২০ অক্টোবর ২০১৮

দারিদ্রের হার বাড়ছে ব্রিটেনে

দারিদ্রের হার বাড়ছে ব্রিটেনে - ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মানুষ গত এক দশকে তুলনামূলকভাবে গরিব হয়েছে। ২০০৮ সালে মন্দার সময় মানুষের গড় বার্ষিক আয় ছিল ২৪ হাজার ১০০ পাউন্ড। আর ২০১৭ সালে তা কমে ২৩ হাজার ৩০০ পাউন্ডে নেমে গেছে। ২০০৮ সালের মন্দার প্রভাবে দেশটির মানুষের মজুরি কমেছে ৩ শতাংশ। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজ ( আইএফএস) এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

মন্দার পর যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া লন্ডন ও ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাড়ির দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আমানতের সুদের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ভগ্নাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে সঞ্চয়কারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গত এক দশকে ধনী গরিবের ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, গড়ে মানুষের বার্ষিক প্রকৃত মজুরি এক দশক আগের তুলনায় অন্তত ৮০০ পাউন্ড কমেছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী লোকজন এক বছরে বর্তমানে যা আয় করে, ২০০৮ সালে একই বয়সীদের আয় বছরে ২ হাজার ১০০ পাউন্ড বেশি ছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মানুষের আয় কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এই একই সময়ে ২০-৩০ বছর বয়সীদের আয় কমেছে ৫ শতাংশ। আর ষাটোর্ধ্ব মানুষের আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশ্লেকরা বলছেন, মন্দার পর নিয়োগদাতারা নতুন চাকরিজীবীদের বেতন কমাতে পারলেও যারা তখন কর্মরত ছিলেন, তাদের বেতন কমাতে পারেননি। সম্ভবত এ কারণেই গত এক দশকে ২০-৪০ বছর বয়সীদের আয় দ্রুত কমেছে। তবে সম্প্রতি নতুনদের আয় বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

আইএফএস বলছে, গত দশকের মন্দা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ঐতিহাসিক মানদন্ডে এখনো অনেক কম বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। এ সময়ে সরকারের ঋণ বেড়েছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া দেশটির সরকারি ব্যয়েও নজিরবিহীনভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে।

ব্রিটেনে নতুন অভিবাসননীতি ঘোষণা : আশাবাদী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা

ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের সাথে দীর্ঘ ২৫ বছর জোটবদ্ধ ছিল ব্রিটেন। ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশের বেশির ভাগ লোক ভোট দেয় ২০১৬ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের ২৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন। ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনের লাভ ক্ষতি নিয়ে হিসাব করছে সকলে। আর বাংলাদেশীরা ভাবছে ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেন সরকার অভিবাসন নীতিতে কী পরিবর্তন আনছে এবং এর ফলে তারা কিভাবে লাভবান হতে পারে।

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন এক অভিবাসন পরিকল্পনা সম্প্রতি অনুমোদন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। নতুন নিয়মের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে কম দক্ষ জনশক্তি আসার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। ব্রিটেন সরকারের এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশীরাও লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে । আশার আলো দেখছেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশীদের পরিচালিত রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। ব্রিটেনে বাংলাদেশী কারি ইন্ডাষ্ট্রির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) থেরেসা মে’ র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা ছাড়াও অন্য ব্যবসায়ীরা সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আশাবাদী।


ব্রিটিশ সরকারের ইন্ডিপেন্ডেন্ট মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে নতুন ইমিগ্রেশন নীতির প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, কম দক্ষ জনশক্তি ব্রিটেনে আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো রুট থাকা উচিত নয়। আর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনার আওতায় কৃষি, স্যোশাল কেয়ার ও রেস্টুরেন্টসহ কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে কম দক্ষ জনশক্তি আনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। হোম অফিসের একটি সূত্র জানায়, টিয়ার-২ টাইপ ভিসার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ও পরিধি বাড়াবার পরিকল্পনাও রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।]

ব্রিটেনে কারি শিল্পের দীর্ঘ দিনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন বিসিএ বিগত কয়েক বছর থেকে কারি শিল্পের প্রধানতম সমস্যা স্টাফ সঙ্কট নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে বিসিএ‘র ধারাবাহিক কার্যক্রমে ব্রিটিশ সরকারের সাথে লবিং-এর উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ ষ্টাফ এনে কারি ইন্ড্রাষ্টির স্টাফ সঙ্কট মোকাবেলা করা। পয়েন্ট ভিত্তিক সিষ্টেমে ইউরোপীয় অঞ্চলের বাইরের দেশ থেকে দক্ষ সেফ আনার সুযোগ দেয়া।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটেনে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন ( বিসিএ) বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফসহ কারি ইন্ডাষ্ট্রিতে বাংলাদেশী ক্যাটারার্স ও ষ্টাফদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্টার পর থেকে ধারাবাহিক কাজ করে আসছে। বিসিএ ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাষ্টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষে সরকারের বিভিন্ন ফোরামে দাবি দাওয়া তুলে আসছে। ২০১৮ সালের ১০ জুলাই হাউস অব কমন্স এর সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে কারি শিল্পের স্টাফ সংকট ও অন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি-সংবলিত প্রস্তাব দিয়েছে বিসিএ।

বিসিএ‘ র সভাপতি মোস্তফা কামাল ইয়াকুব এবং সাধারণ সম্পাদক অলি খাঁন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিসিএ‘র দীর্ঘদিনের দাবির জন্য না হলেও ব্রেক্সিটের কারণে সরকার অভিবাসননীতি শিথিল করেছে। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে‘ র ঘোষণা তারই ধারাবাহিকতার ফসল।


আরো সংবাদ