১৫ অক্টোবর ২০১৮

ক্যান্সার প্রতিরোধে এই সবজিগুলো খান

বাঁধাকপি ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে - সংগৃহীত

ক্যান্সার একটি মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি। আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) ক্যান্সার প্রতিরোধ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ লোক ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ধারণা, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই রোগীর সংখ্যার বেশির ভাগই হবে অনুন্নত দেশে। আমাদের দেশের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতি।

বেশ কিছু উপাদানকে ক্যান্সারের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. বংশগত অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ জিন; ২. পরিবেশগত কারণ; ৩. ধূমপান; ৪. খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্যে ভেজাল, যেমন- ম্যাইক্রোটনিকস ও নাইট্রোসামাইনস; ৫. আয়োনাইজিং রেডিয়েশন; ৬. বিভিন্ন ওষুধের প্রতিক্রিয়া; ৭. মদপান; ৮. পেশাগত কারণ; ৯. রাসায়নিক এবং ১০. ভাইরাসজনিত কারণ প্রভৃতি।

ইমিউনোথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার এক নতুন সম্ভাবনা। প্রাণঘাতী এ রোগ প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউনোথেরাপির কাছে বলা যায় পুরোপুরি পরাজিত। এ পদ্ধতিতে ক্যান্সারের অস্বাভাবিক কোষকে ধ্বংস করতে আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে কাজে লাগানো হয়। এটি দু’ভাবে কাজ করে। প্রথমত, এটি দেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করে। দ্বিতীয়ত, ক্যান্সার সেলের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে পারে। আর আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকা বিভিন্ন ডায়েট ক্যান্সার প্রতিরোধে আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমকে ইতিবাচক ত্বরান্বিত করে। নিয়মিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ক্যান্সার অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। ক্যান্সার নিয়ে সমগ্র বিশ্বে বহু গবেষণা করা হয়েছে। তা ছাড়া ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড ও দ্য আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার রিসার্চের অর্থায়নে খাদ্য, পুষ্টি ও ক্যান্সার প্রতিরোধ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়, দৈনিক প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খেলে মুখ, গলা, খাদ্যনালী, ফুসফুস, পাকস্থলী, অন্ত্রনালী, অগ্ন্যাশয়, মূত্রাশয়, পিত্তথলি, স্তন, বায়ুপথ ও স্বরযন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও খাদ্যদ্রব্য (ডায়েট) রয়েছে, যা খেলে প্রাকৃতিকভাবেই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। তা ছাড়া এগুলো ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। সেই সাথে এগুলো ক্যামোথেরাপির ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে দেহকে রক্ষা করে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-

১. টমেটো : টমেটোতে রয়েছে প্রচুর লাল রঞ্জক উপাদান লাইকোপেন, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান হিসেবে এটি বহুল পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত টমেটোর সস খান, তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে আসে।

২. বাঁধাকপি : বাঁধাকপিও ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বাঁধাকপিতে ইনডোলস নামক ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান থাকে। বাঁধাকপিতে বিদ্যমান জেনিস্টেন নামক উপাদান স্তন, প্রস্টেট ও মস্তিষ্ক ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। মলদ্বারের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য বাঁধাকপি খুবই উপকারী সবজি। এ ছাড়াও বিভিন্ন শাকসবজি খেলে মুখ, গলা ও খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, ব্রকলি ও সরিষা শাকও ক্যান্সার বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধক। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শাকসবজি পাকস্থলী ও মূত্রথলি ক্যান্সার প্রতিরোধক। শিম, বরবটি ও মটরশুঁটি বেশি পরিমাণে খেলে স্তন ক্যান্সার কম হয়।

৩. হলুদ : হলুদ অন্যতম একটি ক্যান্সার প্রতিরোধক মসলাজাতীয় খাদ্য। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৭ সালে হলুদ (কুরকুমিন) ও ক্যামোথেরাপি দিয়ে অন্ত্রের ক্যান্সারের তুলনামূলক চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং তাতে ক্যান্সার কোষ নিধনে ক্যামোথেরাপির চেয়ে হলুদই বেশি কোষ ধ্বংস করে বলে ফলাফলে দেখা যায়। অন্য এক গবেণায় দেখা যায়, ল্যাবরেটরিতে প্রাণীদেহে ব্রেস্ট ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করে। সম্প্রতি ১৬টির অধিক ক্লিনিক্যাল স্টাডি রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা যায়, হলুদ প্রস্টেড, ব্রেস্ট, কোলন ও অস্টিওসারকোমা রোগে আশানুরূপ কার্যকর।

৪. বিটা-ক্যারোটিন : ক্যান্সার প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ এবং বিটা-ক্যারোটিনের ওপর সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। দেহে দীর্ঘ দিন ভিটামিন ‘এ’র অভাব থাকলে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ শাকসবজি যেমন- গাজর, টমেটো, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, মিষ্টিকুমড়া, কচুশাক, লাউশাক ইত্যাদি রেইন বো ভেজিটেবল তথা রঙিন শাকসবজিও ভিটামিনের উৎস হিসেবে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

সতর্কতা : ক্যান্সারের ঝুঁকিগুলোর মধ্যে ধূমপান, পান-জর্দা-তামাকপাতা খাওয়া, সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম না করা, শারীরিক স্থূলতা বা বেশি ওজন, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি, এক্স-রে রেডিয়েশন, কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- কিছু কিছু ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুঘটিত ক্রনিক রোগের অবস্থা। তাই এগুলো বিশেষ বিবেচনায় এনে এড়িয়ে চলা উচিত।


আরো সংবাদ