১১ ডিসেম্বর ২০১৮

চার দিকে বিজয়ের রব

-

একের পর এক মুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন এলাকা। চার দিকে শুধু বিজয়ের ধ্বনি। শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের পর্ব। যশোর মুক্ত হয় এই দিন সকালে। সিলেট মুক্ত হয় বিকেলে। পাকিস্তান বাহিনীর বহু সেনা আত্মসমর্পণ করে এখানে। সকালে পাকিস্তান বাহিনী সুনামগঞ্জ থেকে পিছু হটে। বিনাযুদ্ধে মুক্ত হয় সুনামগঞ্জ। মৌলভীবাজার মুক্ত হয় এ দিন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সাথে কালেঙ্গায় পাকবাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই হয়। একপর্যায়ে তারা অবস্থান থেকে পিছু হটে। মুক্ত হয় গৌরিপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, চরখা, ছাতক, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহসহ আরো বহু এলাকা।
প্রতিবেশী দেশ ভুটানও ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এ দিকে পূর্ববর্তী দিবসে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পাকিস্তান সরকার দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
যুদ্ধের এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জিওসি লে. জে. আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর পরামর্শে গভর্নর ডা: এম এ মালেক জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর জরুরি বার্তা পাঠান। বার্তায় রাজনৈতিক সমাধানের পরামর্শ এবং যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রতিনিধি দুইবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলে। কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেয়। ফলে বাতিল হয়ে যায় সে প্রস্তাব। এ দিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুহার্তো প্রস্তাব দেন যদি ভারত ও পাকিস্তান অনুরোধ করে তাহলে দুই দেশের মধ্যে তিনি মধ্যস্থতা করতে রাজি আছেন। বিশ্বের বহু দেশ এ প্রস্তাবে সায় দেয়। যা হোক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বে যতই উদ্বেগ বাড়তে থাকে বিজয়ও তত ঘনিয়ে আসতে থাকে।


আরো সংবাদ