১২ ডিসেম্বর ২০১৮

বেশি সুদে দুই প্রকল্পে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

-

দু’টি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আবারো বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার। গ্রামীণ সড়ক ও ব্রিজ উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে মোট ঋণ পাওয়া যাবে ৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের দেয়া এ ঋণ পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সার্ভিস চার্জ শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। মোট ২ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এর আগেও আরো তিনটি প্রকল্পে সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বেশি সুদে ঋণ নিয়েছিল। এর আগে বিশ্বব্যাংকের ঋণে কোনো সুদ দিতে হতো না। শুধুমাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিজ চার্জ দিতে হতো। এই ঋণের রেয়াতকালও ছিল ১০ বছর।
গ্রামীণ সড়ক ও ব্রিজ উন্নয়নে ‘অপারেশন ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ এবং ‘সেকেন্ড রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট’ প্রকল্প দু’টি নিয়ে গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কে চুক্তি স্বারিত হয়েছে। চুক্তিতে স্বার করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফা।
চুক্তি শেষে মাহমুদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্প দু’টি দেশের উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের ফলাফল ভিত্তিতে অর্থায়ন করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা হলে তার সফলতার ভিত্তিতে পরের অংশ অর্থছাড় করা হবে। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করায় প্রকল্পের মান বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, গত অর্থবছর বিশ্বব্যাংকের সাথে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঋণের চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিশ্বব্যাংক অনুদান দিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের চিমিয়াও কান্টি ডিরেক্টর ফা বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই সড়ক নেটওয়ার্ক বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সাইকোন ইত্যাদির কারণে এই নেটওয়ার্ক তিগ্রস্ত হয়। এ জন্য রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়িত হবে।
চুক্তি স্বার অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অপারেশন ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্র্রিজেস প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে গ্রামীণ যেসব সেতু রয়েছে সেগুলোর সংস্কার করা হবে। এ ছাড়া এসব সেতুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও প্রতিস্থাপন, প্রয়োজনীয় গ্রামীণ সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ সেতু নির্মাণের লে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দতা বৃদ্ধি, সমন্বিত অডিট ব্যবস্থাপনা, ডিজবার্সমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর (ডিএলআই) ভেরিফিকেশন এবং এলজিইডির দতা বৃদ্ধি করা হবে। এ প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্য দিকে দ্বিতীয় রুরাল ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল সংস্থাটি। প্রকল্পের আওতায় বন্যা ও দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টিতে তিগ্রস্ত এলাকার আওতাধীন ১৮টি জেলার এক হাজার ৪৩৩ কিলোমিটার উপজেলা ও ইউনিয়ন রাস্তা মেরামত, আবহাওয়া সহনশীল রাস্তার ডিজাইন এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

 


আরো সংবাদ