২৪ মে ২০১৯

বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়েও বকেয়া বিলের মামলায় কারাগারে মতিন মিয়া

দিনমজুর আবদুল মতিন মিয়া - নয়া দিগন্ত

মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়েও বকেয়া বিলের মামলায় দিনমজুর আবদুল মতিন মিয়ার (৪৫) কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেবিদ্বার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মৃণাল কান্তি চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও বাঙ্গরা-দৌলতপুর জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজুর রহমানকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান। তদন্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কারারুদ্ধ আবদুল মতিন মিয়ার স্ত্রী আমেনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমরা খুব গরিব। টাকা দিয়েও আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। তার পরও বকেয়া বিলের মামলায় আমার স্বামীকে জেলে যেতে হয়েছে। আপনারা আমার স্বামীকে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

মোচাগড়া এলাকার মানিক মাস্টার, সৈয়দ তরুণ মিয়া, যুবলীগ নেতা সেলিম সরকার ও মনির হোসেন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কর্মচারীদের খামখেয়ালি ও গাফিলতির কারণে এবং উৎকোচের বিনিময়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিরপরাধ আবদুল মতিন মিয়া গ্রেফতার হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে। নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থাসহ ক্ষতি পূরণের দাবি জানাই। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

দেবিদ্বার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও তদন্ত কমিটির প্রধান মৃণাল কান্তি চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আবদুল মতিন নামের মিটারটি প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে সফিকুল ইসলামের বাড়িতে সংযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সফিকুল ইসলামও বিষয়টি অফিসকে জানায়নি এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি। আবদুল মতিন নোটিশ পেয়েও তার ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় বিষয়টি আমলে নেয়নি। এর ফলে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, মোচাগড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বিদ্যুৎহীন ২৫৬টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য চার বছর আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কাছে আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় মৃত আবুল কাশেম ওরফে অহিদ আলীর ছেলে বিদ্যুৎ অফিসের দালাল আবুল কালাম আজাদ ও মৃত আলফু হাজীর ছেলে বিদ্যুৎ অফিসের দালাল আবুল বাশার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা আদায় করেন। ওই সময় মৃত অহিদ আলীর ছেলে আবদুল মতিন মিয়ার নামেও কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগের ফাইল অনুমোদন করে।

কিন্তু আবদুল মতিন মিয়া দালালদের ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে আবদুল মতিন মিয়ার ছবি পাল্টিয়ে একই এলাকার মৃত আবদুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে দেয়। বিগত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ আবদুল মতিন মিয়ার মিটারটি প্রায় সোয়া কিলোমিটার দূরে সফিকুল ইসলামের ঘরে সংযোগ প্রদান করলে তিনি ১৭ মাস বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে।

১৭ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল চার হাজার সাত টাকা আদায়ের জন্য কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল বাদি হয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মঙ্গলবার রাতে এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবদুল মতিন মিয়াকে আটক করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিদ্যুৎ অফিসের দালাল অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাশারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইন ফোন বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি।


আরো সংবাদ