২২ অক্টোবর ২০১৮

যেভাবে ঘনিষ্ঠ হলো সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। - ছবি: নয়া দিগন্ত

সৌদি আরব-ইসরাইল দুটি দু মেরুর দেশ। সৌদিকে মুসলিম বিশ্বের তাবৎ মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখে। মহানবী (স.) এর পবিত্র জন্মভূমির কারণে সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের কাছে বেশ পূজনীয়। কাবা শরীফ ও রাসূল স. এর রওজা মোবারক সেখানে অবস্থিত। প্রতি বছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সেখানে হজ্ব পালনের জন্য যায়।

অন্যদিকে ইসরাইল সারা বিশ্বে একটি সন্ত্রাসী ও জায়নবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত। ফিলিস্তিনিসহ মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার মানুষের রক্ত লেগে আছে তাদের হাতে। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া নামে পরিচিত ইসরাইল।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছে। ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে আতাঁত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পেছনে একজন সাংবাদিকের ভূমিকা রয়েছে।

একজন সাংবাদিকের কাজ সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। আর সেই সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যদি পথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের প্রভাবশালী শাসকদের নেকনজরে পড়েন তাহলে তো সেটা সেই সাংবাদিকের জন্য পোয়াবারো অবস্থা।

লন্ডনভিত্তিক আরবি মিডিয়া এলাফের সাংবাদিক মাজদি হালাবি। ইসরাইল সেনাবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন আলোচিত এক সাংবাদিক। এসব প্রচারের পর সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আরব দেশ ইসরাইল সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আর এ আগ্রহের অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার রোধে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলের একসাথে কাজ করার ইচ্ছা। ৫৪ বছরের হালাবি নিজেও ভাবেননি তার সাংবাদিকতার পথ ধরেই ইসরাইল ও আরব বিশ্বের নেতারা নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনবেন। কিন্তু লন্ডনভিত্তিক আরব মিডিয়া হওয়ার কারণে হালাবির ওপর ইসরাইলের নেতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণে আরব দেশগুলোর সাংবাদিকদের মতো কোনো বিধিনিষেধ ছিল না।

এভাবে রিয়াদ ও তেলআবিবের মধ্যে এক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে দেন মাজদি হালাবি। গত এক বছর ধরে তিনি আরবি মিডিয়া এলাফে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। ইসরাইলের সেনাবাহিনী প্রধান, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দামন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতারও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হালাবি।

আবার সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে খুব সহজেই তাকে ঘিরে ইসরাইল-সৌদি সেতুবন্ধন তৈরি হয়। প্রথমত, ইসরাইলের নেতারা আরব দেশগুলোর ইরান বৈরিতার কথা ভালোভাবেই জানতেন। তাই তারা আগ্রহ দেখান ইরানের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর সাথে গোয়েন্দা ও সামরিকসহ যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার। তাদের এসব সাক্ষাৎকার পড়ে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রীতিমতো প্রলুব্ধ হন।

আরেক দিকে ইসরাইলি রিপোর্টার হিসেবে মাজদি হালাবির গ্রহণযোগ্যতা ছিল দেশটির নেতাদের কাছে খুবই উঁচুতে। ইসরাইলের হাইফায় গ্যালিলিয়ান দ্রুজ গ্রাম দালিয়াত আল-কারমালে মাজদি হালাবির জন্ম। আর এলাফের প্রকাশক ওসমান আল ওমেইর হালাবির এ ধরনের সাক্ষাৎকারের উদ্যোগে সব ধরনের পেশাগত সহযোগিতা করেন।

আবার ওসমান আল ওমেইরের সাথে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল আগে থেকেই। এলাফের প্রকাশক ওসমান আল ওমেইর সৌদি নাগরিক। এক সময় তিনি সৌদি মিডিয়া আস-শারক আল আওসাতের এডিটর ইন চিফ ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের বেশ ঘনিষ্ঠ। ২০০১ সালে ওথমান আল ওমেইর লন্ডনে প্রথম আরবি মিডিয়া এলাফ চালু করেন। একবার ইসরাইলের গোয়েন্দা ও যোগাযোগমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ তাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ইসরাইল ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান, যে অংশটি শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়। বরং ওই সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় দেশ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তথ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

