১২ ডিসেম্বর ২০১৮

তথৈবচ

-

নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনে ভোটগ্রহণকারী বেসামরিক কর্মকর্তাÑ এদের সবার ভোটে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এখন গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সবার মধ্যে এই জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে যে, নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে কি-না। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বমহলের যে প্রত্যাশা, সেটার কী হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচন সম্পর্কে বহুবার বলা হয়েছে, তা ছিল একটি প্রহসন। এখন প্রায় ১০ বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিয়ে যদি এমন দুর্ভাবনা জেগে ওঠে, তবে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আর আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কোথায়। দেশে গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, মানবাধিকারের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। আর এসব যদি রাষ্ট্রীয় আচারে সম্পৃক্ত না থাকে, তবে সে দেশ একটি স্বৈরশাসিত দেশে পরিণত হবে। সেখানে নাগরিকদের নতজানু হয়ে বসবাস করতে হবে। দেশে স্থপতিরা তো দেশের এমন স্বাধীনতার জন্য অপরিসীম নির্যাতন আত্মত্যাগ স্বীকার করেননি।

সমাজের সবপর্যায় থেকে বক্তব্যে, আলোচনায় এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞজনের লেখা উল্লিখিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপক্ষে এমন কথা আসছে যে, তারা ক্ষমতাসীনদের কথাবার্তা নির্দেশনা শুনছে। তাদের সাম্প্রতিক আচার-আচরণ থেকে এ অভিযোগের সপক্ষে বিভিন্ন আলামতও পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় যদি নির্বাচনের আগে ঘটতে থাকে, তবে প্রশ্নমুক্ত নির্বাচনের আর ভরসা থাকে কোথায়। যদি সব কিছু এমন পাতানো হয়, তবে রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন ও প্রথা-পদ্ধতি থাকার কী প্রয়োজন। এ ছাড়া একটি জাতীয় নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন সরকারে সব বিষয় নির্লিপ্ত থাকার যে রেওয়াজ রয়েছে, এবার সেটা তো লক্ষ করা যাচ্ছেই না, বরং সব বিষয়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাদের এই ভূমিকার কারণে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব পড়বে।

এবারের নির্বাচন নিয়ে এখনই যে উত্তাপ-উত্তেজনা, আর নির্বাচন পরিচালনার সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর যে হাল অবস্থার কথা উল্লেখ করা হলো, তাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে কেমন হবে তা অনুমান করা কঠিন। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফ্রন্টের প্রতিপক্ষকে বিজয়ী করতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এসব কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে। সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট বিধি-বিধান ও তা প্রয়োগ করে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।

কিন্তু এসব বিধি-বিধানের আলোকে যেসব নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পত্রপত্রিকায় ক্ষমতাসীন দলে প্রার্থীদের নির্বাচনবিধি লঙ্ঘনের বহু সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। সে ব্যাপারে কমিশন কোনো বিহিত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর ফলে আচরণবিধি অমান্য করার প্রবণতা বাড়ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে, তবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া তার অঙ্গহানি ঘটবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যে দাবি তোলা হয়েছে, সেটা ভেস্তে যাবে। এভাবে যদি সব দিক থেকে একে একে নির্বাচন প্রশ্নযুক্ত করার প্রয়াস নেয়া হয়, তা হলে নির্বাচনে যারা প্রার্থী হচ্ছেন তারা ভোটযুদ্ধে অংশ না নিয়ে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব সম্ভাবনা রহিত হয়ে যাবে।

জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়া তথা ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের আনুগত্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে দেখা গেছে, নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে সরকার জেলাপর্যায়ে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছে। ফলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ভঙ্গ হয়েছে। এদিকে যে কয়বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেখা গেছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্মকর্তাদের ওই সাজানোর বিষয় দৃষ্টিতে নিয়ে তার ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছে, যা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। অথচ দলীয় সরকারের অধীনে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এবারো মাত্র কিছু দিন আগে সরকারের পছন্দমতো জেলা প্রশাসকসহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রদবদল করেছে। এসব ‘পছন্দ’-এর কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই তাদের যে উদ্দেশ্যে পদায়ন করা হয়েছে, তাকে সার্থক করার জন্য কাজ করবে। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। সেই ১৯৭৩ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও কমিশন নিজস্ব লোকবল নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। তাই বিভিন্ন নির্বাচনের সময় কমিশনকে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

আর বিভিন্ন সময় দেখা যায়, এসব সরকারি কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করে ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষের প্রার্থীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে। এমন অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও এমন শাস্তি দেয়ার কোনো নজির কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। আসলে এমন অনিয়মের কারণ হচ্ছেÑ গণতন্ত্র ও জনমতের প্রতি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলেরা শ্রদ্ধাশীল নয়। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রধান অনুশীলন। একে প্রশ্নমুক্ত করা যে অঙ্গীকার সবার থাকার কথা, সেটার অনুপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। গণতন্ত্রের এই অনুপস্থিতি দেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর অন্যতম। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, এটা একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা। গণতন্ত্র কায়েম হওয়ার অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাওয়া। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষের জন্য সব ক্ষেত্রে একটা জবাবদিহির ব্যবস্থা করে, যা এখন আমাদের দেশে বিরাজ করছে না।

