২৩ অক্টোবর ২০১৮

চীন-জাপানের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা!

চীন-জাপানের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা! - ছবি : সংগৃহীত

চীন আর জাপানের শক্তি প্রদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠছে শ্রীলঙ্কা! সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এমন আলামতই পরিষ্কার হয়ে ওঠছে।
প্যাসিফিক ও ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রতিবেশীদের সতর্ক করে দিয়েছে এবং তাদের প্রভাব বাড়ানোর প্রতিযোগিতার ফলে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার রাজধানী ও বন্দর নগরী কলম্বোকে ব্যস্ত থাকছে।

জাপানের বৃহত্তম রণতরী হেলিকপ্টারবাহী রণতরী কাগা ও ডেস্ট্রোয়ার ইনাজুমা কলম্বোতে নোঙর করার এক দিন পর গত ১ অক্টোবর জাহাজটির কমান্ডিং অফিসার ও জাপানের পাহারায় নিয়োজিত বহরের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল তাতসুয়া ফুকুদা শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর প্রধানের সাথে আলাপ করে ‘দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময়’ করেন।

ফুকুদা শ্রীলঙ্কা যাত্রার প্রাক্কালে বলেছিলেন, জাপান সরকার অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চায় এবং এর অংশ হিসেবেই তারা এশিয়া-প্যাসিফিকে এই মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে জাপানি নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ৫০ বার নোঙর করেছে।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর যেদিন জাপানি রণতরীগুলো ত্যাগ করে, ওই দিনই চীনা নৌবাহিনীর জাহার হাই ইয়াঙদাও চার দিনের ‘শুভেচ্ছা সফরে’ আসে বলে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে। আরো বলা হয়, চীনা জাহাজের অধিনায়ক ও শ্রীলঙ্কার ওয়েস্টার্ন নৌ এলাকার কমান্ডার পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছেন।

ভারত মহাসাগরের ব্যস্ততম নৌরুটের খুব কাছে অবস্থিত শ্রীলঙ্কা। এখান দিয়েই চীন তার বেশির ভাগ জ্বালানি আমদানি করে। অবস্থানগত কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা অবসান হওয়ার পর গত দশকজুড়ে দেশটিতে চীনা সহায়তা অনেক বেড়েছে। এর আগে চলতি বছর চীন জানিয়েছিল, তারা শ্রীলঙ্কাকে একটি ফ্রিগেট দেবে উপহার হিসেবে।

এই সম্পর্ক ভারতের জন্য আরো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০১৭ সালে হাম্বানতোতা বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চীনা নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেয়ার পর ভারত অনেক বেশি চিন্তিত হয়েছে।

চীন এই বন্দরটি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কিনা তা নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তবে তেমনটি হবে না বলে চীন ও শ্রীলঙ্কা উভয়েই জানিয়েছে। কেবল এখানেই নয়, পাকিস্তান ও জিবুতিতেও চীন উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

গত কয়েক বছর দিয়ে এই এলাকা দিয়ে চনা সাবমেরিন ও অন্যান্য রণতরীর চলাচল করার বিষয়টিও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে।

গত ৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর জাহাজ টহল যান এসএলএনএস সাগর ও ক্ষেপণাস্ত্র রণতরী এসএলএনএস সুরানিমালা চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে ভারত যায়। এই সফরসূচিতে এই প্রশিক্ষণ মহড়াও অন্তর্ভূক্ত ছিল।

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে জাপান আরো বড় ভূমিকা কামনা করেছে। টোকিও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ করেছে, সেখানে চীনের উচ্চাভিলাষী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।

শ্রীলঙ্কায় কাগার নোঙর করার অর্থ হলো চীন যে এলাকায় তার প্রভাব বাড়াচ্ছে, সেখানে জাপানও বড় ধরনের সামরিক মোতায়েন করতে আগ্রহী।

কাগা চলে যাওয়ার পর জাপানের নৌবাহিনী ভারত মহাসাগরে চার দিনের যৌথ মহড়া শুরু করে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর সাথে। দুই বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের জন্যই তা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র জাপান টাইমসকে জানায়, এটি হলো চীনকে একটি বার্তা দেয়া।

মহড়ার অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা কাগায় যান জাপানি প্রশিক্ষণ ও মানবিক অভিযান-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য।

জাপান টাইমসকে এক জাপানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, অন্য দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের জাপানি রণতরীতে সাধারণত প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয় না। শ্রীলঙ্কা ওই বিরল সুযোগই পেয়েছে।

চীনের সাথে প্রশ্নবোধক কিছু চুক্তিতে সইকারী শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসে ২০১৫ সালে পরাজিত হওয়ার পর কলম্বোর সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয় যুক্তরাষ্ট্র।

টোকিও ও দিল্লিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলীয় বন্দর ত্রিনকোমালির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। হাম্বানতোতা ও এই অঞ্চলে চীনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ তিনটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

ত্রিনকোমালিতে গত এপ্রিলে ও আগস্টে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএনএস মার্সি সফর করেছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন নেতৃত্বাধীন রিম অব প্যাসিফিক মিলিটারি মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

গত আগস্টে জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সফর করেন শ্রীলঙ্কা। তিনি ত্রিনকোমালি ও হাম্বানতোতাও গিয়েছিলেন। এর আগে ১৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কা সফর করেন।

নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক গ্রাউন্ড সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের মেজর জেনারেল নজমু ইশিতোমি রয়টার্সকে বলেন, চীনকে যে বার্তা দিচ্ছে জাপান তা হলো ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অবশ্যই শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে টোকিওর সামরিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সামর্থ্য রয়েছে।

চীন কি এই হুঁশিয়ারিতে কান দেবে?


আরো সংবাদ

মেয়েদের দেহে স্পর্শ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, এরপর যা হলো ব্রেক্সিট নিয়ে ফের গণভোটের দাবিতে লন্ডনে লাখো মানুষের বিক্ষোভ কিভাবে ফাঁস হয় ফোনালাপ? আইন যা বলেছে কারাগারের আমদানী সেলে ব্যারিস্টার মইনুলের প্রথম রাত কেশবপুরে সরকারদলীয় নেতাদের অবৈধ পশুহাট মইনুল হোসেনকে ‘রাজনৈতিকভাবে’ নিয়েছে আওয়ামী লীগ, বিবিসির জিজ্ঞাসা নিখোঁজের ২৪ দিন পর কিশোরের লাশ উদ্ধার মইনুলের গ্রেফতার কিভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বুধবার সিলেটের জনসভা থেকে কী বার্তা দেবে ঐক্যফ্রন্ট কলড্রপের ক্ষতিপূরণ ও অনাকাঙ্খিত ম্যাসেজ নিয়ন্ত্রণে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা জরুরি ছিল : কাদের 

সকল