২৩ অক্টোবর ২০১৮
সম্পাদক পরিষদের বৈঠক শেষে বিবৃতি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি

-

জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার
পরিষদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়Ñ সম্পাদক পরিষদ মনে করে, পাস হওয়া ডিজিটাল
নিরাপত্তা আইন নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। ডেইলি স্টার সেন্টারে ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা
হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভায় সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় আইনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি সম্পাদক পরিষদের সমর্থন জানানো
হয়। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি স্বারিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩-এর মতো বিতর্কিত
ধারাগুলোকে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থী, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সাথে বিরোধপূর্ণ বলে মনে
করে সম্পাদক পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের কথা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি সংশোধিত খসড়া
প্রণয়নের ব্যাপারে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রা না হওয়ায় সম্পাদক পরিষদ গভীর হতাশা প্রকাশ করছে। সম্পাদক
পরিষদ বিষয়টিকে আস্থা ও বিশ্বাসের লঙ্ঘন মনে করে। প্রতিশ্রুত আলোচনা শুরুর একটি সুযোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির
সম্মতির মাধ্যমে হারিয়ে গেছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে। সাংবিধানিক এখতিয়ার বলে রাষ্ট্রপতি বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য
পাঠালে ওই আলোচনা হতে পারত।
সম্পাদক পরিষদ অচিরেই শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে।
পরিষদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে বাকস্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি বিবেচনা করে সাংবাদিক ও নাগরিক সম্প্রদায় যে
উদ্বেগ জানিয়েছে, তা নিরসনের এটাই শেষ সুযোগ।
সম্পাদক পরিষদের সভায় পুলিশি হস্তপে ও খেয়াল-খুশিমতো গ্রেফতারের কবল থেকে বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও
গণমাধ্যমের সুরায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার দুপুরে
জাতীয় প্রেস কাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বিবৃতিতে পরিষদের প থেকে আবারো বলা হয়, আমরা আগেও বলেছি এবং আবারো বলছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংবিধানের
৩৯ (ক) ও (খ) ধারায় প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা; আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জড়িয়ে থাকা মূল্যবোধ ও
স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার; জাতিসঙ্ঘ সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিতে সুরতি গণতন্ত্র, মুক্ত সমাজব্যবস্থা ও মৌলিক
অধিকারের নীতি; এবং নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিদাতারা হলেনÑ ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, নিউজ টুডের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মানবজমিনের
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক
মাহফুজ আনাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর
মহিউদ্দিন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, করতোয়া সম্পাদক মো: মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন,
ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল
আলম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ
শফি, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম।


আরো সংবাদ

মেয়েদের দেহে স্পর্শ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, এরপর যা হলো ব্রেক্সিট নিয়ে ফের গণভোটের দাবিতে লন্ডনে লাখো মানুষের বিক্ষোভ কিভাবে ফাঁস হয় ফোনালাপ? আইন যা বলেছে কারাগারের আমদানী সেলে ব্যারিস্টার মইনুলের প্রথম রাত কেশবপুরে সরকারদলীয় নেতাদের অবৈধ পশুহাট মইনুল হোসেনকে ‘রাজনৈতিকভাবে’ নিয়েছে আওয়ামী লীগ, বিবিসির জিজ্ঞাসা নিখোঁজের ২৪ দিন পর কিশোরের লাশ উদ্ধার মইনুলের গ্রেফতার কিভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বুধবার সিলেটের জনসভা থেকে কী বার্তা দেবে ঐক্যফ্রন্ট কলড্রপের ক্ষতিপূরণ ও অনাকাঙ্খিত ম্যাসেজ নিয়ন্ত্রণে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা জরুরি ছিল : কাদের 

সকল