১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আমার বন্ধুর বাড়ি

গাইড মুরাদের সাথে তৌকীর আহমেদ -

তিউনিশিয়া যাবার পথে দীর্ঘ ট্রানজিট ইস্তান্বুলে ১২ ঘন্টা, বন্ধু নিয়াজ আমার ট্রাভেল এর দায়িত্বে নিয়োজিত, তিউনিশ এয়ার এর সংযোগ করতেই এই দীর্ঘ বিরতি, তুরস্কের একটি ভিসাও নিয়াজ করে দিয়েছেন যদি ইস্তাম্বুল ঘুরতে চাই সেজন্যে। টার্কিশ এয়ারে ইস্তাম্বুল পৌছালাম সকাল ১০টায়।

একটা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে শহর ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করতে বেগ পেতে হলো না, বেশ নির্ভর যোগ্যই মনে হলো মাঝ বয়সী লোকটাকে। কড়ি ফেললে বাঘের দুধও যোগাড় করতে পারবে দুই কেজি। বেরিয়ে দেখি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অপেক্ষা করছে একটা মারসিডিজ ভ্যান আর ইংরেজি ভাষী গাইড মুরাদ। সুদর্শন যুবক, বাংলাদেশ থাকলে প্যাকেজ নাটকের নায়ক হয়ে যেতো নিঃসন্দেহে। সিগারেট খাওয়া হয়নি ১২ ঘন্টা, মুরাদকে বললাম দোকান কোথায়, লাইটার কিনতে হবে। মুরাদ পকেট থেকে একটা নীল রঙের লাইটার বাড়িয়ে দিয়ে বললো, কিনতে হবে না, এটা রাখো আমার আরও একটা আছে।  বাহ্,বেশ। 

গাড়ি চলছে, মুরাদকে বললাম তার হটস্পট টা অন করতে, ফোন করবো এক তু্র্কি বন্ধু গুলতেকিনকে (পুরুষ মানুষের নাম গুলতেকিন হয় আমিও আগে জানতাম না) এক বারের চেস্টায়ই পেলাম তাকে, রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বললো, চলে আসো, তোমার গাইডকে ফোন টা দাও ঠিকানাটা বুঝিয়ে দেই। আমি বলি এখন পুরনো ইস্তাম্বুল আছি ব্লু মস্কটা দেখেই আসছি।

তুরস্কের রাস্তায় গাড়ি ভ্রমণ

গুলতেকিন এর সঙ্গে পরিচয় কাজানে, সে ফিল্ম ডিরেক্টর এবং সিনেমাটোগ্রাফার। রাতের পর রাত আড্ডা হয়েছে রাশিয়ায়। আগে ছিলো ওয়ার ফটোগ্রাফার ,বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে ছুটে বেড়িয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে, এখন একটু থিতু হয়ে ছবি বানাচ্ছে। ঠিকানা মতো পৌঁছালাম দুপুর পেরিয়ে, এটা সেন্ট্রাল ডিসট্রিক্ট, সব ফিল্মের অফিস। গুলতেকিন এর অফিস টা চমৎকার, ফিল্মের অফিস যেমনটা হয়, প্রশস্ত এলোমেলো কিন্ত সুন্দর। খাবার দাবার এর আয়োজন হয়েছে বিশাল, এক চিলতে টেরাস সেখানেই আয়োজন।

গুলতেকিন এর সাথে আড্ডায় তৌকীর 

 

ওর নতুন ছবির ক্লিপিং দেখতে দেখতে সূর্য হেলে গেলো, নানান গল্পে সময় কেটে গেছে দ্রুত। অন্ধকার নামছে, এবার ফিরতে হবে, গুলতেকিন এর ইংরেজি দূর্বল next time dont give surprise, Come with time. You can stay in my place and eat. This is for you, -দশ টা সাম্প্রতিক তু্র্কি ছবির কালেকশন। মন খারাপ লাগছে । মুরাদ তাড়া দেয় রাস্তায় এখন ট্রাফিক হবে।

অন্ধকার নেমেছে ইস্তান্বুলের রাস্তায়, মুরাদ বলে তোমার ফোন নাম্বার টা দিয়ে যেও,ও বুঝতে পেরছে বোধহয় যে এই শহরে আমি আবার আসবো..

-১৫ নভেম্বর লেখাটি তৌকীর আহমেদের ফেসবুক থেকে নেওয়া


আরো সংবাদ