১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

মোবাইলের সামনে শিশুদের কত সময় কাটানো উচিৎ

মোবাইলের সামনে শিশুদের কত সময় কাটানো উচিৎ - সংগৃহীত

আপনার সন্তান মোবাইল ফোন ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের সামনে কত সময় কাটাচ্ছে? ‘স্ক্রিন-টাইমের’ কি একটা সীমা বেঁধে দেয়া উচিৎ? তা ছাড়া আরো প্রশ্ন আছে - দৈনিক স্ক্রিন টাইম কত বেশি হলে তাকে বেশি বলা যায়?

এসব প্রশ্ন নিয়ে আবারও ভাবতে বলছে নতুন আরেকটি জরিপ।

সেখানে বলা হচ্ছে : যে শিশুরা শুধুমাত্র খেলা বা বিনোদনের জন্য ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের পর্দার সামনে প্রতিদিন দু’ঘন্টার কম সময় কাটায় - তারা মানসিক ক্ষমতার পরীক্ষায় ভালো ফল করে। তার মানে, আট থেকে ১১ বছরের শিশুদের দৈনিক 'স্ক্রিন টাইম' সীমিত করার সাথে তার বোধশক্তি উন্নত হবার একটা সম্পর্ক আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫শ শিশুর ওপর চালানো এই জরিপটি সম্প্রতি ল্যান্সেট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণকারী শিশুরা শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয়, কতটা ঘুমায়, এবং বিনোদনের জন্য কত সময় ফোন-ট্যাবলেট ব্যবহার করে ইত্যাদি দেখা হয়েছে।

এছাড়া তার বোধশক্তি বা মানসিক ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য তার ভাষা, স্মৃতিশক্তি, মনসংযোগ ইত্যাদির পরীক্ষা করা হয়।

দেখা গেছে - যে শিশুরা দু'ঘন্টার কম সময় ফোন-ট্যাবলেটের পর্দার সামনে কাটায়, ৯ থেকে ১১ ঘন্টা ঘুমায়, এবং কমপক্ষে এক ঘন্টা শারীরিক শ্রমসাধ্য কাজ করে - তাদের পারফরমেন্স, যারা এগুলো করে না তাদের চেয়ে ভালো।

তবে কানাডার ওএইচইও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ড. জেরেমি ওয়ালশ বলছেন, এ দুটি জিনিসের আদৌ সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা তা বের করতে আরো গবেষণা দরকার। তিনি বলেন, এমন কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণও যে ভিডিও গেম বা শিক্ষামূলক টিভি অনুষ্ঠান শিশুদের বোধশক্তির জন্য উপকারীও হতে পারে।

এর পর আসছে 'স্ক্রিন টাইম' কত হলে তাকে বেশি বলা যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে এটা অনেকটাই ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যাপার। ব্রিটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরকম একটি জরিপ করা হয়েছে টিনএজারদের ওপর। সেখানে ১ লাখ ২০ হাজার কিশোরকিশোরী - যাদের বয়েস ১৫ তাদের ওপর জরিপটি চালানো হয়।

সেখানে আভাস পাওয়া যায়, শনি-রবিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য দিনে দু'ঘন্টার বেশি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করলে তাদের ভালো থাকার মাত্রা কমে যায়। শনি-রবিবার চার ঘন্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও তাই ।

কিন্তু গবেষকরা বলছেন এই তারতম্যের পরিমাণ খুবই কম - মাত্র ১ শতাংশ। তার চেয়ে নিয়মিত খাবার খাওয়া, ঠিকমত ঘুমানোর সাথে ভালো থাকার সম্পর্ক তিন গুণ বেশি জোরালো। অন্যদিকে অক্সফোর্ডের জরিপটির প্রণেতাদের একজন জীন টোয়েং বলছেন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম কমানো উচিত, দিনে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টার বেশি হওয়া উচিত নয়।

কিন্তু অন্য কিছু ব্যাপকভিত্তিক জরিপে এর সুনিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তাই ব্যাপারটা - বলা যায় - এখনো জটিলই রয়ে গেছে।

আরো পড়ুন : যেভাবে ফাঁস হলো ফেসবুকের ৫ কোটি অ্যাকাউন্টের তথ্য

২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৫৮
প্রায় পাঁচ কোটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে বলে জানাল মার্ক জ়াকারবার্গের সংস্থা। প্রোফাইলের ‘ভিউ অ্যাজ’ ফিচারে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফাঁক গলেই হ্যাকারেরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি ফেসবুকের।

