১১ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের নির্বাচনে নানা পক্ষের ভীতি ও শঙ্কা

বাংলাদেশের নির্বাচনে নানা পক্ষের ভীতি ও শঙ্কা - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ একটি বহুলালোচিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের প্রাথমিক কয়েকটি ধাপ অতিক্রান্ত হয়েছে। রেকর্ডসংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাছাই পর্ব। জিয়া পরিবারের সদস্যসহ বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ বাছাই পর্বে ছিটকে পড়েছেন। রাজনীতি প্রভাবিত মামলায় শাস্তিÍ, ঋণখেলাপি, বিল খেলাপি, ফরম পূরণে বিচ্যুতিসহ নানা কারণ দেখানো হয়েছে মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে। তবে এসব মানদণ্ড সমভাবে প্রয়োগ করা হয়নি ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী জোটের ক্ষেত্রে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ এবার অনেকখানি নষ্ট হয়েছে। কেউ যদি নিজ দলের পক্ষে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানান, তাহলে তিনি সে দলের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করা এবার সম্ভব হবে না। আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে অন্য কোনো নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব হতে পারে। এক দশক বা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর সরকারি দলের নেতা-এমপিদের মধ্যে নানা রকম স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আসনে প্রার্থী হওয়ার মতো আবেদনকারী সংখ্যায় দুই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা যাতে সরকারি দলের জয়ের পথে বাধা সৃষ্টি না করেন, সেজন্যই ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকতে পারে। এটি অবশ্য বিরোধী দল বিএনপির বিদ্রোহী দমনেও সহায়ক হতে পারে।

মহাজোটের কৌশল
যেকোনো নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের পেছনে কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ আগে থেকে এই কৌশল ঠিক করে রেখেছে। তবে বিরোধী শিবিরের অবস্থা দেখে তারা সময় সময় এই কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে যে মহাজোট তৈরি করেছিল, সেটাকে ধরে রাখতে চেয়েছে। তবে এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং ডা: বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকে আওয়ামী লীগ কাছাকাছি রাখলেও শেষ পর্যন্ত কোন ভূমিকায় তাদের রাখা হবে, সেটি এখনো সম্ভবত চূড়ান্ত করেনি। এ দুই পক্ষের সাথে আসন ভাগাভাগি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্ধেকের কিছু বেশি আসন জেতাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ১৮০ আসনে জয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

এবার প্রধানত দু’টি বিকল্প সামনে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে দলটি। প্রথমত, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচনের পরিবর্তে দৃশ্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায়। সে লক্ষ্যে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে নিয়ে আসা দলটির প্রথম বিকল্প। দ্বিতীয় বিকল্প অনুসারে আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে তাদেরকে। সেই সাথে নির্বাচন বর্জন করে দেশকে অনির্বাচিত সরকার গঠনের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। সেজন্য নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট ও মিত্র ‘ইসলামি দল’গুলোকে দিয়ে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরে দাঁড়ালে অন্য দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ জন্য ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনের পর ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে নির্ধারিত বৈঠক ইচ্ছা করেই স্থগিত রেখেছে আওয়ামী লীগ। দলটির পরিকল্পনা হচ্ছে, যদি বিএনপি বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যায়, তখন শুধু ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে। আর মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের নতুন মিত্র যুক্তফ্রন্টও এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এতে ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন হবে না। নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ হয়েছে বলে প্রচার করা যাবে।

বিরোধী জোটের কৌশল
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ১০ বছর বৈরী শাসনে নানা ধরনের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতার বাইরে থাকা তাদের জন্য কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। বিশেষত বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি জিয়া পরিবারকে সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে এক প্রকার বাইরে রেখেছে। এ অবস্থায় আরেক মেয়াদের জন্য ক্ষমতার বাইরে থাকার অর্থ হলো বিএনপির ওপর জিয়া পরিবারের কর্তৃত্ব হারানো। তাই ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়েও ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যাপারে আপসহীন কৌশল রয়েছে বিএনপির। দলটি নানা ধরনের চাপের মুখেও ২০ দলীয় জোটে বিভক্তি আনেনি। বরং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সেকুলার দলগুলোর সাথে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলেছে। ক্ষমতা ও প্রশাসন যেখানে সরকার পক্ষের প্রধান শক্তি, সেখানে বিএনপি জনসমর্থন ও জনপ্রতিরোধকে প্রধান অবলম্বন করতে চাইছে মিত্র দলগুলোকে সাথে নিয়ে। তাদের মূল লক্ষ্য যথাসম্ভব মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন।

