১১ ডিসেম্বর ২০১৮

সরকারি কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

সিভিল সার্ভিস প্রশাসন অ্যাকাডেমিতে আইন ও প্রশাসন কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধাস্মারক দিচ্ছেন মো: মোশাররফ হোসেন : পিআইডি -

সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এগুলো একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ যথেষ্ট দতার সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু এই অভিযান অব্যাহত রেখে দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর শাহবাগে সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এমন জায়গায় দেশকে রেখে যাচ্ছি যেন বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। সামনের দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সে অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে দিক নির্দেশনাগুলো দিয়ে গেলাম সেগুলো যদি অনুসরণ করা হয় তাহলে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি দেশের মানুষের আরো উন্নত জীবন নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি আমরা এ জন্যই করেছি যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন।
তিনি হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় এটা-ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটি নিয়ে ঘাবড়িয়ে যাই। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচালনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইড লাইন গ্রহণ করি না। আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং নিজস্ব পরিকল্পনা। কে কী বলল সেটি শুনে রি-অ্যাক্ট করার চিন্তাতেই আমি বিশ্বাস করি না। তবে পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশটা আমার, আমার দেশকে আমি চিনি, আমি জানি দেশের জন্য কোনটা ভালো হবে। আর যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি তখন অবশ্যই জানবো কোথায় কী সমস্যা আছে, কোথায় কী করতে হবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জন প্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর পদক বিজয়ী শ ম আজহারুল ইসলাম সনেট, শরিফ আসিফ রহমান ও মো: মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ ছাড়াও তাদের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি ব্যাচের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তিনি সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিসিএস প্রশিণ একাডেমির নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির েেত্র অনেক জটিলতা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কোনো কাজ করতে গেলেই জটিলতা তার ওপর আবার মামলা। তারপরও আমরা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সচিব পদে ১৮০ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২০২৫ জন ও উপসচিব পদে ২৬৮৬ জনকে পদোন্নতি দিতে সম হয়েছি। এত পদোন্নতি বোধ হয় কোনো দিন কোনো সরকার একসাথে দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটি দিতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, দতা অর্জনের জন্য প্রশিণ অপরিহার্য। অথচ আমাদের দেশে দেখেছি একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে- কোনো একটি প্রশিণ স্থলে কাউকে পদায়ন করা হলে তিনি মনে করেন তাকে ডাম্পিং স্থলে ফেলে দেয়া হলো। আমি জানি না কেন এই মানসিকতা।

 


আরো সংবাদ