২১ মার্চ ২০১৯

জাবিতে ১৮তম পাখিমেলা অনুষ্ঠিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখিমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম - নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে শুক্রবার পাখি সংরক্ষণে গণ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৮তম পাখিমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শীতের সকালে অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসে খুবই আনন্দ পান। পাখিমেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিনত হয়। মেলায় দেশীয় হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি (প্রাণহীন) প্রদর্শন করা হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা তা দেখে উৎসাহিত হন।

বেলা সাড়ে ১১ টার সময় পাখি মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এ মেলার উদ্বোধন করেন। জাবি উপাচার্য এ সময় বলেন, পাখি থাকলে গাছ থাকবে, গাছ থাকলেই ফুল ও ফল থাকবে। একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে মানবজাতি। পাখির অভয়ারণ্য নিশ্চিত করতে হলে সুন্দর এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশ ধরে রাখতে হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর শীত মৌসুমে রকমারি প্রজাতির পরিব্রাজক পাখি এখানকার জলাশয়ে আসে।

উপাচার্য আরো বলেন, বিগত শতকের ষাট ও সত্তর দশকের বর্তমান ইট পাথরের ঢাকা শহর ছিলো সবুজ। অনেক জলাশয় ছিল। সেখানেও পাখি আসতো। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙতো। এখন সেই ঢাকা নেই। জলাশয় ভরাট, ইট, পাথর, কংক্রিটের নানাবিধ কাজের মধ্যদিয়ে মানুষ সবুজ প্রকৃতি ও পাখ-পাখালির ঢাকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে এখন আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

দিনব্যাপী এ পাখি মেলার আয়োজনের মধ্যে ছিল- আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিওয়ের মাধ্যমে পাখিচেনা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কারবিতরণী অনুষ্ঠান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মোঃ মনজুরুল হক, পাখিবিশারদ ড. ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, কথাসাহিত্যিক আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আরো সংবাদ