২০ অক্টোবর ২০১৯

কলেজছাত্রী ধর্ষণ : সেই পৌর মেয়রের ছেলের জামিন বাতিল

জাজিরায় কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত জাজিরা পৌরসভার মেয়র পুত্র মাসুদ - সংগৃহীত

গ্রেফতারের ৮ দিনের মাথায় জামিন বের হয় শরীয়তপুরের জাজিরায় কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত জাজিরা পৌরসভার মেয়র পুত্র মাসুদ। এরপর জামিন হওয়ার তিন দিনের মাথায় ফের কারাগারে পাঠিয়েছেন দায়রা জজ আদালতের বিচারক। বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর আদালতে হাজির হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।

এর আগে গত ৩০ জুন গ্রেফতার হয় মাসুদ। মাত্র ৮ দিনের মাথায় জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী কলেজ ছাত্রি ধর্ষন মামলায় অভিুক্ত মাসুদকে অন্তরবর্তীকালিন জামিন দিয়েছিলেন। মামলার আসামী জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনছ বেপারীরর ছেলে মাসুদ বেপারী জামিনে বের হয়ে মামলার ভিকটিমকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ এনে জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন ভিকটিমের বাবা। মাসুদ বেপারিকে জামিন দেয়ার পর ফুঁসে উঠে শরীয়তপুরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের লোকজন। তারা ১০ জুলাই শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা পৌর এলাকার আরাচন্ডি গ্রামের মেয়ে জাজিরা ডিগ্রী কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রি ও জাজিরা মডার্ন ক্লিনিকের স্টাফ এর সাথে একই এলাকার শরীফ সরদারের প্রেম বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে শরীফ তাকে বিয়ে করার কথা দেয়। এমনিভাবে দীর্ঘ দিন চলার মধ্য দিয়ে শরীফ কলেজ ছাত্রীকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটে নিয়ে কেটে পরে। এক পর্যায়ে গত ২৯ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অসহায় ঐ কলেজ ছাত্রীকে জাজিরা পৌরসভার মেয়র মোঃ ইউনুছ বেপারীর ছেলে মাসুদ বেপারী শরীফের সাথে তার বিয়ের ফয়সালা করে দেয়ার কথা বলে ফোন করে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এর পর মাসুদ কলেজ ছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় মাসুদ বাথরুমে গেলে মেয়েটি কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। ঐ রাতেই বিষয়টি পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে মাসুদ বেপারীকে আটক করে।

৩০ জুন ওই মেয়েটি ও তার বাবা দুপুরে জাজিরা থানায় হাজির হয়ে মাসুদসহ দুইজনকে আসামী করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ১ জুলাই আদালতের মাধ্যামে মাসুদকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুলাই তার জামিনের আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। এ সময় জাজিরা থানার ওসি তদন্ত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শেখ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জামিন ও রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করেন। ৮ জুলাই আসামী মাসুদ বেপারীর আইনজীবী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পূনরায় জামিন আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মুঞ্জুরী ধর্ষণ মামলার আসামী মাসুদকে জামিনে মুক্তির আদেশ প্রদান করেন।

ধর্ষক মাসুদ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ধর্ষিতা মেয়েটির পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল মেয়েটির পরিবার এমন অভিযোগ এনে ১০জুলাই বুধবার দুপুরে জাজিরা থানায় ঘটনার শিকার ওই মেয়েটির বাবা এবং মামলার বাদী নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এর আগে একই দিন বুধবার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কামিশন, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর আদালতে হাজির হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। এ সময় আদালতে ঘটনার শিকার ওই কলেজ ছাত্রী ও তার মা-বাবা উপস্থিত ছিলেন ।

শরীয়তপুর জেলার রাষ্ট পক্ষের আইনজীবী মির্জা হজরত আলী বলেন, ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত জাজিরা পৌরসভার মেয়রের ছেলে মাসুদ বেপারীকে অন্তর্বতিকালীন জামিন দেয়া হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার তার আদালতে হাজিরা দেওয়ার ধার্য তারিখ ছিল। অভিযুক্ত মাসুদ বেপারী আদালতে হাজিরা দিতে আসলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস তার জামিন বাতিল করে তাকে আবারো জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

 


আরো সংবাদ