১৬ জানুয়ারি ২০১৯

হজের কোটা দেড় লাখ চায় বাংলাদেশ

হজের কোটা দেড় লাখ চায় বাংলাদেশ - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ হজের কোটা বাড়িয়ে দেড় লাখ করার দাবি জানাবে সৌদি সরকারের কাছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। গত তিন বছর ধরে এই কোটায় হজযাত্রী পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। মূলত আদমশুমারির আলোকেই সৌদি সরকার হজের কোটা নির্ধারণ করে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৭ সালের হিসাব মতে বাংলাদেশের জনংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার জন। এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৮৮.৪ শতাংশ। তবে সৌদি সরকার ২০১১ সালের আদমশুমারির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য কোটা নির্ধারণ করে থাকে। ওই শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ২৩ লাখ। 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানান, ইতোমধ্যেই কাউন্সিলর হজ মো: মাকসুদুর রহমান সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আগামী হজের জন্য বাংলাদেশের কোটা বাড়িয়ে দেড় লাখ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসাবে, বাংলাদেশের বর্তমান মুসলিম জনসংখ্যা অনুযায়ী হজের কোটা ১ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা। কিন্তু সৌদি সরকার গত তিন বছর ধরেই সর্বশেষ আদমশুমারির হিসাবেই হজের কোটা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হজযাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছর এক লাখের বেশি হজযাত্রী কোটার অতিরিক্ত থেকে যাচ্ছে। 

আনোয়ার হোসেন জানান, আগামী ১৩ ডিসেম্বর সৌদি আরবে আগামী হজের জন্য সৌদি সরকারের সাথে হজচুক্তি হবে। হজচুক্তির জন্য ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এবং ধর্মসচিবের নেতৃত্বে অপর ৫ সদস্যের সহায়ক প্রতিনিধিদল আগামী ১১ ডিসেম্বর সৌদি আরব যাচ্ছেন। হজচুক্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে প্রতিনিধিদলের আগামী ২০ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

তবে হজচুক্তির প্রতিনিধিদলে ধর্মমন্ত্রীর নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে ধর্মমন্ত্রী নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না অনেকে সন্দেহ করছেন। আসন্ন নির্বাচনের কারণে গতকালই ধর্মমন্ত্রীর শেষ কর্মদিবস ছিল এমন একটি গুঞ্জন শোনা গেছে। মন্ত্রী না থাকলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন নাÑ এমনটিই জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে ধর্মসচিব আনিছুর রহমান চুক্তিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে জানা গেছে। 
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বিষয়ক পোর্টালে দেয়া প্রাক নিবন্ধনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের হজের জন্য অপেক্ষমাণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৫ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় অপেক্ষমাণ হজযাত্রী ৬ হাজার ২১২ জন। এ হিসাবে আগামী হজেও যদি ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা বহাল থাকে তাহলে সরকারি কোটার ১০ হাজার বাদ দিয়ে বেসরকারি কোটা ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন ধরা হলে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন কোটার অতিরিক্ত হয়ে যায়।

সরকার হজযাত্রীদের সুবিধার্থে হজের প্রাক নিবন্ধন সারা বছর চালু রেখেছে। সৌদি মোয়াল্লিম ফি-এর টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়েই হজের প্রাক নিবন্ধন করা যায়। অবশ্য হজের আগে নির্ধারিত সময়ে সমুদয় টাকা পরিশোধ করে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে হজের মূল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। মূল নিবন্ধিতরাই হজে যেতে পারেন। 
হজযাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ধর্ম মন্ত্রণালয় কয়েক বছর ধরেই হজের কোটা বৃদ্ধির জন্য সৌদি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে। কিন্তু সৌদি সরকার সরকারি আদমশুমারির হিসাবের বাইরে কোনো দেশকেই হজের কোটা দেয় নাÑ এমন কথা জানিয়ে বাংলাদেশের দাবি ইতঃপূর্বে আমলে নেয়নি।

জানা গেছে, ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল দ্বিপক্ষীয় হজচুক্তি করবেন। তাতে হজের কোটা ছাড়াও হজযাত্রী পরিবহনের বিষয়সহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে। প্রতিনিধিদলে ধর্ম ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছাড়াও হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ( হাব) মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমও রয়েছেন। 

আর সহায়ক প্রতিনিধিদল হজ চুক্তির পর মক্কা হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মোয়াচ্ছাসা, মদিনা হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (আদিল্লা), জেদ্দা পরিবহন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সৌদি বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ইউনাইটেড কার এজেন্সি সিন্ডিকেট ও ই হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সহায়ক চুক্তি সম্পাদন করবেন। সহায়ক দলে অন্যান্যের মধ্যে হজের আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: জাহিদুল হাসান মিতুল রয়েছেন।


আরো সংবাদ