১৫ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

-

দেশের একটি দৈনিকে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে দলকানা কিছু গণমাধ্যম। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে অবৈধ সরকারকে ফায়দা হাসিলের সুযোগ করে দিতেই শিবিরের নামে গায়েবী অভিযোগ রটনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এই গণমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাশকতার পরিকল্পনা করছে ছাত্রশিবির। প্রতিবেদনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়ারী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া শিবির নেতা শফিউল আলমসহ ৫ জনকে বিষ্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ও চট্টগ্রামে শিবির অফিসে সম্প্রতি পুলিশের সাজানো নাটককে উল্লেখ করা হয়েছে। যা অপসাংবাদিকতার ঘৃন্য নজির। কেননা তাদের গ্রেপ্তারের পর গুম হওয়ার নিউজটি বিস্তারিতভাবে প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল। এমনকি তাদের গ্রেপ্তারের পর ১৬ দিন গুম রেখে ৫জনকে আদালতে হাজির করার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রায় প্রতিটি জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আর বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার মেহেদি হাসানের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম শিবির অফিসকে জড়িয়ে বোমা বিষ্ফোরণ নাটক সাজানো হয়েছে। সেদিন নগরী উত্তর শিবির কার্যালয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য শিবির অফিসের আশপাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পরে কার্যালয়ে ভাংচুর ও তান্ডব চালিয়ে নিজেরাই ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে, বোমা ফাটিয়ে, বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা বানোয়াট নাটক সাজিয়েছে। নিজেরা গুলি ছুড়ে বোমা ফাটিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ডেকে এনে নাটক মঞ্চস্থ করেছে। গ্রেপ্তারের পর ১৬ দিন ধরে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তারা বিষ্ফোরকের সাথে জড়িত থাকতে পারে বা দীর্ঘ দিন বন্ধ অফিসে বোমা নাটক ভারসাম্যহীন ছাড়া কারো পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে নাশকতার ছক, হামলার পরিকল্পনার তথ্য গুলোও অবাস্তব ও প্রতিবেদকের বিকৃত মস্তিকের দায়িত্বহীন আবিস্কার। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে গায়েবী তথ্যের উপর ভিত্তি করে সুকৌশলে প্রতিবেদক শিবিরকে জড়িয়ে রাজনৈতিক বিদ্ধেষমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পুরো প্রতিবেদনটিই উদ্ভট, অবাস্তব, কাল্পনিক ও বায়বীয় উপাদানে তৈরী করা হয়েছে। নিরপরাধ শিবির নেতাকর্মীরা অবৈধ সরকার ও পুলিশের গুম, খুন, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়ে চলেছে। আর দু:খজনক ভাবে সরকারের সকল অপকর্মে সহযোগির ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে কিছু একপেশে দায়িত্বহীন গণমাধ্যম।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এর আগেও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে বহুবার এমন দায়িত্বহীন উদ্ভট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যার বাস্তবতা জাতি কখনো দেখেনি বরং বানোয়াট প্রতিবেদনের কারণে তারা জাতির কাছে হলুদ সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কিছু গণমাধ্যমের এই প্রশ্নবিদ্ধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকে আরো প্রকট করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ছাত্রশিবির সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কোন প্রকার নাশকতার সাথে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা ও জাতির বিবেক সমতুল্য। কিন্তু এই বিবেকেই যদি পচন ধরে তাহলে জাতি গন্তব্য অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠির ক্রীড়ণক হয়ে মিথ্যাচার করা পবিত্র দায়িত্বের প্রতি চরম প্রতারণা। এমন দায়িত্বহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখলে জনগণের অনাস্থা ছাড়া তারা আর কিছুই অর্জন করতে পারবে না পত্রিকাটি। যা কোন ভাবেই কাঙ্খিত নয়। আমরা আশা করি, পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এই মিথ্যা প্রতিবেদনের জন্য দু:খ প্রকাশ করবেন এবং প্রতিবাদটি ছাপিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।

নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকতার মত পবিত্র পেশার দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে মিথ্যাচার না করতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