বৈরী অবস্থায় খেলার জন্য যে ধরনের সুপরিকল্পিত কৌশল নেয়া দরকার, সেটি গ্রহণ করতে চেয়েছে বিএনপি।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির কৌশলের এক ধরনের জয় হয়েছে। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসাররা যে পক্ষপাত করেছেন, তেমন আশঙ্কাই তারা করেছিলেন। নির্বাচনে বিএনপির ৬৯৬ জন প্রার্থী দেয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দে বিএনপির কোন্দল বাড়বে। কিন্তু বিএনপি জানত, এ রকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে। তারা চেয়েছেন শেষ পর্যন্ত যেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেয়ার মতো অন্তত একজন প্রার্থী থাকেন। কয়েকটি আসন ছাড়া বাকি সব আসনেই বিএনপির কেউ না কেউ টিকে গেছেন। বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়ায় দণ্ড, ঋণখেলাপি ইত্যাদি অজুহাতে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরও অন্য প্রার্থী রয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, এর ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কাও দূর হয়েছে। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর এখন কেন্দ্র থেকে যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হবে, একমাত্র তিনিই নির্বাচন করতে পারবেন। বাকি প্রার্থীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ থাকবে না। এর ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবেন খুবই কম।

সরকারি জোটের আশঙ্কা
বাংলাদেশে দুই ধারায় বিভক্ত রাজনৈতিক শক্তি বাস্তবতার আলোকে যার যার মতো করে কৌশল নির্ধারণ করেছে বলে মনে হয়। আবার দুই পক্ষের মধ্যেই প্রতিপক্ষ নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। মহাজোট নিজেদের জনসমর্থনের ব্যাপারে বিভিন্ন এজেন্সি ও রাজনৈতিক সংগঠন দিয়ে একাধিক জরিপ করেছে। এসব জরিপের পর খোলামেলা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনপ্রাপ্তির ব্যাপারে কোনো ভরসা পাচ্ছে না সরকারি দল। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ‘সহযোগিতা’র ওপরই বিশেষ ভরসা করতে হচ্ছে তাদের। জনসমর্থনের মধ্যে কাছাকাছি ভারসাম্য থাকলে সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক কারসাজি কিংবা ফলকে প্রভাবিত করা সহজ হয়। আর স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনগুলো একাধিক দিনে হওয়ার কারণে সেসব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যতটা সময় ও সুযোগ পাওয়া যায়, ততটা পাওয়া যায় না সংসদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের বিষয় যুক্ত থাকায় সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া মনোভাব থাকে। এ অবস্থায় জনসমর্থনের একতরফা প্রবাহ সৃষ্টি হলে এর বিপরীতে প্রশাসনিক সহযোগিতায় ফলকে প্রভাবিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরকার পক্ষের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে জনগণ ব্যাপকভাবে নেমে গেলে পুলিশ অ্যাকশনে না-ও যেতে চাইতে পারে। এর মধ্যে অনেকে নির্বাচনে ডিউটি করতে ইতস্তত করছে। ‘ভোটকেন্দ্রে কী যে হয়’-জাতীয় একটা আশঙ্কা অনেকের মনে ঘুরছে। জাল ভোট প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিরোধী দলের ভোটকেন্দ্রে রাতের বেলা পাহারা এবং পরের দিন ভোট গুনে কেন্দ্র ত্যাগ করার জন্য যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাতে বেশির ভাগ পুলিশের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকে কোন কোন কৌশলে কাজ করলে ‘ঝামেলা ছাড়া নিরাপদে’ ভোট শেষ করতে পারবে সেটি নিয়ে ভাবছেন এবং নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন। তবে বিরোধী দলের চাপ আরো বাড়লে পুলিশ অপেশাদার কারসাজিতে ভয় পেতে পারে। একেকটি ভোটকেন্দ্রে অল্পসংখ্যক পুলিশ ও আনসার থাকবে। এ কারণে ঝামেলা পরিহার করার জন্য বেশির ভাগ পুলিশ বড় কোনো ঝুঁকি না-ও নিতে পারে।

