১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

তারেক রহমানের দণ্ডের ব্যাপারে এটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

এটর্নি জেনারেল - ছবি : সংগৃহীত

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় পর্যালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দণ্ড বৃদ্ধির জন্য আপিল করা হবে।

এটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মাহবুবে আলম বলেন, এ মামলায় তারেক রহমানকে যদি নাটের গুরু বলা হয়ে থাকে, তবে সেটা রায় পর্যালোচনা করে দেখব। রায় পড়ে যদি দেখি তারও মৃতুদন্ড হওয়া উচিত ছিল, তবে তার দণ্ড বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করব। এর সবটাই নির্ভর করবে রায়টি পড়ার পর।

মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে অনেক দেশেই দণ্ডিতকে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয় উল্লেখ করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া সমর্থন করে না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের তো যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তাই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কষ্ট হবে না।

মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, রায়ে যাদের মৃত্যুদন্ড হয়েছে তাদের আদালত থেকে বিনা খরচে রায়ের কপি দেয়া হয়। আর তারা যদি আপিল ফাইল করে, তবে সেটাও ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেব। তবে এটাতে পেপারবুক তৈরি করার বিষয় রয়েছে, সেগুলো আদালতের বিষয়। মামলার আপিল শুনানিতে আমাদের পদক্ষেপগুলো আমরা নেব।

এটর্নি জেনারেল বলেন, এই মামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিকেরও সাজা হয়েছে। এখানে আমরা অনুমান করছি, বাংলাদেশের ক্ষতি করার জন্য, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য পাকিস্তান এখনও নিবৃত্ত হয়নি। পাকিস্তান এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা সেক্ষেত্রে জেএমবিসহ জঙ্গিদের দমন করতে সফল হয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত ওই পাকিস্তানি নাগরিককে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পাকিস্তানের ইন্ধন থাকতে পারে।

২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট সংগঠিত ভয়াবহ, বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বুধবার রায় ঘোষণা করেছেন বিচারিক আদালত। রায়ে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। নজিরবিহীন ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট ৪৯ আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাগারে রয়েছে। ১৮ জন এখনো পলাতক।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিচার এবং তার পুত্র তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘৃন্য এ গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গ্রেনেড হামলার সময় স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এ হামলার দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিকল্প সরকার ছিল হাওয়া ভবন। এ ভবন থেকেই তারেক রহমান হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এই হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড, প্ল্যানার ও বিকল্প পাওয়ার সেন্টারের মালিক তারেক রহমান। এ মামলার রায়ে তার মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপুমনি এমপি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