১১ ডিসেম্বর ২০১৮

টার্গেট পাকিস্তান-চীন : সাগর-আকাশ আর স্থলে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত

টার্গেট পাকিস্তান-চীন : সাগর-আকাশ আর স্থলে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত - ছবি : সংগ্রহ

ফ্রান্স থেকে আসবে অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান। রাশিয়া থেকে এস ৪০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম। যা চীন ছাড়া আর কারো কাছেই নেই। এবার সেই এস ৪০০ মিসাইলের সঙ্গেই অস্ত্রভাণ্ডারে শামিল করা হচ্ছে ভারত ও রাশিয়ার সবচেয়ে সফল ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মসকে।

ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই নতুন ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র একইসঙ্গে যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, স্থলভূমি এবং আকাশপথ থেকে নিক্ষেপ করা যায়। কিন্তু শনিবার যে ব্রহ্মস সামরিক ভাণ্ডারে যুক্ত করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা প্রধানত ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য। ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট থেকেই নিক্ষেপ করার মতো এই নতুন ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লাও বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে আরো বেশি করে ভারতের নিশানায় এসে যাচ্ছে চীন ও পাকিস্তান। এখানেই শেষ নয়। ভারত আগ্রাসীভাবে হঠাৎ অস্ত্র আমদানি ও নির্মাণ বাড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ শনিবারই নতুন একঝাঁক আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকেলস (এআরভি) ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকেলস ব্যবহার করা হবে প্রধানত অর্জুন ট্যাঙ্কের জন্য। আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকেলসের কাজ হল যুদ্ধক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্ক সরিয়ে আনা অথবা সেখানেই মেরামতি করে দ্রুত সেই অক্ষম ট্যাঙ্ককে কর্মক্ষম করে তুলে আবার যুদ্ধপোযোগী করে তোলা।

৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এক বৈপ্লবিক শক্তি নিয়ে আসবে বলে স্বয়ং বায়ুসেনা প্রধানই ঘোষণা করেছেন। আমেরিকার ঘোর আপত্তি অগ্রাহ্য করে রাশিয়ার সঙ্গে এস ৪০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম কেনার চুক্তি করে ভারত সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন উপহার দিয়েছে। ৪৫ হাজার কোটি রুপির ওই চুক্তি করেছেন নরেন্দ্র মোদি ও ভ্লাদিমির পুতিন। এস ৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একমাত্র রাশিয়া, চীনের কাছেই রয়েছে। আর কোনো দেশের কাছে নেই। সুতরাং চীনকে বার্তা দিয়ে ভারত ওই সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আনার ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট সমীহ আদায় করেছে।

ভারতের একটি মিডিয়া জানায়, এই মুহূর্তে ক্রিমিয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে তীব্র টেনশন শুরু হয়েছে, সেখানে ইউক্রেনের কাছে রাশিয়া এই এস ৪০০ সিস্টেম মোতায়েন করেছে বলে ইউক্রেনের অভিযোগ। ঠিক এরকমই এক সময়ে শনিবার নতুন করে আবার ব্রহ্মস মিসাইল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে শামিল করার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যতম প্রধান তাৎপর্য হলো পাকিস্তান ও চীনকে বুঝিয়ে দেয়া, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক অতীতের মতোই উষ্ণ ও সামরিক সমঝোতাপূর্ণ রয়েছে। কারণ ব্রহ্মস মিসাইল সম্পূর্ণভাবে বিদেশি প্রযুক্তির নয়। এটি ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও অর্গানাইজেশনের একটি যৌথ উদ্যোগ। ভারত ও রাশিয়ার এই যৌথ উদ্যোগের নাম ব্রহ্মস এরোস্পেস লিমিটেড। ব্রহ্মস একটি টু স্টেজ ক্ষেপণাস্ত্র। সুতরাং ভারত যে পুরনো বন্ধু রাশিয়াকে ভুলে সামরিক অস্ত্র ক্রয় ও প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে ইসরাইল ও আমেরিকার উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে, এই ধারণার সংশোধনও জরুরি। কারণ ওই ধারণাটি ক্রমেই বলবৎ হওয়ায় রাশিয়াকে অনেক বেশি করে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে আবদ্ধ হতে দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকাকে পূর্ণ বিশ্বাস করে অল ওয়েদার বন্ধু রাশিয়াকে হারানোর ঝুঁকি ভারত নিতে পারে না। সেই ভাবনাতেই এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের পর এবার আবার ব্রহ্মস নির্মাণ ভারত রাশিয়ার বন্ধুত্বকেও নতুন করে যেমন প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনই উদ্বেগে ফেলবে চীন ও পাকিস্তানকে। কারণ ওই দুই রাষ্ট্রের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে ভারত কেন হঠাৎ নৌশক্তি বাড়াচ্ছে?

সাম্প্রতিককালে চীন কিন্তু সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে নৌশক্তি বৃদ্ধিতে। সমুদ্রে আগ্রাসী টহলদারি ও দখলদারির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের তিক্ততাও চরমে। এবার ভারত তাই নৌবাহিনীকে একের পর এক মিডিয়াম ও লং রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে।

কিন্তু হঠাৎ এই অতিরিক্ত সক্রিয়তা ও অস্ত্র ক্রয়ের কারণ কী? শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা।


আরো সংবাদ