বিরোধী দলের আশঙ্কা
বিরোধী দলের আশঙ্কা হলো, ভোটের দিন যাতে তাদের এজেন্ট থাকতে না পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের গ্রেফতার এবং এমন মামলায় চালান দেয়া হতে পারে যাতে জামিন না হয়। কোর্ট যাতে জামিন না দেন, সেজন্য আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হতে পারে। তদুপরি বিরোধী পক্ষের সম্ভাব্য এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হতে পারে। পক্ষে আনার জন্য টাকা-পয়সা বা অন্য কোনো লোভও দেখানো হতে পারে।

বিরোধী পক্ষের আরো আশঙ্কা হলো, ভোটের আগের রাতে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও আনসারদের ফ্যামিলি মেম্বার বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে টাকা-পয়সা দেয়া হতে পারে। মামলা ও অস্ত্রের ভয়ও দেখানো হতে পারে। প্রলোভন বা হুমকি- যাকে যেটা দিয়ে কব্জা করা যায়, তাকে সেটা দিয়ে নিজেদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা চলতে পারে।

তাদের ধারণা, ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রচুর টাকা আছে। প্রশাসনে আছে অনুগত একটি দল। এসব ব্যবহার করে টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে, খাবার সাপ্লাই ইত্যাদি দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আনসার ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হবে। রাতের বেলা বাড়তি মুদ্রিত ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে ফলাফল পাল্টে দেয়া হতে পারে। তারা মনে করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সুকৌশলে এ প্রক্রিয়াটি অবলম্বন করা হয়েছিল। এর পর বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

বিরোধী পক্ষের আরো আশঙ্কা হলো, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে ভোটের প্রকৃত ফলাফলের বাইরে ভিন্ন এক ধরনের ফলাফল নির্বাচনের পরে ঘোষিত হতে পারে। এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জেলাগুলোতে যাতে আগে থেকেই অনুগত কর্মকর্তারা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হন, সেজন্য একটি বিন্যাস করা হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের বিন্যাস পাল্টানোর জন্য বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।

নির্বাচন হবে কি, হবে না
এত আয়োজনের পরও নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দূর হচ্ছে না। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, দুই প্রধান জোটের কোনোটিই ক্ষমতার বাইরে থাকার কথা আর ভাবতে পারছে না। দুই পক্ষই মনে করছে, ক্ষমতায় যেতে না পারলে তারা অস্তিত্বের সঙ্কটে বা বড় আকারের কোনো বিপর্যয়ে পড়তে পারে। উভয়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হেরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চেয়েও ভিন্ন কোনো পক্ষের হাতে ক্ষমতায় যাওয়াটাকে শ্রেয় মনে করছে বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, দলটি অস্থিরতা সৃষ্টি করে ওয়ান-ইলেভেনের মতো সরকার আনতে চায়। আবার বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ অস্বাভাবিক কোনো সরকার আনতে চায় বলে অভিযোগ করেছে। দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কিছুটা হলেও সত্যতা রয়েছে। প্রশাসনিক বিন্যাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বাজারে ‘বেশ মশহুর’। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এই অভিযোগকে সত্য প্রতিপন্ন করছে। অন্য দিকে, ভোটের ওপর যেকোনো অসাধু নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের আয়োজন যে বিরোধী পক্ষের রয়েছে, তার আভাস মাঠ-ময়দান থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

এর মধ্যে কূটনৈতিক অংশীদাররাও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে ধীরে ধীরে চাপ বাড়াচ্ছেন। ফলে নির্বাচন তিন মাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে জল্পনা শোনা গেছে। বলা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বসংস্থা থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে একতরফা নির্বাচনে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক পত্রটি সপ্তাহকালের মধ্যে আসতে পারে। ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনার পরও থেকেই যাচ্ছে।

[email protected]


আরো সংবাদ