হালাবি বলেন, সাক্ষাৎকারের ওই অংশটি বাদ দেয়া হয়নি বরং তা সাধারণ মনে করা হয়েছিল। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তা বাদ দেয়া হয়নি। হালাবিকে জিজ্ঞেস করা হয় পুরো সাক্ষাৎকার থেকে কেনই বা তিনি ইসরাইলি মন্ত্রী সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আমন্ত্রণ জানানোর লাইনটিই বাদ দিলেন, জবাবে হালাবি বলেন, এটা সম্পাদনার অংশ বিশেষ হিসেবেই বাদ দেয়া হয়। তবে সৌদি আরবে এলাফ ব্লক করে দেয়ার প্রসঙ্গে হালাবি বলেন, নিরপেক্ষতার জন্যই এটা করা হয়েছে। এলাফ জার্নাল নামে আরেকটি মিডিয়া ঠিকই এসব সাক্ষাৎকার প্রকাশ করলেও তা সৌদি আরবে ব্লক করা হয়নি।

হালাবির ভিআইপি সাক্ষাৎকার সৌদি আরবের প্রতি ইসরাইলের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। একটি উদাহরণ হচ্ছে, ইসরাইলের সেনাবাহিনীপ্রধান গাদি ইজেনকোট এমন একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তার দেশ সৌদি আরবের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত সাহায্য দিতে প্রস্তুত। এরপরই ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে বিপ্লবী অভিহিত করে বলেন, সৌদি নেতাদের উচিত জেরুসালেমের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা।

হালাবি ইসরাইল পাবলিক ব্রডকাস্টারে ৯ বছর ধরে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। ফিলিস্তিন ও আরব সম্পর্ক নিয়েই তিনি প্রতিবেদন তৈরি করতেন। লেবাননের এমটিভি চ্যানেলেও হালাবি পাঁচ বছর কাজ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীতেও এক সময় কাজ করতেন হালাবি। ইসরাইলি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আরব মিডিয়ায় কাজ করে তিনি দেশটির আইন ভেঙেছেন। অনেক হুমকির মুখেও এমটিভি তার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কখনো তার প্রতিবেদন সম্পাদনা করা হতো না।
সাধারণত আরব মিডিয়াগুলো পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলের খবর সংগ্রহের জন্য সাংবাদিক নিয়োগ দেন। ইসরাইলের খবর যাতে তারা বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিকভাবে তারা প্রকাশ করতে পারে।

হালাবি জানান, তার লক্ষ্য ছিল আরব বিশ্বের কাছে ইসরাইলের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরা। রাজনৈতিক বিবাদের মতো খবরের চেয়ে বৈচিত্র্যময় কাজ করতেই তিনি পছন্দ করেন। শেষ বিচারে সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি ইসরাইলের স্বার্থ সংরক্ষণ করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল কোনো নিঃশব্দ শিলাপাথর নয়। এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী, কাল অন্য কেউ হতে পারেন। ইসরাইল কোনো একটি ব্যক্তি নয়, এটি একটি দেশ। আরব বিশ্বকে আমরা দেখাতে চাই ইসরাইল কী!

 

আরো পড়ুন: সৌদি কনস্যুলেটে নিখোঁজ সাংবাদিক : কীভাবে উত্থান হয়েছিল তার?

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৯ অক্টোবর ২০১৮


জামাল খাসোগির ছবি হাতে ইয়েমেনের শান্তি পুরস্কারজয়ী তাওয়াক্কল কারমান - সংগৃহীত
বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সনদ নেয়ার জন ২ অক্টোবর নিজ দেশ, সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে প্রবেশে করেছিলেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তুরস্কের পুলিশ বলছে, তিনি এরপর আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেননি।

ইস্তানবুলের পুলিশ মনে করছে, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সৌদি সরকারের দাবি, তিনি বেরিয়ে গেছেন।


সৌদি আরবের রাজ পরিবারের একসময়কার উপদেষ্টা হঠাৎ করেই তাদের অনুগ্রহ হারিয়ে গত বছর থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।

কিন্তু কে এই জামাল খাসোগি? কীভাবে তার উত্থান হয়েছিল? তার নিখোঁজের পেছনে কি ভূমিকা রেখেছে?

