১২ ডিসেম্বর ২০১৮

কুমিল্লার এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

-

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় কাভার্ডভ্যান পোড়ানোর অভিযোগে বিশেষ মতা আইনের এক মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে রাষ্ট্রপকে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল খালেদা জিয়ার পে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। সাথে ছিলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো: বশির উল্লাহ।
আদেশের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপরে করা আবেদনের শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালত সময় মঞ্জুর করে ১৩ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর ফলে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রয়েছে বলে তিনি জানান।
ড. বশির উল্লাহ বলেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন আপিল বিভাগ।
গত ৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে কোনো আদেশ না দিয়ে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
গত ২৮ নভেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। নিম্ন আদালতে এ মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেন আদালত। ওই দিনই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন তারা এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম সামছুল আলম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ২ অক্টোবর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হায়দারপুল এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর দিন ২৬ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদি হয়ে বেগম খালেদা জিয়াসহ ২০ দলের স্থানীয় ৩২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়।


আরো সংবাদ