ঐক্যফ্রন্ট যখন সরকারের সাথে সংলাপে বসেছিল, তখন সংবিধানসম্মত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা তারা দাখিল করেছিল। কিন্তু সরকার সে রূপরেখা মেনে নেয়নি। এ সম্পর্কে সরকারের কথা ছিল, তারা এ প্রশ্নে সংবিধানের মধ্যে থাকবেন। অর্থাৎ সংবিধানের ভেতরে থেকে বিকল্প কোনো কিছু এলে তা বিবেচনায় নেবে। কিন্তু সে কথা তারা রাখেনি। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে ক্ষমতাসীনেরা বলেছিল, সেটা ছোট হবে এবং তারা কেবল দৈনন্দিন রুটিন কাজ করবে। কিন্তু এ কথাও তারা রাখেনি। সব মন্ত্রীই স্বপদে বহাল রয়েছেন এবং সব কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি মন্ত্রিসভায় যে চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রয়েছেন, তাদের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছিল। তাও কার্যকর হয়নি। তারা এখনো দিব্যি কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে সংসদ ভেঙে না দেয়ায় সদস্যরা স্বীয় মর্যাদায় এলাকায় আগের মতো দাপটেই একাদশ সংসদের জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে তারা সুযোগ-সুবিধা বেশি ভোগ করছেন।

নির্বাচনে যাওয়ার আগে সব কিছু একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থায় নিয়ে আসা, অর্থাৎ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলো গোছগাছ করা জরুরি। তা কিন্তু এখনো হয়নি, অথচ এখন এক মাসও সময় নেই। এমন অগোছালো অবস্থা নিয়ে এত বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা কিভাবে সম্ভব তা বোধে আসে না। বিশেষ করে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কায়েম থাকাটা অপরিহার্য। অথচ এ বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন জরুরি বলে মনে করছে না। তাকে বরং উপেক্ষাই করছে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ-সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। নিজেদের এই সংঘর্ষ সামনে আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই রয়েছে। আর শুধু নিজেদের মধ্যেই সংঘটিত এই সংঘর্ষ সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাদের প্রতিপক্ষের ওপরও আক্রমণ করতে পারে।

এসব বিবেচনায় এটাই ধারণা করা যায়, আগামীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিবেশ শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে। যে দলের পেছনে ক্ষমতার দাপট থাকবে, তারা কোনো আইন-কানুন, ন্যায়-অন্যায়ের ধার ধারবে না। তা ছাড়া পেশাদার সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। তারাও এ সময় সক্রিয় হয়ে উঠবে। এদের হাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। এসব অপশক্তির কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানের কোনো খবর নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠানের এই প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করার যে ধারণা নির্বাচন কমিশন করে রেখেছে, তা কোনোভাবেই পরিবেশকে অনুকূলে আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। নির্বাচনে জেলা সদরে সেনা মোতায়েন থাকবে। কিন্তু সেখান থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার জন্য যে সময় লাগবে, ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করে দেবে। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব বাহিনী নিযুক্ত থাকবে, তাদের পক্ষে এসব সামাল দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

এমন সব প্রতিকূল অবস্থার কথা ভেবে তার যথেষ্ঠ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া না হলে অবশ্যই ভোট ছিনতাই হয়ে যাবে। আর ভোটকেন্দ্রে হাঙ্গামা সৃষ্টি করলে ভোটারেরা কেন্দ্র থেকে ভোট না দিয়েই ফিরে যাবেন। আর এই সুযোগে নির্বাচনে শক্তিধর কর্মীরা নিজেদের প্রার্থীর অনুকূলে জাল ভোট দিয়ে বাক্স ভরবে। এমন ভোট হলে গণতন্ত্রের মূল চেতনাই নস্যাৎ হয়ে যাবে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ সেই পাকিস্তান আমল থেকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা এ জন্য জেল-জুলুমসহ বহু অত্যাচার সহ্য করেছেন। সে কারণে এটা খুব পরিতাপের বিষয় যে, স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পরও এখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে দেশে এবং বিদেশের মানুষ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বহুবার তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। আজকের বিশ্বে কোনো দেশ একা চলতে পারে না। কোনো দেশে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটলে তাকে আর কোনো দেশের একক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তাই বাংলাদেশে এ নির্বাচনে বিদেশে আগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টতা থাকবেই। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে।

কিন্তু নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশন কতটা ইতিবাচকভাবে নেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষকেরা স্বাধীনভাবে সব কিছু দেখার সুযোগ পাবেন না। এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকেরা কেন্দ্রে গিয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন, তাদের আর কিছু করার সুযোগ থাকবে না। এরপর এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। কমিশনের এসব মন্তব্য থেকেই এটা স্পষ্ট যে, পর্যবেক্ষকেরা স্বাধীনভাবে কিছু দেখতে পারবেন না। কমিশনের এই দৃষ্টিভঙ্গি হালকাভাবে নেয়া যায় না। এর থেকে এটা অনুমান করা যায়, তারা সব কিছু রাখঢাক রেখে তাদের ছকমতো একটি নির্বাচন করিয়ে নিতে চায়। নির্বাচন নিয়ে সরকারি যে মনোভাব, তার সাথে কমিশনের ভূমিকা একই সমান্তরালে।

সরকার আর নির্বাচন কমিশন ভূমিকা যদি এক বিন্দুতে অবস্থান করে, তবে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সংবিধান যে স্বতন্ত্র মর্যাদা ও ক্ষমতা দিয়েছে, তা যদি বাস্তবে দেখা না যায়, তবে তার অস্তিত্ব নিয়েই তো প্রশ্ন দেখা দেবে। এবার নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকবে, এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করবে তা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। নির্বাচন আসন্ন, তা সত্ত্বেও নির্বাচনসংক্রান্ত যে কিছু জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্ন নিয়ে এখনো কথা থাকছে। সে জন্য এসব বিষয় খতিয়ে দেখার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের এখনো উদ্যোগী হওয়ার সময় রয়েছে। এ সময় নিয়ে তাদের সব কিছু খতিয়ে দেখা উচিত হবে।
[email protected]


আরো সংবাদ