জন্ম ও পেশা

মদিনায় ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণকারী জামাল খাসোগি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন।

এরপর সৌদি আরবে ফিরে আশির দশকে তিনি সাংবাদিক হিসাবে পেশাজীবন শুরু করেন। আঞ্চলিক একটি সংবাদপত্রের হয়ে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান কাভার করেন।

তখন তিনি ওসামা বিন লাদেনের উত্থানের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে পান। আশি এবং নব্বইয়ের দশকে বর্তমানে আল-কায়েদার এই নিহত নেতার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

এরপর তার পেশাজীবনে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যোগ হয়। যার মধ্যে কুয়েতের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে তিনি স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে ফিরে আসেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ইংলিশ ভাষার আরব সংবাদপত্র আরব নিউজে উপ-সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

২০০৩ সালে আল ওয়াতান সংবাদপত্রের সম্পাদক নিযুক্ত হন, কিন্তু সৌদি আরবের আলেমদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই মাসের মধ্যে বহিষ্কৃত হন।

এরপর তিনি লন্ডনে এবং ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স তুর্কি বিন-ফয়সালের মিডিয়া উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, যে প্রিন্স একসময় সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।

২০০৭ সালে আল ওয়াতানে তিনি আবার ফিরে আসেন, কিন্তু তিন বছর পর নতুন করে আরেক বিতর্কের মুখে তাকে চলে যেতে হয়।

২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় তিনি ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর প্রতি সমর্থন জানান, যারা বেশ কয়েকটি আরব দেশে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে।

২০১২ তিনি সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আরব নিউজ চ্যানেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেটি কাতারের চ্যানেল আল-জাজিরার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল।

কিন্তু বাহরাইনের একজন নামী বিরোধী নেতাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোয় প্রচারের ২৪ ঘণ্টা পরেই বাহরাইন ভিত্তিক এই চ্যানেলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সৌদি আরব সম্পর্কিত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ হিসাবে বিবেচিত খাসোগি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও নিয়মিত প্রদায়ক হিসাবে কাজ করতেন।

'আমাদের, সৌদিদের আরো ভালো কিছু প্রাপ্য'

২০১৭ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরব ত্যাগ করেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি।

ওয়াশিংটন পোস্টে তার প্রথম লেখায় তিনি লেখেন, তিনি এবং আরো কয়েকজন স্বেচ্ছা নির্বাসনে এসেছেন। কারণ তাদের ভয়, তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কার বিষয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতা করায় অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আল-হায়াত সংবাদপত্রে তার কলাম বাতিলের জন্য চাপ দিয়েছে সৌদি সরকার এবং তখনকার মার্কিন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি আরবের অতিরিক্ত প্রীতি নিয়ে টুইট না করার জন্যও সতর্ক করে দেয়া হয়।

''আমি বাড়ি ছেড়েছি, আবার পরিবার আর চাকরি হারিয়েছি এবং আমার কণ্ঠ তুলে ধরেছি। এটা না করলে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের সাথে প্রতারণা করা হবে। যখন অনেকেই কোনো কথা বলতে পারছে না, তখন আমি বলছি। আমি সবাইকে জানাতে চাই, সৌদি আরব কখনোই এমন ছিল না, যা এখন হচ্ছে। সৌদিদের আরো ভালো কিছু প্রাপ্য।''

মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে খাসোগিকে আর দেখা যায়নি। স্ত্রীকে ডিভোর্সের সনদ আনার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

তার বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিস বলছেন, তিনি কনস্যুলেটের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু তাকে দেখতে পাননি।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের বিশ্বাস, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা ভেতরে প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই।


আরো সংবাদ