১১ ডিসেম্বর ২০১৮
সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতৃবৃন্দ

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করুন

‘নির্বাচনী ইশতেহার : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক সুজনের সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত -

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এবং এসডিজি, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও দলের ভিশনকে বিবেচনায় নিয়ে তিন বছর, পাঁচ বছর ও দীর্ঘমেয়াদে অর্জন করা যাবে এমন সংখ্যাগত ও গুণগত টার্গেট নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার জন্য সম্ভাব্য নির্বাচিত দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নেতৃবৃন্দ। গতকাল জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুজন’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘সুজন’ সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে ভোট চায়। কিন্তু দেখা যায়, পরে দলগুলো ইশতেহারের কথা অনেকটাই ভুলে যায়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি আইনানুযায়ী সৎ, যোগ্য ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়, তাহলে সেই কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।’
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার হলো ভোটারদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর এক ধরনের অঙ্গীকার। তবে আমাদের সংবিধানই হলো দলগুলোর মূল ইশতেহার। এর বাইরে ইশতেহারে কিছু থাকলে তা হবে দলীয় কর্মসূচি। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশহেতার পেশ করবে তা যেন নির্বাচনের পর হারিয়ে না যায় এবং দলগুলো যে ইশতেহারে করা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব হলো দলগুলো যেন ইশতেহার পেশ করে তা পর্যালোচনা করা। ইশতেহার পেশ করার সময় রাজনৈতিক দলগুলো যেন আগের ইশতেহারের একটি কপি সংযুক্ত করে দেয়, যাতে দলগুলো অতীতে ইশতেহার অনুযায়ী কী কী অঙ্গীকার পালন করেছে তা বোঝা যায়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বর্তমানে যে রাজনীতি চলছে তা হলো নেতিবাচক রাজনীতি। বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং ‘কালচার অব ইমপিউনিটি’ বা অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আগে দুষ্টু লোকেরা পুলিশকে দেখলে ভয় পেত, এখন সাধারণ মানুষও পুলিশকে ভয় পায়। অর্থাৎ জনগণের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবে এবং ক্ষমতায় এসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচনী বিতর্কের সংস্কৃতি বাংলাদেশে অনেকটাই অনুপস্থিত। যদিও ১৯৯০ সালের পর প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিটি দলই জনগণের সামনে ইশতেহার ঘোষণা করে, যা বর্তমানে নির্বাচনের একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে দলগুলো মতায় গিয়ে কী করবে তার একটি আভাস পাওয়া যায়।’
তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাগরিক সমাজের কিছু প্রত্যাশা রয়েছে, আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার দেখতে চাই।

 


আরো সংবাদ