১২ ডিসেম্বর ২০১৮

যে স্বপ্ন পূরণ হলো না আইয়ুব বাচ্চুর

আইয়ুব বাচ্চু। - ছবি: সংগৃহীত

মায়ের কবরের পাশে চিরনদ্রায় শায়িত হলেন ব্যান্ড কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। চট্টগ্রাম নগরীর চৈতন্য গলি কবরস্থানে যেখানে শিল্পীর মাকে কবর দেওয়ার হয়েছিল তার পাশেই শনিবার সন্ধ্যায় দাফন করা হলো শিল্পীকে।

ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও আইয়ুব বাচ্চুর জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ভীর লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার বিকেলে জানাজায় অংশ নিতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে।

আসরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বেলা তিনটা থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণে রাখা আইয়ুব বাচ্চুর লাশ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার ভক্ত আর শুভানুধ্যায়ীরা। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় কফিনটি। ভক্ত, সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

একপর্যায়ে মসজিদের মাঠ ছাপিয়ে পাশের সড়কে চলে যায় ভিড়। যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় ওয়াসা-আলমাস মোড় সড়কে। জানাজায় অংশ নিতে এসে অনেকে আইয়ুব বাচ্চুর বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের স্মৃতিচারণা করেন। অনেকের চোখের কোনা ভিজে ওঠে। সরওয়ার হোসেন নামের এক যুবক বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চুর গান তারুণ্যের প্রতীক। প্রেমের প্রতীক। এ দেশের তরুণ-তরুণীরা তার গান শুনে প্রেম করেছে। বিরহের সময়ও আইয়ুব বাচ্চুর গানকে সঙ্গী করেছে। তিনি মরে গেলেও তার গান বেঁচে থাকবে।’

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর সংবাদ রেডিও, টেলিভিশন, পত্রপত্রিকায় প্রকাশ ও সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে তা ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার খরনায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে আত্মীয়স্বজন গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গতকাল চট্টগ্রামে সর্বশেষ নামাজে জানাজায় আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন। আইয়ুব বাচ্চুর বাবা মো: ইসহাক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার দাদা আলহাজ নুরুজ্জামান সওদাগরও চট্টগ্রামের স্বনামধন্য একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই সুবাদে নগরীতেই তাদের বসবাস ছিল।

গ্রামের বাড়ি পটিয়ার খরনায় সর্বশেষ এসে গ্রামের অসহায় দরিদ্রদের জন্য একটি সর্বজনীন হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

তিনি খরনা এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য ১১টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং জায়গা দান করেন। আইয়ুব বাচ্চুও তার দাদার দেখানো পথে খরনার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন দেখতেন বলে গ্রামের বাড়িতে থাকা দাদি মনোয়ারা বেগম ও চাচা আবদুল আজিজ জানান।

চাচা আবদুল আজিজ জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বশেষ এনায়েত বাজারের বাসায় তার সাথে আইয়ুব বাচ্চুর কথা হয়। সেই সময়ে তিনি গ্রামের মানুষের খবরাখবর নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন সুযোগমতো তিনি খরনায় একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে দেবেন। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুর কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।

 

আরো দেখুন : শ্রদ্ধা জানাতে এসে কাঁদলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে, চাইলেন দোয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০৬


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু যখন মারা যান, তখন স্ত্রী এবং দুই সন্তান ছিলেন দেশের বাইরে। শুক্রবার রাতে দেশে হাসপাতালের মর্গে বাবার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন একমাত্র ছেলে আহনাফ তাজোয়ার। শনিবার দুপুরে ব্যান্ড লিজেন্টের লাশ নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে বাবার জন্য সবার জন্য দোয়া চেয়ে তাজোয়ার বলেন, ‘সবার কাছে আমার একটাই চাওয়া, আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। তার যেন বেহেশত নসিব হয়। আর তাকে নিয়ে কারও মনে কোনো ক্ষোভ থাকলে মাফ করে দেবেন।’ 

এর আগে  শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব মাদারবাড়িতে আইয়ুব বাচ্চুর নানার বাড়িতে তাজোয়ার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সেখানে আইয়ুব বাচ্চুর সাথে সবার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার বাবা হয়তো আপনাদের জন্য সর্বোচ্চটা দিতে পারেননি। কিন্তু তিনি আপনাদের অফুরন্ত ভালোবাসা দিয়েছেন। তিনি অনেক করেছেন। আপনাদের কাছে শেষ কথা, আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’


তাজোয়ার কথা বলার আগে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরাকে সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছু বলার মতো অবস্থা আমার নেই। প্লিজ, আমাদের একটু সহযোগিতা করুন। আমরা অবশ্যই কথা বলব।’

ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর লাশ শনিবার সকালে আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ নিয়ে যাওয়া ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন। আইয়ুব বাচ্চুর লাশের সাথে ঢাকা থেকে গেছেন তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর স্বজনেরা।

শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজোয়ার কানাডা থেকে আর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা রাত দেড়টায় অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। যোখানে শব হিমঘরে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ রাখা হয়। এ সময় তাদের সাথে আরও ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। বাবার লাশ দেখে ছেলেমেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এলআরবির ব্যবস্থাপক শামীম জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব মাদারবাড়িতে। সেখানে নানার বাড়িতে বড় হয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। শনিবার বাদ আসর এখানে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদের মাঠে এই শিল্পীর লাশ রাখা হয়েছে। দুপুর থেকে এখানে তার প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। সন্ধ্যায় তাকে চৈতন্য গলি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করার কথা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে না-ফেরার দেশে চলে যান আইয়ুব বাচ্চু। শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ নেওয়া হয় তার গানের স্টুডিও মগবাজারে ‘এবি কিচেনে’। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর লাশ নেওয়া হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় জানাজা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ রাখা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।


আরো সংবাদ