১২ ডিসেম্বর ২০১৮
যশোর-৬ আসন

বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া বিএনপি আ’লীগের প্রার্থীও জয় চান

-

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া বিএনপি। দীর্ঘ দিনের পরাজয়ের কষ্ট মুছে দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি। দলীয় মনোনয়ন ক্রয় ও জমাদান পরবর্তীতে কে হচ্ছেন দলীয় প্রার্থী তা নিয়ে চলছে আলোচনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দীর্ঘ প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকা যশোরের কেশবপুর থানা বিএনপির অফিস খুলেছে। এতে পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
যশোর-৬ আসনে মোট ভোটার এক লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৪। এ মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ৫০ হাজার। জোটের শরিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানার নানা কৌশল মাথায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে বিএনপিকে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নিবার্হী কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেশবপুর থানা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। যাচাই-বাচাইয়ে সবার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। কেশবপুরের জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোক্তার আলী। নাগরিক সমাজের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক।
নবম সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের শেখ আবদুল ওহাবের কাছে পরাজিত হন। শুধু ১৯৭৯ সালে এই আসনে একবার বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী বিজয়ী হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। জোটের শরিক জামায়াত ও সংখ্যালঘু ভোটার কাছে টেনে আওয়ামী লীগের দুর্গে হানা দিতে চায় বিএনপি। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি ইমেজে সংখ্যালঘু ভোটার, জোটের শরিক জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কোন্দলের দুর্বলতায় আঘাত হানতে পারদর্শী এমন প্রার্থী দিতে হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। তেমন প্রার্থী ছাড়া এই আসনে জয় লাভ কঠিন হবে। ৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী ও জামায়াতের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনও ব্যক্তি ইমেজ দিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্গে জয় লাভ করেছিলেন দাবি তৃণমূলের। ফলে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে বিএনপিকে।
তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট বিজয়ের েেত্র বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। এখানে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার রয়েছে হিন্দু নারী-পুরুষ। তবে প্রার্থী যেই হোক, বিএনপিও চায় পরাজয়ের ইতিহাস মুছে যেকোনো মূল্যে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। তবে আগের নির্বাচনের ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় দুই দলের মধ্যে এই আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। ফলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।


আরো সংবাদ