২৩ অক্টোবর ২০১৮

গেস্টরুমে ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার দুই ঢাবি শিক্ষার্থী

গেস্টরুমে ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার দুই ঢাবি শিক্ষার্থী - সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিন্ন হলের দুই শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে নিয়ে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন এবং স্যার এএফ রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে।

মারধরে শিকার হাসান আল মানজুর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এবং নুরুল আফসার স্যার এফ. রহমান হলের শিক্ষার্থী। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। মারধরে অভিযুক্তরা হলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী শাহ ইবনে সোয়াদ ও এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ রাকিব। তারা উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারী।

মারধরের শিকার হাসান আল মানজুর জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম শেষে হলে ফিরলে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ ইবনে সোয়াদ তাকে ফোন করেন। কিন্তু সে ওয়াশরুমে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারে নি। পরে শাহ ইবনে সোয়াদ ক্ষিপ্ত হয়ে তার রুমে এসে তাকে গালিগালাজ করে এবং তৎক্ষণাৎ হল থেকে বের হয়ে যেতে বলে। কিন্তু বের না হয়ে গিয়ে হলে অবস্থান করায় রাতে সোয়াদ তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হল থেকে বেরিয়ে যেতে চাপ দেয়। এক পর্যায়ে স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে আসে এবং বেপরোয়া চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ড. নিজামুল হক ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, আমরা ঘটনার তদন্তে হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, অন্য দুজন সদস্য হলেন ইমাউল হক সরকার ও একেএম ইফতেখারুল ইসলাম। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ নিব।

এদিকে, মারধরের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ মারধরকারী শাহ ইবনে সোয়াদকে হল থেকে বের করে দেয়।

অপরদিকে ফেসবুকে গণরুম নিয়ে একটি সংবাদের লিংক শেয়ার দেয়ায় মারধরের শিকার হন এএফ রহমান হলের নুরুল আফসার। আফসার জানান, এ ঘটনায় রাগান্বিত হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিব তাকে গেস্টরুমে ডাকেন। কিন্তু যেতে দেরি হওয়ায় রাকিব প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে তাকে জোর করে গেস্টরুমে নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে গেস্টরুমে গেলে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারনে গালিগালাজ করে। এ সময় লাঠি দিয়ে তার বুকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন রাকিব। তিনি বলেন, সে সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় তাকে বকাঝকা করা হয়েছিল, মারধর করা হয়নি। আমি তাকে কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম খান জানান, আমি ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও আমরা জানিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কাউকে মারার অধিকার রাখে না।

এ দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মারধরের শিকার ঐ দুই শিক্ষার্থী প্রক্ট্রর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে প্রক্ট্রর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী জানান, আমি অভিযোগপত্র পেয়েছি। ঘটনা যেহেতু হলে ঘটেছে তাই হল কর্তৃপক্ষের মাধ্যম তদন্ত কমিটি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে ঘটনার বিচার করা হবে


আরো সংবাদ