১৬ জানুয়ারি ২০১৯

মোদিকে হারাতে মায়াবতী-অখিলেশ জোট

-

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) হারাতে দীর্ঘ দিনের শত্রুতা ভুলে জোট গড়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) মায়াবতী ও সমাজবাদী পার্টির (এসপি) অখিলেশ যাদব। তাদের দল মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৩৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং কংগ্রেসকে ছেড়ে দেয়া হবে দু’টি আসন। হিন্দুস্তান টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

উত্তর প্রদেশে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ও অখিলেশের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টির (এসপি)। উভয় দলের নেতাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শনিবার লখনৌতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জোট গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন এ দুই নেতা। অখিলেশের উপস্থিতিতে মায়াবতী বলেন, এই জোট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি প্রধান অমিত শাহের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে। জোট গঠনকে রাজনৈতিক বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করে অখিলেশ বলেন, বিজেপির ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া মনোভাবকে লাগাম দিতে এই একাট্টা হওয়া প্রয়োজন ছিল।

কংগ্রেসের জন্য যে দু’টি আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে সেগুলোতে দলটির প্রার্থীরা সব সময় জয়ী হয়ে আসছেন। একটি আসনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং আরেকটি আসনে তার মা সোনিয়া গান্ধী অতীতে নির্বাচন করেছেন।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ। নব্বই দশকে কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আসন জয়ীরা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে।

গত মাসে তিনটি রাজ্যে নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা ছাড়ার পরই বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধীরা নড়েচড়ে বসেচে। ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর মোদির এটাই সবচেয়ে বড় নির্বাচনী পরাজয় ছিল। ২০১৭ সালের মার্চে বিজেপি, এসপি ও বিএসপি এককভাবে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ওই নির্বাচনে বিজেপি সহজ জয় পায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসপি-বিএসপি জোটবদ্ধ হওয়ার ফলে ক্ষমতাসীনদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে। কারণ রাজ্যে বিজেপির ভোট ৪০ শতাংশ আর এসপি ও বিএসপির মোট ভোট ৪৪ শতাংশ।

সাম্প্রতিক পরাজয়ের পরও নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি। দলটির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে আমরা ৭৪টিতে জয় পাবো। অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ অন্যতম একটি পশ্চাৎপদ রাজ্য। সেখানে অপরাধের হারও বেশি। স্বাক্ষরতার হারও অনেক কম। রয়েছে বেআইনি অস্ত্রের ব্যাপক ছড়াছড়ি । মানব উন্নয়নের সূচকও নিম্ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধিও বেশি।

 


আরো সংবাদ