১৫ নভেম্বর ২০১৮

বোনকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

বোনকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা - সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামপুরে বোনকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম শেখ ইসলাম পাভেল শিকদার (২২)। রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাভেলের মৃত্যু হয়। এর আগে গত শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা পাভেলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

হাসপাতালে নিহত পাভেলের চাচা সবুজ শিকদার জানান, জুরাইন মাজারগেট এলাকায় পাভেলের বোনকে উক্ত্যক্ত করতো স্থানীয় তুহিন, শাহিনসহ কয়েকজন বখাটে। এই ঘটনায় পাভেল প্রতিবাদ করতে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তুহিন-শাহিন পাভেলের পেটে ছুরিকাঘাত করে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পাভেল পটুয়াখালরী বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। পশ্চিম জুরাইন মাজার গেট এলাকায় থাকতেন তিনি।

শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিহত পাভেলের বোনকে বিরক্ত করতো তুহিন ও শাহিন। পাভেল ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই দু’জন মিলে শ্যামপুর জুরাইন মাজার গেটের কাছে পাভেলকে ছুরিকাঘাত করে। তুহিন ও শাহিন একই এলাকায় থাকে। পুলিশ তাদেরকে আটকের চেষ্টা করছে।

আরো পড়ুন : ভাড়াটিয়ার পরকীয়ার বলি ব্যবসায়ী
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:১০

রাজধানীর শ্যামপুরে ছুরিকাহত দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাত ১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ওই দিন বিকেলে আইজি গেট ব্যাংক কলোনি বাজারে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারসহ থাকতেন আইজি গেট মা কলোনিতে। আইজি গেটে তার একটি হার্ডবোর্ডের দোকান রয়েছে। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাগড়া গ্রামে।

শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আইজি গেট এলাকার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত লাকী নামে এক মহিলা। তার স্বামী বিদেশ থাকে। লাকীর বাবু নামে এক লোকের সাথে পরকীয়া প্রেম ছিল। মাঝে মধ্যেই বাবু লাকীর বাসায় আসত। গত শনিবার বাবু লাকীর বাসায় এলে স্থানীয় বখাটে মোতালেব, সোহেল, কামরুল, মানিক, কালু ও ইজা তা দেখে ফেলে। পরে তারা বাবু ও লাকীকে জিম্মি করে এ ঘটনা সবাইকে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। 

এর পরের দিন রোববার লাকী বিষয়টি নিহত রাজ্জাককে জানায়। রাজ্জাক ওই বখাটেদের ডেকে লাকীকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। এরই মধ্যে ওই বখাটেরা রাজ্জাককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। রাজ্জাককে কুপিয়ে পালানোর সময় তারা রফিকুর রহমান রানা নামে অন্য এক ব্যবসায়ীকেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে। পরে রাজ্জাক ও রানাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করলে রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজ্জাকের মৃত্যু হয়।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে কালু নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা
পঞ্চগড় সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ে শেফালি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। ওই গৃহবধূর পরিবারের দাবি তাকে মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তার শ^শুর, শাশুড়ি ও ননদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে স্বামী লিটন ইসলামকে পুলিশ আটক করতে পারেনি। 

স্থানীয়রা জানান, সাড়ে তিন বছর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতল এলাকার সাইবুল ইসলামের মেয়ে শেফালি আক্তারের সাথে একই উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে লিটন ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সামান্য বিষয় নিয়ে শেফালিকে মারধর করত লিটন। ১০ দিন বাবার বাড়ি থাকার পর সন্তান নিয়ে শেফালি স্বামীর বাড়িতে ফিরলে পারিবারিক কলহের জেরে আবারো মারধর করে লিটন। একপর্যায়ে সে মাটিতে পড়ে গেলে তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দেয়া হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শেফালি। এরই মধ্যে পুলিশ ওই গৃহবধূূর শ^শুর খাদেমুল ইসলাম, শাশুড়ি সালমা ওরফে ডালিমন ও ননদ খায়রুন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর পর থেকেই তার স্বামী লিটন গা ঢাকা দিয়েছে। 

পঞ্চগড় সদর থানার এসআই আব্দুল জলিল জানান, প্রাথমিকভাবে ওই গৃহবধূর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল হক জানান, এরই মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 


আরো সংবাদ