১৫ নভেম্বর ২০১৮

যে কারণে ইসলাম গ্রহণ করলেন বিখ্যাত আইরিশ গায়িকা

আইরিশ গায়িকা সিনিড ও'কনর এখন শুহাদা। - সংগৃহীত

সুপরিচিত আইরিশ গায়িকা সিনিড ও'কনর ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নাম পরিবর্তন করে তিনি নিজের নাম রেখেছেন শুহাদা।

উনিশশো নব্বই সালে রিলিজ করা 'নাথিং কমপেয়ার্স টু ইউ' গানটির জন্যে তিনি সবচেয়ে সুপরিচিত। ওই বছরের সবচেয়ে হিট গানের তালিকায় ছিল এই গানটি।

টুইটারে দেয়া বার্তায় তিনি তাকে সাহায্য করার জন্য অন্য মুসলমানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত "যেকোনো বুদ্ধিমান ধর্মতত্ববিদের সফরের স্বাভাবিক পরিণতি"।

তিনি নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে যে তিনি আজান দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার শেখ ড. উমর আল-কাদরী নামের একজন আইরিশ ইমাম একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায় যে গায়িকা সিনিড ও'কনর ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কলেমা পাঠ করছেন। টুইটার বার্তায় আইরিশ গায়িকা আরও বলেন, সব ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন শেষ পর্যন্ত ইসলামের দিকেই ধাবিত হয়।

তিনি বলেন যে তিনি একজন মুসলমান হতে পেরে গর্বিত।

তবে ধর্ম নিয়ে ও'কনর এই প্রথমবারের মত কথা বলেছেন, তা নয়। ১৯৯২ সালে তিনি একটি মার্কিন টেলিভিশনের এক লাইভ অনুষ্ঠানে পোপের ছবি ছিঁড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

সাত বছর পর মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি চার্চ তাকে যাজক হিসেবে ঘোষণা করে। তবে যেহেতু ক্যাথলিক চার্চ নারীদের যাজক হওয়া অনুমোদন করে না, তাই তার ওই অনুষ্ঠানটিও তারা অনুমোদন করেনি।

গত বছর অবশ্য সিনিড ও'কনর আইনগতভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেন এবং নতুন নাম রাখেন মাগদা ড্যাভিট।

 

 

আরো দেখুন : ওমানে ৩ হাজার প্রবাসীর ইসলাম গ্রহণ
টাইমস অব ওমান; ১৯ জুন ২০১৮, ১০:৩১

চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ওমানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ হাজার প্রবাসী নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ওমানের ওয়াফক ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় একজন মুখপাত্র ‘টাইমস অব ওমান’কে বলেন, ‘জানুয়ারির শুরু থেকে ৩০ মে পর্যন্ত, প্রায় ৩ হাজার মানুষ ইসলাম ধর্মান্তরিত হয়েছেন। নতুন ধর্মান্তরিদের বেশিরভাগই ইউরোপীয় এবং তারপরেই রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের নাগরিকরা।’


গত ২৫ মে শুক্রবার ওমানের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ২৬ জন নারী ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। অনুষ্ঠানে অমুসলমানদের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানা ও শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই ধর্মের কিছু বিষয়ে তাদের সন্দেহ থাকলে তা স্পষ্ট করা হয়।

‘দ্য কোরআন স্পিকস টু ইউ’ বা ‘কোরআন আপনাকে বলে’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হওয়া দু’জন ব্যক্তি তাদের ইসলামের যাত্রা, ইসলামের ধর্মান্তরের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং যারা ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা চিন্তা করছেন, তাদেরকে পরামর্শ দেন।

এই ইভেন্টে ৮০০০ জনেরও বেশি নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অ-মুসলিমরা যাতে ইসলাম সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পারেন, সেজন্য এই ইভেন্টে সরাসরি প্রার্থনা এবং ইফতারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

গত বছরের পবিত্র রমজান মাসেও বিভিন্ন দেশের ৭২ জন প্রবাসী নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আগত অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে তাদের পূর্ববর্তী ধারণার কথা আমাদের বলেন। তাদের বেশিরভাগই মনে করতেন যে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন, কিন্তু ইসলামে একে অপরকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি দেখে তারা অবাক হন।’

একজন ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তিনি যাতে আরো ভালো মুসলমান হতে পারেন এবং ধর্মকে ভালভাবে বুঝতে পারেন, সেজন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় পুস্তক প্রদান করে থাকে। পুরুষদের ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে খৎনা করাতে হয়।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছে। ধর্মান্তরিতদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদেরকে একটি প্রমাণপত্র প্রদান করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ইসলাম বিদ্বেষ কমছে

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন এবং মুসলিম বিদ্বেষের নজরদারি করে গত ১০ বছর ধরে প্রতিবছর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ওআইসির সর্বশেষ বছরের বাৎসরিক রিপোর্টে (২০১৭-১৮ সালের জুলাই-এপ্রিল) বলছে, আগের বছরের তুলনায় বিশ্বজুড়েই ইসলাম বিদ্বেষ কিছুটা কমেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও আতঙ্কিত হওয়ার মতো।

মিয়ানমারে মুসলিমদের ওপর সেদেশের সরকারের বিদ্বেষের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারতে মুসলিমদের ওপর নানা সহিংস ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

ওআইসি বলছে- অনেকে দেশে মুসলিমরা সুবিচার চাওয়ার সুযোগই পাচ্ছেনা, ফলে সেসব জায়গা থেকে তথ্য জোগাড় কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে একই সাথে ওআইসি বলছে, গতবছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ইউরোপ আমেরিকায় কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ চোখে পড়েছে।


আরো সংবাদ