২৫ আগস্ট ২০১৯

রুপালি পর্দা কাঁপানো নায়ক সাত্তার এখন শুধু শিশুর মতো কাঁদেন

রুপালি পর্দা কাঁপানো নায়ক সাত্তার এখন শুধু শিশুর মতো কাঁদেন - নয়া দিগন্ত

চিত্রনায়িকা শাবানা থেকে শুরু করে রোজিনা, অঞ্জু, জিনাত, কবিতা, অলিভিয়া, রানীসহ অনেক সুপার হিট নায়িকার নায়ক ছিলেন তিনি। রুপালি পর্দায় তাকে দেখতে একসময় হুমড়ি খেয়ে পড়তেন সিনেমার দর্শকেরা। দাপুটে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে সাড়াজাগানো সেই নায়ক সাত্তার আজ দৈন্যদশায়। প্যারালাইসেসে অচল হয়ে গেছে তার দু’টি পা ও এক হাত। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগরের জীর্ণশীর্ণ বাড়িতে বিছানায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে আছেন আশির দশকের সুপারস্টার চিত্রনায়ক সাত্তার। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে হার্টঅ্যাটাক করেন নায়ক আবদুস সাত্তার। এরপর ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৮ সালে ব্রেনস্টোক করেন তিনি। এ ছাড়া শরীরের নানা জটিলতা ধরা পড়ে পুরোদমে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। 
দিন-রাত বিছানায় শুয়ে কাটছে তার। কাউকে দেখলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। বলতে চান তার দুঃখের কথা। নারায়ণগঞ্জের নিজ বাড়িতে নয়া দিগন্তের সাথে কথা হয় নায়ক আবদুস সাত্তারের। এ সময় তার পাশে ছিলেন ‘নারায়ণগঞ্জ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশন (নাফ)’- এর একঝাঁক শিল্পী। 

একসাথে এত শিল্পীর উপস্থিতি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন একসময়ের সুপার ডুপার বহু বাংলা চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করা এই নায়ক। এ সময় শিল্পীরা তাকে সান্ত্বনা দেন এবং তার সাথে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। একটু পরপর শিশুদের মতো উপস্থিত শিল্পীদের নাম ধরে কেঁদে উঠতে দেখা গেছে তাকে। এ সময় নাফ-এর পক্ষ থেকে তার হাতে সামান্য অনুদান তুলে দেয়া হয়।

আশির দশকে ইবনে মিজানের পরিচালনায় রূপকথাভিত্তিক ‘পাতাল বিজয়’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে সূচনা হয় রোমান্টিক এ নায়কের। ছবিটি ব্যবসা সফল হওয়ার পর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। 
এরপর একে একে পোশাকি সিনেমার শক্তিমান অভিনেতা আবদুস সাত্তার অভিনয় করেনÑ রঙ্গীন রাখাল বন্ধু, রঙ্গীন রূপবান, সাত ভাই চম্পা, আলো মতি প্রেম কুমার, মধুমালা মদন কুমার, সাগরকন্যা, শীষমহল, ঝড় তুফান, ঘরভাঙ্গা সংসার, জেলের মেয়ে রোশনীসহ বহু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রে। সেই সময় চিত্রনায়িকা শাবানা থেকে শুরু করে অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু, জিনাত, কবিতা, রানীসহ অনেক সুপার হিট চিত্রনায়িকার সাথে দাপুটে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে সাড়া ফেলেছিলেন আবদুস সাত্তার। 

পারিববারিক জীবনে তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক নায়ক আবদুস সাত্তার। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, বাকি দুই মেয়ে ও এক ছেলে পড়াশোনা করছে। 

জানা গেছে, প্রায় বছর ১৫ আগে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে কোনো এক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে গিয়ে নামাজের জন্য অজু করার সময় প্রথম স্ট্রোক করেন তিনি। এরপর আরো একাধিকবার স্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ধীরে ধীরে দানা বাঁধে তার শরীরে। এভাবে আজ তিনি অচল প্রায় শরীর নিয়ে শয্যাশায়ী। 

নায়ক আবদুস সাত্তারের স্ত্রী কাকলী বেগম  শুক্রবার নয়া দিগন্তকে জানান, প্রায় দুই বছর ধরে নায়ক সাত্তার অচল হলে বিছানায় পড়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসা বাবদ ৩০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রায় চার বছর আগে। সেই টাকা ব্যয় হয়ে গেছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরো একটা আবেদন দিয়েছেন তিনি। 
তিনি জানান, টাকার অভাবে যেখানে তিন বেলা পেটভরে খাওয়াই মুশকিল, সেখানে তার চিকিৎসার টাকা জোগানো আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

মানবাধিকারকর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বলেন, নায়ক আবদুস সাত্তার শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, চলচ্চিত্র জগতের একজন নক্ষত্র ছিলেন। আজ তিনি অচল হয়ে শয্যাশায়ী। এ গুণী শিল্পীর দুর্দিনে আমাদের কিছু করা উচিত।


আরো সংবাদ