১২ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচন এসেছে, আচরণবিধি বেড়াতে গেছে

-

নির্বাচন এসেছে কালের রথে চড়ে। সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক শাসন অব্যাহত রাখতে হলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতায়ই আমাদের দোরগোড়ায় আজ নির্বাচন হাজির। এই নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে, সে আশঙ্কা সময়ের সাথে আরো প্রবল হচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড সেই অশঙ্কার পারদমাত্রা শুধুই উপরের দিকে উঠছে। অথচ স্বাভাবিক দাবি ছিল, নির্বাচন সাথে করে নিয়ে আসবে আচরণবিধির পুরোপুরি কার্যকারিতা।

এর মাধ্যমে সব প্রার্থী ও সব দলের জন্য থাকবে নির্বাচনের মাঠে লড়ার সমান সুযোগ। সে জন্যই বলা হয়েছিল, ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। কেউ ক্ষমতায় থেকে বাড়তি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচন করবে, আর অন্যরা সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন মাথায় নিয়ে আর অহেতুক হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা-হামলার শিকার হয়ে নির্বাচন করবে তা হতে পারে না। কিন্তু সে দাবি সরকারপক্ষের কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে সরকারকে ক্ষমতায় রেখে এবং সংসদ বহাল রেখেই আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত ২৬ নভেম্বর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনের রাজনীতি ও জনগণের ভোটাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় অভিমত দেয়া হয়েছে- ভোটের আগের এই সময়টায় কর্তৃত্ব রয়ে গেছে শাসক দলের হাতেই। আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন- সাম্প্রতিক কার্যকলাপে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সংশয়ের কারণ হিসেবে বৈঠকে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রাক-নির্বাচনী পর্যায়ে শাসক দলকে কর্তৃত্ব করতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও প্রশাসন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাহী ক্ষমতা পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং এর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত কারণে সরকারবিরোধী দল-জোটগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নতুন অভাবনীয়ভাবে গঠিত সরকারবিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে অংশ নেয়াটা সরকারপক্ষকে অনেকটা ভাবিয়ে তুলছে, যা তফসিল ঘোষণার পরও সরকারপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের আচার-আচরণ ও নানা পদক্ষেপ থেকে স্পষ্টতই ধরা পড়ছে।

সরকারি শীর্ষ মহল থেকে এর পরও জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, আগামী নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনী প্রচারে সব দল সমান সুযোগ পাবে। সরকারপক্ষ কোনো বাড়তি সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করবে না। বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর আর কোনো হয়রানি করা হবে না। নির্বাচন ও সরকারের এসব প্রতিশ্রুতির সাথে সুর মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল। কেতাবি ভাষায় বলেছিল, নির্বাচন কমিশন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধ করবে।

কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এসব প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না; বরং তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবাহী ভূূমিকাই পলন করতে দেখা যাছে- সরকারের বাইরে থাকা প্রতিটি দল-জোট-মহলসহ ও সুশীলসমাজের আপত্তির মুখে ছয়টি আসনে বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহারের গোঁ ধরেছে নির্বাচন কমিশন। বহুল আলোচিত সমান সুযোগ বিরোধী দলের জন্য সৃষ্টি করছে না। বন্ধ করছে না তাদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানি।

বলা হয়েছিল, বিএনপি নেতাকর্মীরা যে গ্রেফতার, হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে আতঙ্কের মাঝে রয়েছে; তফসিল ঘোষণার পর তা বন্ধ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরও তা থামছে না। গত ১ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের শীর্ষ সংবাদে বলা হয়েছে- এখনো গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন ধানের শীষের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। নতুন-পুরনো মামলার খড়গ ঝুলছে তাদের ওপর। তফসিল ঘোষণার পরও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার বন্ধ হয়নি। উল্টো তা বেড়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি হাইকমান্ডের। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের আলাদা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এর তেমন কোনো প্রতিকার মেলেনি। এখন গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রার্থীদেরও। সর্বশেষ বিএনপির প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনকে গ্রেফতার করে জামিন না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকার এক প্রার্থীকে তুলে নেয়ার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ নিয়ে তফসিল ঘোষণার পর কমপক্ষে ১৩ প্রার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র কিনতে আসা এক প্রার্থীর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গায়। মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে অনেক প্রার্থীই এলাকায় যেতে পারছেন না। তাদের কেউ কেউ প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যারা এলাকায় গিয়েছেন তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা কয়েক দিনের মধ্যে আবার ইসিতে যাবেন।

