১৬ জানুয়ারি ২০১৯

আটকে পড়া জাহাজে অচল বিস্তীর্ণ চর

পার্কি সমুদ্র সৈকতে দেড় বছর ধরে আটকে থাকা জাহাজ - নয়া দিগন্ত

২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘতে নোঙর ছিড়ে পার্কি সমুদ্র সৈকতে আটকে যাওয়া মালবাহী জাহাজ ক্রিস্টাল গোল্ড উদ্ধার বা সরিয়ে নেয়া হয়নি দেড় বছরেও। সৈকতে দীর্ঘ দিন ধরে বিশাল আকারের জাহাজটি আটকে থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে চর জেগে উঠায় হুমকির মুখে রয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম বিনোদন স্পট পার্কি সমুদ্র সৈকত। একই কারণে এ এলাকার জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে নয়া দিগন্তে কয়েকটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধার বা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়নি।

এ দিকে প্রতিনিয়তই পার্কি সৈকতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। গত ৪ জানুয়ারি গিয়ে দেখা গেছে সৈকতজুড়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

চট্টগ্রাম নগরীর উপকণ্ঠে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসারের মোহনায় আনোয়ারা উপজেলার বারশত ও রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠেছে পার্কি সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম নগরবাসী ও বিভিন্ন উপজেলার দর্শনার্থীদের হাতের নাগালে হওয়ায় এই বিনোদন স্পটে প্রতিনিয়তই ভিড় বাড়ছে। আর এ বিনোদন স্পটে গত দেড় বছর ধরে আটকে আছে ক্রিস্টাল গোল্ড নামে বিশাল মালবাহী জাহাজ। এ কারণে বিশাল এলাকা নিয়ে জেগে ওঠেছে চর।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের গত ২৮ মে গভীর সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা ভয়াবহ রূপ নেয়। এর ফলে চট্টগ্রামে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদফতর। পরবতীঁতে গত ৩০ মে সকালে ঘূর্ণিঝড় মোরা চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে প্রচণ্ড বাতাসে নোঙর ছিড়ে পার্কি সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়ে বিশাল আকারের মালবাহী জাহাজ ক্রিস্টাল গোল্ড। জাহাজের মালিক পক্ষ অনেক চেষ্টা করেও জাহাজটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারেনি বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসংরক্ষণ কর্মকর্তা (মেরিন) ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, ওয়ান্ডার ক্রিস্টাল নেভিগেশন আগ্রাবাদ চট্টগ্রামের মালিকানাধীন এমভি ক্রিস্টাল গোল্ড ২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার দাপটে আটকে যায়। পরবর্তীতে ফোরস্টার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি টাকায় আটকে পড়া জাহাজটি কেনে এবং জাহাজটি কেটে নেয়ার জন্য পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন করে। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া জাহাজ কাটার খবর পেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই কোটি টাকা অর্থদণ্ড করেন পরিবেশ অধিদফতর।

এ ব্যাপারে ৭ জানুয়ারি টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া জাহাজ কাটার অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানেকে দুই কোটি টাকা অর্থদণ্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৯৯৫ সালের বর্জ ব্যবস্থাপনা আইন মোতাবেক জাহাজ কাটার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবস্থা নেই। তা ছাড়া নির্দিষ্ট ডক ছাড়া জাহাজ কাটার কোনো নিয়মও নেই।


আরো সংবাদ