১২ ডিসেম্বর ২০১৮

পাকিস্তান সীমান্তে ভারী অস্ত্র মোতায়েন করছে ভারত?

পাকিস্তান সীমান্তে ভারী অস্ত্র মোতায়েন করছে ভারত? - ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান সীমান্তে ভারত ভারী অস্ত্র মোতায়েন করছে বলে রুশ একটি মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার মিডিয়ার ভাষ্যমতে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য এবং যুদ্ধের সরঞ্জামাদি মোতায়েন করছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গানশিপ হেলিকপ্টার, ট্যাঙ্ক, সামরিক কার্গো কপ্টার, মাঝারি থেকে ভারী অ্যামিউনিশান ব্যাটারি ও সামরিক রেশান ডিপো মোতায়েন করছে ভারত।

সাম্প্রতিককালে ভারতের সেনাপ্রধান ও সরকারের প্রতিনিধিরা সীমিত মাত্রায় অভিযান চালানোর কথা বলে আসছেন, যেটাকে তারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন। উরি হামলায় নিহত সেনাদের বদলা নিতে ভারত পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল বলে দাবি করে থাকে, সম্প্রতি তার দ্বিতীয় বার্ষিকীও উদযাপন করছে ভারত।

ভারত সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতাকে শুধু বিবৃতি দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ভারতীয় সেনারা যে গুলি চালিয়েছে, সেখানেও ভারতের মনোভাব ফুটে উঠেছে। এজেকে’র প্রধানমন্ত্রী হায়দার তার মন্ত্রিসভার সদস্যের ভাইয়ের মৃত্যুতে তাকে সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছিলেন হেলিকপ্টারে করে, এ সময় তার হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালায় ভারতীয় সেনারা।

হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুজন মন্ত্রী এবং তার ব্যক্তিগত সহকারীরা ছিলেন। আব্বাসপুর গ্রামের কাছে অল্পের জন্য হামলা থেকে বেঁচে যায় হেলিকপ্টার। ভারতীয় কর্মকর্তারা অবশ্য এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অতিরিক্ত সরঞ্জাম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত স্বীকার বা নাকচ কিছুই করেননি।

কিন্তু যেহেতু পাকিস্তানের মাটিতে কথিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে, এ ধরনের সংবাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। রুপির অবমূল্যায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অদূরদর্শী নির্দেশে পদক্ষেপ নেয়ার পর ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১০ সালের ১০% থেকে কমে ২০১৫ সালে ৪.৫% এ নেমে এসেছিল।

তাছাড়া, ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ শ্লোগান দিয়ে সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল, যেটার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু এটা থেকে কোন উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি। অন্যদিকে, মোদির শাসনামলে হিন্দুত্ব আদর্শের অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। আগামী বছরে নির্বাচনে যাওয়ার আগে বিজেপি চায় আসল ইস্যুগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি যাতে ভিন্নদিকে সরিয়ে নেয়া যায়। সে কারণেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নাটক সাজানো হচ্ছে।

ভারত সবসময় ‘বিএটি’ বা বর্ডার অ্যাকশান ফোর্সের অজুহাত দিয়ে সীমান্তে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করে। এটা ভারতীয় মিডিয়াগুলোর সৃষ্ট প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়। তাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানের এলিট বিশেষ সেনারা এই বাহিনীতে রয়েছে এবং তারা সীমান্তরেখা অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে ভারতীয় সেনাদের হত্যা করে তাদের হাত পা কেটে দেয়।

পাকিস্তানের স্পেশাল ফোর্সেস বিশেষ করে স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) সংখ্যায় খুবই ছোট এবং তারা মূলত ভারতীয় মদদপুষ্ট জঙ্গিদের বিচরণক্ষেত্রে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে সক্রিয়। তাদেরকে অপেক্ষাকৃত কম উত্তেজনাপূর্ণ পূর্ব সীমান্তে ব্যবহারের আইডিয়াটা হাস্যকর এবং কৌশলগতভাবে অসুবিধাজনক। এ কারণেই বর্ডার অ্যাকশান ফোর্সের ‘দৈত্য’ সাজিয়ে সেটাকে ব্যবহার করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে ভারত।

ভারতকে মোকাবেলার জন্য এখন পরিস্থিতির গভীর পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। যেখানে পারমাণবিক ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে কোল্ড স্টার্ট নীতি ব্যাবহার করে সীমিত মাত্রার যুদ্ধের চিন্তা করাটা চরম অবাস্তব। তাই পাকিস্তানকে এখন কূটনীতিক ফ্রন্টে ভারতের পদক্ষেপের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে সীমান্তেও সতর্ক থাকতে হবে।


আরো সংবাদ