১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার

রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

-

রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। তিনি বলেন, উদ্বাস্তু সমস্যার মূল কারণ সুরাহার দায়িত্ব মিয়ানমারের। আনান কমিশনের দেয়া সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
কক্সবাজারে তিন দিন সফর শেষে গতকাল মার্কিন দূতাবাস থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের পর আর্ল মিলার প্রথমেই কক্সবাজার যান। তিনি উখিয়া ও টেকনাফে বেশ কয়েকটি উদ্বাস্তু শিবিরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ও শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আর্ল মিলার কুনারপাড়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো লাইনে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের ওপর চালানো নৃশংসতার কাহিনী শুনেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসঙ্ঘ ও এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। শরণার্থীদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতিকে তিনি স্বাগত জানান। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দু’টি ইউনিট ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচজন সদস্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কথা রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন।
আর্ল মিলার যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অভিন্ন স্বার্থ দ্বারা চালিত হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর গত বছর আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তু ও স্থানীয় মানুষের জন্য ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র ২০ কোটি ডলার দিয়েছে।


আরো সংবাদ