২২ অক্টোবর ২০১৮

যে কারণে রাতে অফিস করলেন মেয়র সাঈদ খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। - ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যানজট নিরসন, ট্রাফিক সিগন্যাল কমাতে এবং দাফতরিক কাজ আরও গতিশীলতা আনতে নাইট শিফট চালুর চিন্তা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

পরীক্ষামূলকভাবে নাইট শিফটের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে নগর ভবনে অফিস শুরু করছেন। শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি অফিস করেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকার যানজট কমানোর চিন্তা থেকেই এটা ( রাতে অফিস) করতে চাচ্ছি। আজ শুরু করছি। দেখি এটা করতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জ আছে।

সেই সঙ্গে কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাসহ উন্নয়ন কাজ সরাসরি মনিটরিং করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গণপরিবহনে শঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে বাসরুট রেশনালাইজেশন বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, যানজট নিরসনে কোরিয়ার সিউল শহরের মতো ঢাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও অফিস আওয়ার শুরু হতে পারে। এটা খারাপ আইডিয়া না। সিউল শহরের বিভিন্ন কর্পোরেশন ও সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান নাইট শিফটে কাজ করে। রাত ৯টা থেকে তাদের শিফট শুরু হয়। সকালে আবার আরও একটি শিফট শুরু হয়। তারা পুরো সময়টাকে ব্যবহার করছে। এ কারণে মানুষের মুভমেন্ট অনেকটা কমে গেছে। তার সুফল তারা ভোগ করছেন। যানজট হচ্ছে না।

সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেছিলেন, সিঙ্গাপুরের একটি কনফারেন্সে সিউল শহরের মেয়রের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তিনি সেখানে অনেক বিষয় শেয়ার করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখন রাত ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অনেক অ্যাকটিভ দেখা যায়। ট্রান্সপোর্টগুলো ডিস্ট্রিবিউশন করছে। যদি সরকার মনে করে রাতের বেলায় একটা শিফট কাজ করবে, তাদের যদি পেমেন্ট, সিকিউরিটিজ এবং আসা-যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে এই ধারণাটা একেবারেই মন্দ না।

 

আরো পড়ুন: গিনেস বুকে রেকর্ড আমাদের অনুপ্রাণিত করবে : সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রতীকী পরিচ্ছন্নতায় সাত হাজার ২১ জন মানুষ অংশ নিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে ঢাকার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রঙ উৎসব করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনসহ নগর ভবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ উৎসবে যোগ দেন।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, আগে পাঁচ হাজার ৫৮ জনের অংশগ্রহণে একই জায়গায় সর্বাধিক লোকের ঝাড়– দেয়ার রেকর্ড ছিল ভারতে। এখন সে রেকর্ড ঢাকার দখলে। তিনি বলেন, এই রেকর্ড আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন হতে সহায়তা করবে। এ রেকর্ড আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আর তখনই এই রেকর্ড অর্থবহ হবে, যখন আমরা নাগরিকদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন নগর উপহার দিতে পারব। তবে নগরবাসী যদি সচেতন না হয় তাহলে রেকর্ড মলিন হয়ে যাবে। সাঈদ খোকন বলেন, একজন মেয়রের একার পক্ষে ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিটি নাগরিককে মেয়রের ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্বের বুকে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী এবং নিজেদেরকে একটি পরিচ্ছন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মেয়র। এ সময় তিনি নগর পরিচ্ছন্নতায় গিনেস বুকে করা স্বীকৃতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জিটিভির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো: জাহিদ হোসেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মফিজ আহাম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালাতে আরো দুই বছর লাগবে : সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮


রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা শুরু করতে আরো দুই বছর লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত নবগঠিত সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। 
গতকাল নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

জানা গেছে, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারদলীয় জোট সরকার ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) গ্রহণ করে। এতে তিনটি মেট্রোরেল এবং বাসের জন্য তিনটি পৃথক লেন (বিআরটি) নির্মাণের সুপারিশ ছিল। এর প্রতিটি রুটে কেবল একটি কোম্পানির বাস চালানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে একই রুটের বাসগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকে। কিন্তু প্রায় ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও গণপরিবহনে এসটিপির এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়নি। ছয় বছর আগে আজিমপুর-উত্তরা রুটে ‘বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ’ (বিআরটি) করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থলোভী পরিবহন মালিকদের কারণে বিআরটি ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর থেকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলছে নগরীর গণপরিবহন।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আনিসুল হক ২০১৬ সালের প্রথম দিকে এক সভায় সংশোধিত এসটিপি অনুযায়ী আবারো নগরীতে কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার উদ্যোগের কথা জানান। গত নভেম্বরে আনিসুল হকের মৃত্যুর আগে এ ব্যাপারে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু তার মৃত্যুতে এর অগ্রগতি থমকে যায়। সর্বশেষ গত রোববার দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, কমিটি খুব দ্রুত কাজ শুরু করবে। এ মাসের শেষ সপ্তাহে একটি সভা হবে। সভায় বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে আনিসুল হকের প্রস্তাবনা এবং কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, মেয়র আনিসুল হকের সময় এ নিয়ে একটি ড্রাফট করা হয়েছিল। এটি আমরা দেখব। কোনো কিছু সংযোজন, পরিমার্জন ও সংশোধন করতে হলে করব। আমি মনে করি, এ কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত। আমরা সেভাবেই কাজ করব। তিনি বলেন, নগরীর পুরনো বাস তুলে দিয়ে প্রায় চার হাজার নতুন বাস নামানো হবে। এ কারণে সময় একটু বেশি লাগবে। এখন থেকে ১৫ মাস পর সাঈদ খোকনের মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তখন কার্যক্রমের কী হবেÑএমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরীর উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি না থাকলে তখন অন্য কেউ করবে। আমাদের লক্ষ্য যানজটমুক্ত শহর উপহার দেয়া।

 

 


আরো সংবাদ