এর আগেই অবশ্য সোশ্যাল সাইটটি স্বীকার করেছে যে নির্দিষ্ট মানুষটির কাছে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়ার কাজে বরাবর গ্রাহকের দেয়া ফোন নম্বরই ব্যবহার করে এসেছে তারা।


কী ভাবে? অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে আপনি যে ফোন নম্বর দিয়েছেন, ফেসবুক দিব্যি তা দিয়েই ব্যবসা করে চলেছে— পরোক্ষভাবে এটা মেনেই নেন ফেসবুকের এক মুখপাত্র।

নেটিজ়েনদের অনেকেই নিজের ফোন নম্বর আপলোড করেন ফেসবুকে। আবার ফেসবুকের নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোতেও অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে গ্রাহকদের ফোন নম্বর দিতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন গবেষক দাবি করেন, গ্রাহকের কোনো পরিচয়-তথ্যই আর ব্যক্তিগত নয়। সবটাই বেহাত হয়ে গেছে। মার্কিন গবেষকদের দাবি, গ্রাহকের ‘গুগল সার্চ হিস্ট্রি’ বা পছন্দ জেনে, তাদের দেয়া কনট্যাক্ট তথ্য ব্যবহার করেই তাদের টাইমলাইনে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পাতে ফেসবুক।

ওই মুখপাত্র বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত পছন্দ মাফিক আমরা গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে চাই। বিজ্ঞাপনও একটা বড় অংশ।’’ তবে গ্রাহকেরা চাইলেই ফোন নম্বর জাতীয় তথ্য মুছে ফেলতে পারেন বলে জানান তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্যও বিক্রি হয়ে গেছে

ফেসবুকের হাতে উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ফের সংশয় প্রকাশ করলেন হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান অ্যাক্টন। এক মার্কিন পত্রিকাকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কোনো রাখঢাক না রেখেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি। তার কথায়, ‘‘১৯০০ কোটি ডলারে ফেসবুকের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বিক্রি করে উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যও সম্ভবত ‘বিক্রি’ করে দিয়েছি আমি।’’

২০০৯ সালে জান কুউমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাক্টন। তার দাবি, মেসেজিং অ্যাপটি যত দিন তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তত দিন গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা নিয়ে সব সময়ে সচেতন ছিলেন তারা। এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপ বিক্রির সময়ও গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখার শর্তটি জুড়ে দিয়েছিলেন তারা। অ্যাক্টনের দাবি, সেই শর্ত থেকে সরে আসছেন দেখেই ফেসবুকের সিইও মার্ক জ়াকারবার্গের সঙ্গে বিরোধ হয় তাদের। ২০১৭ সালে হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়েন অ্যাক্টন। চলতি বছরে সরে আসেন কুউমও।

সাক্ষাৎকারে অ্যাক্টন জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাণিজ্যিকীকরণের বিপক্ষে ছিলেন তারা। অথচ হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের প্রচার করতে চাইতেন জ়াকারবার্গ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকদের ফোন নম্বর ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল ফেসবুকের। যাতে সরাসরি বাণিজ্যিক সংস্থা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অ্যাক্টনের দাবি, ফেসবুক বরাবরই এই পরিকল্পনা নিয়ে চলেছে। ফলে হোয়াটসঅ্যাপের শেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তার কাছে। অ্যাক্টনের কথায়, ‘‘আমার সংস্থা আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। তার সঙ্গে সঙ্গে হয়ত উপভোক্তাদের গোপনীয়তা বিকিয়ে দিয়েছি। আপস করে হলেও হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমায় প্রতিদিন এই ভাবনা নিয়েই কাটাতে হয়’’।

গত নভেম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ার পর থেকেই নানা সময়ে ফেসবুকের সমালোচনা শোনা গেছে অ্যাক্টনের মুখে। ফেসবুক থেকে তথ্য চুরি নিয়ে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলঙ্কারির পরে ‘ডিলিটফেসবুক’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন তিনি। অ্যাক্টনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এখনো কোনো জবাব দেয়নি ফেসবুক।


আরো সংবাদ