১৬ জানুয়ারি ২০১৯

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে আটক ১০

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত দুই দিনে সাক্ষাতকার ও ভর্তি হতে আসা ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে দিয়ে কর্তৃপক্ষ। আটককৃতরা সবাই ভর্তি পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকারী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুধবার সাক্ষাতকার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমদিন ৭ জন এবং দ্বিতীয়দিন ৩ জনসহ মোট ১০ শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির কারণে আটক করা হয়। আটককৃত এসব শিক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকার শীর্ষ স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার আটককৃতরা হলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২য় স্থান অধিকারকারী ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মোস্তাফিজুর রহমান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ২য় স্থান অধিকারকারী সিরাজগঞ্জ জেলার মাহিদুল ইসলাম রিদুল, একই অনুষদের ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারকারী টাঙ্গাইল জেলার রেজাউল করিম। অন্যদিকে বুধবার আটকরা হলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন শিফটে মেধা তালিকায় ১ম স্থান অধিকারকারী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মারুফ হাসান, একই অনুষদের ২য় স্থান অধিকারকারী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাকিবুল ইসলাম শান, ৩য় স্থান অধিকারকারী গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার এস এম নাইম, ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারকারী টাঙ্গাইল সদরের শোয়েব হাসান, ৯ম স্থান অধিকারকারী টাঙ্গাইল গোডাউন বাজারের শাহরিয়ার ইসলাম, ৩৮তম স্থান অধিকারকারী শেরপুরের মধ্যশ্রেরীর রাহাত মজুমদার এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের ২য় স্থান অধিকারকারী ঠাকুরগাঁওয়ের গোয়ালপাড়ার শাফিন আহমেদ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘আটক শিক্ষার্থীদের জালিয়াতি প্রমাণ পাওয়ায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটকের কারণ জানতে চাইলে প্রক্টর আরও জানান, সাক্ষাৎকারে কথাবার্তায় অসঙ্গতি, স্বাক্ষরে অমিল এবং সাক্ষাৎকার দিতে আসা শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রবেশপত্রের ছবির অমিল থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সাক্ষাৎকার বোর্ডের সদস্যরা। পরে তারা জালিয়াতির বিষয় স্বীকার করে। তিনি আরও বলেন, আমরা আটককৃত সকলের বিরুদ্ধে মামলার এজহার দায়ের করেছি। প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি দুইদিনে মোট ১০ জনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ থেকে ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছয়টি অনুষদের অধীন ২১টি বিভাগে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


আরো সংবাদ