১৫ নভেম্বর ২০১৮

আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে

আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে - সংগৃহীত

জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আস্থার পরিবেশ তৈরীতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা ছাড়া প্রত্যাবাসন টেকসই হওয়া সম্ভব না। আর এই আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতার দায়বদ্ধতা নিরূপন করতে হবে।

রোববার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার কাউন্সিলের রিপোর্টের ওপর আয়োজিত সাধারণ আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

২০১৯-২০২১ মেয়াদে বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর পর দুইবার মানবাধিকার কাউন্সিলে সদস্য নির্বাচিত হওয়া জনগণের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। কাউন্সিলের এই নির্বাচনে এশিয়া-প্রশান্ত গ্রুপ থেকে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্রদের ধন্যবাদ জানান স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপসমূহের বাস্তবায়ন এবং এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্যগুলো সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউর (ইউপিআর) বিষয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, আমরা গত মে মাসে এই রিভিউ শেষ করেছি। রিভিউতে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বাংলদেশের প্রচেষ্টার উচ্ছসিত প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, নির্বাচিত সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে আগামী দিনগুলোতে মানবাধিকার কাউন্সিলের সব গঠনমূলক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে।

আরো পড়ুন : সংলাপকে যেভাবে দেখছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন
ডয়েচে ভেলে ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২৩

বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)৷ বাংলাদেশে ইইউ-র হেড অফ ডেলিগেশন রেন্সজে তেরিংক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা নির্বাচনের জন্য একটি ভালো অগ্রগতি৷''

নির্বাচনে ইইউ-র পর্যবেক্ষক দল না পঠানোর বিষয়টিও আবারো নিশ্চিত করেন তিনি৷ বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পর্কে ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইইউ দূত বলেন, ‘‘আমার পক্ষে একজন দর্শক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন৷ প্রত্যেক পক্ষেরই তাদের নিজস্ব বক্তব্য আছে৷ কিন্তু আমার কাছে যেটা ইতিবাচক মনে হয়েছে যে বিরোধী দলগুলো সরকারের সঙ্গে ১ নভেম্বর সংলাপে বসছে৷ এটা অনেকে ভালো একটি অগ্রগতি৷ এই সংলাপকে আমরা স্বাগত জানাই৷''


তিনি যোগ করেন, ‘‘আমি এক বছর হলো বাংলাদেশে এসেছি৷ তখন থেকেই নির্বাচনের কথা শুনছি৷ শুনেছি বিক্ষোভ হবে৷ রাস্তায় প্রতিবাদ হবে৷ সেই নির্বাচনের সময় এসে গেছে৷ আমরা নির্বাচনকে স্বাগত জানাই৷ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে স্বাগত জানাই৷ বিরোধীরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ আমরা আশা করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন হবে৷ এবং আমরা গভীর আগ্রহের সাথে এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছি৷

কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল না পঠানোর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘একটি কার্যকর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানো বড় একটি কাজ৷ এতে অনেক সদস্য থাকেন এবং এর প্রস্তুতি নিতে মাসের পর মাস সময় লাগে৷ এটা অনেক ব্যববহুল, সময়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু এটা এবার বাংলাদেশের জন্য আমাদের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু এর মানে নয় যে আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি না৷ আমাদের দু'জন প্রতিনিধি থাকবেন, তাঁরা দেখবেন৷ আপনাদের স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন৷ তাঁরা হয়ত অনেক ভালো কাজ করবেন৷ তাঁরা দেখবেন আসলে নির্বাচনের সময় আসলে কী ঘটে৷''

বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে শুধু আমরা কেন, সারাবিশ্ব নজর রাখছে৷কারণ এই নির্বাচনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ১০ কোটি ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷''

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়৷ এই উদ্বেগের কারণ জানতে চাইলে রেন্সজে তেরিংক বলেন, ‘‘ডিজিটাল নিরপত্তা আইন নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে আমরা তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছি৷ সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, প্রাতিষ্ঠানিক লোকজন – তাদের উদ্বেগ প্রত্যক্ষ করেছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীর কাছে আইনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছি৷ আমাদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে৷ আমাদের জাননো হয়েছে, আইনটি এখনো সংশোধনের সুযোগ আছে৷ সেটা আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে৷ আমরাও মনে করি, আইনটি এখনো পরিবর্তনের সুযোগ আছে৷ আমার মনে হয়, এই আইনটি নিয়ে কী করা হচ্ছে বাংলাদেশের সবাই তা লক্ষ্য রাখছেন৷ আমরাও খেয়াল রাখছি৷ বাকস্বাধীনতা, মুক্ত গণমধ্যম এখন বিশ্ব মূল্যবোধের অংশ, যা এখানেও নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷''

রেন্সজে তেরিংক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুসম্পর্ক অনেক দিনের৷ আমরা দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী৷ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্কও অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপ৷ আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কও অনেক ভালো৷ আমরা একসঙ্গে মানবাধিকার, সুশাসন, উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ কাজ করি৷ আমাদের আরো অনেক কিছু করার আছে৷ আমরা এরই মধ্যে একসঙ্গে অনেক সময় পার করেছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চমৎকার৷ আরো অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে৷ আমরা আশা করি, বাংলাদেশ তার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে৷''


আরো সংবাদ