১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আমিরাতের শ্রমবাজার ৬ বছর ধরে বন্ধ

কোন দেশের কর্মী কতজন তা গবেষণা করছে ইউএই : অতিরিক্ত সচিব
-

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটানা ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হয়ে আছে। কী কারণে দেশটির সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না সেই ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরাও কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন না। তবে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলছেন, যেকোনো সময় দেশটিতে আবারো বাংলাদেশী কর্মী যাওয়া শুরু হয়ে যাবে।
এদিকে আরব আমিরাতে এখনো বিপুলসংখ্যক অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বিদেশী শ্রমিক থাকায় দেশটির সরকার নতুন করে (২ ডিসেম্বর) আবারো এক মাসের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে প্রকৃত অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধ হওয়ার জন্য দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ইমরান আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল দুপুরের পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি (দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব) মো: আমিনুল ইসলাম তার দফতরে নয়া দিগন্তকে বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের আগের সচিব ড. নমিতা হালদারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি ইউএই সফর করেছিল। সেই দলে আমিও ছিলাম। এবার আমরা দেশটি সরেজমিন ভিজিট করার উদ্দেশ্যই ছিল, আসলেই ওদের ওয়ার্কারের চাহিদা আছে কি-না? যদি দেখি ওয়ার্কারের চাহিদা আছে, তাহলেই আমরা তাদের সাথে বসব। মূলত এবার আমরা গেলেও সরকারিভাবে কোনো বৈঠক করিনি। শুধু ওই দেশে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং আমাদের প্রবাসী লোকজন যারা আছে, তাদের সাথে কথা বলার জন্য গিয়েছি। একটানা ছয় বছর ধরেই দেশটিতে শুধু বাংলাদেশী শ্রমিক যাওয়াই বন্ধ রয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন ফলোআপ রিপোর্ট হচ্ছে, আমরা অপেক্ষা করছি ইউএই সরকার যেকোনো সময় শ্রমবাজার খুলে দেবে। এরই মধ্যে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া তাদের জানিয়েছি। এখানে ইউএই সরকারেরও একটা হিসাব আছে। বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে সব লিখিত হয়েছে। এর বাইরে তাদের দেশেও কোনো রাজনীতির বিষয় থাকতে পারে বা অভ্যন্তরীণ কোনো কিছু থাকতে পারে।
অভ্যন্তরীণ কী বিষয় থাকতে পারে জানতে চাইলে সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউনাইটেড আরব আমিরাতের নিজস্ব লোক সংখ্যা হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৯ লাখ। কিন্তু সেখানে আছে প্রায় এক কোটি মানুষ। অর্থাৎ বিদেশী লোকজনই আছে সাড়ে ৯১ লাখের মতো। এর মধ্যে ভারতের ২৫ লাখ, পাকিস্তানের ১৫ লাখ আর বাংলাদেশের আছে ১০ লাখের মতো। এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করছে বলে আমরা রাষ্ট্রদূতের কাছে শুনেছি। তারা আসলে এই মুহূর্তে কোন দেশ থেকে লোক নেয়া যেতে পারে সেটির গ্রাফ তৈরি করছে। ওরা চাচ্ছে না ওদের দেশটা কোনো দেশের মানুষ দ্বারা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ুক? যদিও সেখানে জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদশের অবস্থান ৩ নম্বরে। ওই হিসাবে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত বলছেন, এটি নিয়েও তারা হিসাব-নিকাশ করছেন। এর জন্যই মূলত দেরী হচ্ছে।
গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর বিভাগের দায়িত্বশীল দুইজন কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলেও তারা টেলিফোন ধরেননি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে অনেকভাবে দেনদরবার করার পরও অদ্যাবধি দেশটিতে বাংলাদেশী কর্মী যাওয়ার পথ বন্ধ রয়েছে। তবে দেশটির সরকার নতুন করে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসং¯প্রণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ওই আশাবাদ দেয়ারও কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। তারপরও শ্রমিক যাওয়ার কার্যক্রম রহস্যজনক কারণে শুরু হচ্ছে না।
ইউএই এর শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানিকারকদের কেউ সিন্ডিকেট করার চিন্তাভাবনা করছে কি-না জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এমন কোনো ধরনের কথা আমার জানা নেই। তাছাড়া সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকেরা যেকোনো দেশে কর্মক্ষেত্রে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তারা কম বেতনে চাকরি করতে পারে। তাদের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা আমাদের কর্মীদের ঠকাই।

 


আরো সংবাদ