১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আমাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না : এরশাদ

-

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পরও আমাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এভাবে আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব। আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে আমি ভয় করি না।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বনানীর নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে গাড়ি থেকে না নেমেই নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। নির্বাচন সামনে রেখে পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না এরশাদকে। তার অসুস্থতার বিষয়ে জাতীয় পার্টির এবং মতাসীন দলের নেতাদের প থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেয়া হচ্ছিল সাংবাদিকদের। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই বনানীর নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে গাড়ি থেকে না নেমে নেতাকর্মীদের সামনে কয়েক মিনিট কথা বলেন এরশাদ।
তিনি বলেন, আজ বলতে এসেছি, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব। দলের নতুন মহাসচিবকে সহায়তা ও তার নির্দেশনা মেনে দলকে আরো গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করো। আমরা নির্বাচনে যাবো, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অনেক ভালো করবে। দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবো আমরা। তোমরা জাতীয় পার্টির পতাকা তলেই থেকো, কেউ যেন দল না ছাড়ে তিনি সে আহ্বানও জানান।
যদিও এর আগে বনানী অফিসে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মোবাইল ফোনে এরশাদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় পার্টি এখন কঠিন সময় পার করছে, আমরা ভেঙে পড়িনি। আগামীতে হয়তো আরো কঠিন সময় পার করতে হবে। সে জন্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কেউ যেন দল ছেড়ে যেওনা, কেউ নিরুৎসাহিত হইওনা। সবাই এমপি হতে পারে না, সবাইকে দলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ সুদিন আমাদের আসবেই। ভালো থেকো, সবাই।
এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘অসুস্থ’ এরশাদের সিএমএইচে ভর্তির খবর এলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির কো- চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঞা, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ কে এম আশরাফুজ্জামান খান, ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মোড়ল জিয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
জিএম কাদের বলেন, পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তারের পরামর্শেই আছেন। মেডিক্যাল বোর্ড মনে করলে, তিনি সিঙ্গাপুরেই চিকিৎসা নেবেন। এরশাদ রাজনীতিতে আছেন- তিনিই জাতীয় পার্টি পরিচালনা করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই এরশাদ নিচ্ছেন। যারা এরশাদের শাসনামলকে নিন্দা করেছেন, তারা বুকের ওপর হাত দিয়ে বলতে পারবেন না, এরশাদ-পরবর্তী সময়গুলো দেশের ভালো কেটেছে। এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে, এরশাদের শাসনামল নাকি পরবর্তী সরকারগুলোর শাসনামলে দেশ ভালো চলেছে।
জিএম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তার দেশ পরিচালনার দক্ষতা ও ক্ষমতা আছে। তাই দেশের মানুষ এখনো তার শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। দেশের মানুষ এখনো তাকে ভালোবাসেন। কিন্তু যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তারা শুধু এরশাদকেই ভয় পায়। কারণ তিনি সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। জাতীয় পার্টি চায় সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট ডাকাতি ও ব্যালট ছিনতাই জাতীয় পার্টি বিশ^াস করে না। নির্বাচন প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি ১৪ দলের সাথে অংশ নিয়ে মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচন করবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেছে। এবার আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা লাঙ্গলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে চাই।

 


আরো সংবাদ