবে। আইন মানার বাধ্যবাধকতা আছে। কমিশনও চায় তার আইনটাকে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে।

আগামী সংসদ নির্বাচনটা হবে সংসদ বহাল থাকা অবস্থায়। সংসদ সদস্যরা পদে থেকে নির্বাচন করবেন। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণার চালাতে পারবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি নির্বাচনী আচরণবিধিমালাতে একটা একটা বিধি আছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথা বলা আছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কে সেটারও কিন্তু সংজ্ঞা আছে। সংজ্ঞার মধ্যে এমপি, মন্ত্রী, স্পিকার সবার কথাই বলা আছে এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকার যানবাহন, সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করে কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবে না। করার সুযোগ পাবে না। এটা কিন্তু অলরেডি আচরণ বিধিমালায় আছে। সুতরাং এটা নতুন করে কিছু করার আছে বলে আমার মনে হয় না।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, আপাতত আমরা যতটুক দেখেছি তাতে আচরণ বিধিতে সেরকম কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তবে আমরা আরো দেখছি।

যদি পরিবর্তন আনা না হয় তাহলে আপনি কি মনে করছেন যে এই আচরণ বিধিমালা দিয়েই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি সংসদ বিদ্যমান থাকে সেক্ষেত্রে যেহেতু একটা বিধি বর্তমানে আছে।

সুতরাং আর অন্যকিছুতে হাত দেওয়ার মতো এখনো দেখি নাই। তারপরও আইন সংস্কার কমিটির আরো যারা আছেন তাদেরকে বলেছি দেখেন যে, আরো কোনো কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে কি না।

রাজনৈতিক দলগুলো বারবার বলছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান আইনে সংবিধান অনুযায়ীতো আপনাদেরকে নির্বাচনটা করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনারা বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নিবেন কি না যেমন সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নির্বাচনের কমিশনের অধীনে আনার প্রস্তাবনা করা যেতে পারে। এ ধরণের বাড়তি কোনো কিছু আপনারা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের আলোচনার মধ্যে এ ধরণের কোনো বিষয় আসে নাই।

নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলীর সুপারিশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আরপিওতে আগে শুধু প্রত্যাহার করার বিষয়টি ছিল। সেখানে প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলী করার বিষয়টি আমরা প্রস্তাব করেছি। বদলী এবং প্রত্যাহার দুটোই যেনো থাকে। আমরা এ সুপারিশ করেছি।


আরো সংবাদ