১৫ নভেম্বর ২০১৮

ওয়ান ইলেভেনে নেয়া টাকা ফেরত পাচ্ছেন না ব্যাবসায়ীরা

ওয়ান ইলেভেনে নেয়া টাকা ফেরত পাচ্ছেন না ব্যাবসায়ীরা - ছবি : সংগৃহীত

সেনা-সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরতের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়ার আদেশ স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দমাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকেরপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী।

এর আগে গত বছরের ১৬ মার্চ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেয়া টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। পরে এই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১২ শ' কোটি টাকা আদায় করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। পরে এসব অর্থ ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এস আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ কোটি টাকা, দিকন সোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডকে ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ, মেঘনা সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজকে ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডকে ১৫ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডকে ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজকে ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টকে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ৩৫ কোটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের এক পরিচালককে ১৮৯ কোটি ও ইউনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারীকে ৬৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। যার পরিমাণ ৬ শ' ১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষা করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় পাইপের মাধ্যমে সরবরাহকৃত ওয়াসার পানি পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কমিটিকে আগামী ২ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্ধে দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইসিডিডিআরবি, ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং এন্ড কনসালটেশন (বিআরপডিসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ, এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সাইন্স বিভাগের একজন করে প্রতিনিতি রাখতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে নিরাপদ পানি সরবরাহে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোসণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারী করেছে আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, ওয়াসার এমডিসহ আটজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার জনস্বর্থে এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে রিটকারি আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান,

ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহকৃত ওয়াসার পানি অনিরাপদ পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সব প্রতিবেদন যুক্ত আমি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।


আরো সংবাদ