১১ ডিসেম্বর ২০১৮
একক প্রার্থী নিশ্চিতে তৎপর কেন্দ্র

বিদ্রোহীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স আ’লীগের

-

আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দলটি। সে অনুযায়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের আজীবন বহিষ্কার করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই কেন্দ্রের এই সতর্কবার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি জোট নির্বাচনী মাঠে থাকায় এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে খুব সিরিয়াস আওয়ামী লীগ। কেউ যাতে দলীয় বা জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা না করে সে ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা। গণভবনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানেও বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তবুও এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭০টি আসনে আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তার মধ্যে প্রায় অর্ধশত প্রার্থীর মনোনয়নফরম ইতোমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে আপাতত স্বস্তি আসে আওয়ামী লীগে। তবে প্রত্যেক আসনে দলের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে মাঠে থাকা বাকিদের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে দলটি।
জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনে সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহি, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, মেহেরপুর-১ আসনে জয়নাল আবেদিন, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বর্তমান এমপি মকবুল হোসেন, পিরোজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি এ কে এম এ আউয়াল, পিরোজপুর-৩ আসনে আশরাফুর রহমান ও ডা: আনোয়ার হোসেন এবং নরসিংদী-৩ আসনের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লাসহ অনেকে। এ ছাড়া কয়েকটি আসনে মনোনয়ন দেয়া উভয় প্রার্থীই মাঠে রয়েছেন। তাদের অনেকেই দলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে এখনো আশাবাদী। তারা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তের অপোয় রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্র জানায়, দল মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে থাকা এসব প্রার্থীর ব্যাপারে উদ্বিগ্ন দলের হাইকমান্ড। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী জোট নির্বাচনী মাঠে থাকায় জয়ের পথে প্রধান বাধা হিসেবে এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সে জন্য নির্বাচনী মাঠ থেকে তাদের সরিয়ে দলের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। দলের বিদ্রোহীদের সরাতে চার কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেয়ার পর কাজ শুরু করেছেন তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক গত দুই দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে কথা বলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবার কেউ প্রার্থী হলে তাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ডাকা হয়েছে কয়েকজনকে। এমন প্রেক্ষাপটে কয়েকজন প্রার্থী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলেও কেন্দ্রকে আশ্বস্ত করেছেন। তবে বাকি কয়েকজন প্রার্থী এখনো নির্বাচনের ব্যাপারে অটল।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান তিন সংসদ সদস্য এম এ আওয়াল, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও মকবুল হোসেন তাদের নির্বাচনে থাকার কথা কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছেন। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়া শ ম রেজাউল করিমকে, নরসিংদী-৩ আসনের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ব্যবসায়ী জহিরুল হক ভূঞা মোহনকে এবং মেহেরপুর-২ আসনের এমপি মকবুল হোসেন নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামান খোকনকে চ্যালেঞ্জ করতে চান। তবে দল থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তিন এমপিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। এর ফলে বিদ্রোহী দমনের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে আমাদের জন্য। আমরা যেটা শক্তি প্রয়োগ করে করতাম তা নির্বাচন কমিশন কৌশলে আইনিভাবেই করে দিয়েছে। তবে জোটের জন্য ছেড়ে দেয়া কিছু আসনে কৌশলগত কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী রাখার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ শৈথিল্য দেখাবে। এ ছাড়া বাকি বিদ্রোহীদের ব্যাপারে হার্ডলাইনে যাবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে টিমের অন্যতম সদস্য আব্দুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছি। এরই মধ্যে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, তাদের প্রায় সবাইকে ফোন করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানিয়ে দিয়েছি। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের। আমরা আশা করছি এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।


আরো সংবাদ