এ দিকে একই দিনে প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের খবর ছাপা হয়েছে। একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিক এই প্রতিবেদন সম্পর্কিত খবরটি ছেপেছে ‘সবার জন্য সমান সুযোগ এখনো অনেক দূরে’ শিরোনাম দিয়ে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়- বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি সবার সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ধারেকাছেও নেই। এখানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে। আর বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন তীব্রই রয়ে গেছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতিকে এভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে যুক্তরাজ্য সংসদ সদস্যদের নি¤œকক্ষ হাউজ অব কমন্সের প্রতিবেদনে। দেশটির এমপিদের অবগতির জন্য তৈরি করা প্রতিবেদনটি ‘রিসার্চ ব্রিফিং’ নামে পরিচিত।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ-বিষয়ক এই হালনাগাদ প্রতিবেদনটিতে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এক রায়ে খালেদা জিয়াসহ দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। ১৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বিএনপির দাবিদাওয়া, খালেদা জিয়ার মামলা ও সাজা, সংলাপের আয়োজন ও ফলাফলশূন্য সমাপ্তিসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়- খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনসহ কোনো দাবি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে নির্বাচন তুলনামূলক বিশ্বাসযোগ্য হবে।

কিন্তু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিতের বিষয়টি অনেক দূরে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বহু আগে থেকেই বিরোধীদের পক্ষ থেকে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, সে বিষয়টিও বাদ যায়নি। প্রতিবেদন মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিয়মের তথা রুলস অব গেমের সার্বিক আস্থার মাত্রা তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারকালে এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপর সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা। বিএনপির বিরোধিতা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ইইউর এমন সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দেয়া হয়, আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ইইউ মাত্র দু’জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর কমনওয়েলথ থেকে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। প্রতিবেদনটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। আছে কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশি বলপ্রয়োগ ও ছাত্রলীগের প্রসঙ্গও।

এ দিকে ইসি ক্ষমতাসীন দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে চোখ-কান বন্ধ রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরও যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি, তা সহজেই দৃশ্যমান। ক্ষমতাসীন জোটের পুরনো ও নতুন শরিকেরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করছে, এর বিপরীতে বিরোধীরা ততটাই প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে বিরোধী দমনে সরকারের যে ভূমিকা ছিল, এখন তা আরো কঠোর রূপ নেয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। নির্বাচন কমিশন সে ব্যাপারে এক ধরনের নীরবতাই পালন করছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের নীরবতা অবলম্বন করছে।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ডেকে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য এই ব্রিফ দেয়া হয় বলে দাবি করে এর তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা এ বিষয়ে অবহিত নন। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখা যেতে পারে। বিএনপির অভিযোগ, ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের জন্য ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারদের ঢাকায় ডেকে দিকনির্দেশনা দেয় ইসি। বিএনপির চিঠিতে দাবি করা হয়, ইসির অনুষ্ঠান শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা যখন কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তাদের তলব করা হয়। সেখানে তাদের সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য বলা হয়। সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কললিস্ট যাচাই করে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই দিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিএনপি বলছে- এ ধরনের আচরণ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বড় ধরনের বাধা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ইসির অনুমতি ছাড়া রিটার্নিং অফিসারদের টেলিফোনে ডেকে নিয়ে সভা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনজীবীরা বলছেন, যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়, তবে সেটি নির্বাচনসংক্রান্ত আইনকানুনের ভয়ঙ্কর বরখেলাপ। কিন্তু সে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে ইসি কার্যত নীরবতা পালন করছে। শুধু দায়সারাভাবে ইসি বলছে, ভবিষ্যতে যাতে এমনটি না ঘটে সে ব্যাপারে ইসি মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি দেবে।

এর আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিএম’ নামে যে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছিলেন ইসি সচিব হেলাল উদ্দিন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘থ্যাংক ইউ পিএম’ ফিলারটি বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার হচ্ছে। এ ধরনের প্রচার যে কেউ চলাতে পারে।

এভাবে ইসি সরকারি দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে নানাভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। সে জন্যই হয়তো বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সংবাদপত্রে এ সম্পর্কিত তার মতামত দিয়েছেন ‘বেড়াতে গেছে আচরণবিধি’ শীর্ষক এক নির্বাচন সম্পর্কিত অভিমতধর্মী লেখায়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে জাতিকে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে না, তার বহু সাক্ষ্যপ্রমাণ এরই মধ্যে সৃষ্টি করেছে এই ইসি। তবে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ইসির উচিত অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুন্দর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া। ভুললে চলবে না- দেশটি কোনো মহলবিশেষের নয়, দেশটি সবার।


আরো সংবাদ