১৯ আগস্ট ২০১৯

রাজবাড়ীতে হাজারো মানুষ পানিবন্ধী, সংকটে দিশেহারা

পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার মানুষ তাদের গবাদিপশু নিয়ে পানিবন্ধী হয়ে পরেছে। পানিবন্ধী মানুষরা পাশের উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতরা এপর্যন্ত কোন ত্রাণ বা কোন সাহায্য পায়নি। বিশুদ্ধ পানি ও স্যনিটেশনের সংকটে তাদের জীবন হাহাকার অবস্থায়। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। একই সাথে রোগ, শোক আর বিষধর সাপের ভয় তো আছেই ।

শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ধবপুর, হরিনবাড়ীয়া, লস্করদিয়া, কৃষননগর, ভবানীপুর, হরিনাডাঙ্গা, চররাজপুর, বিজয়নগর, নারানপুর, আলোকদিয়া, বল্লভপুর, ভাগলপুর, বাগঝাপা, গংগানন্দপুর, কামিয়া, কালুখালী, পাড়াবেলগাছী ও গতমপুর গ্রাম ডুবে গেছে ।

বাড়ীর উঠানে ২ ফুট পানি। তার উপর দাঁড়িয়ে কথা হয় কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার ১ দাগের বাসিন্দা জহুরা বেগমের সাথে। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বাড়ীর আশপাশে কোন পানি ছিলো না। রাতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়ী তলিয়ে গেছে। ঘরে সঞ্চিত খাবার নেই, নেই বিশুদ্ধ পানি। পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটছে। পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার শতাধিক মানুষ একই কথা জানালেন।

কালুখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর মৌজার স্কুল ছাত্রী সাহেবা খাতুন। তিনি কালুখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী। সাহেবা জানায়, দ্রুত বন্যার পানিতে বাড়ীঘর রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। ঘরে সঞ্চিত খাদ্য না থাকায় তাদের পরিবারে চরম খাদ্য সংকট চলছে।

একই গ্রামের শরিফা বেগমের ঘরের মাচার নিচে পানি। ৪ সন্তান নিয়ে তিনি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। ওই গ্রামের কনা খাতুন, ইতি আক্তার সবাই একই কথা জানালেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী মনো জানালেন, নারানদিয়া এলাকার ২ শতাধিক পরিবার পানিতে ডুবে গেছে। রতনদিয়া লস্করদিয়া নারায়নপুরের বিল্লাল হোসেন বললেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভেবেছিলাম বিপদসীমা অতিক্রম করতে ২/৩ দিন লাগবে। রাতেই তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মাপার থেকে চরাঞ্চল আরো ৩ ফুট নিচু। তাই চরাঞ্চলের কোন কোন জায়গা বন্যার পানিতে ৪/৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হঠাৎ বন্যায় ধান ও পাট ফসল ডুবে যাচ্ছে। কৃষকেরা পাট কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় কৃষকদের পাশাপশি কৃষানীরা পাট কাটতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। হরিনবাড়ীয়া মৌজার গোলাপী বেগম ও সাজেদা বেগমকে পাট কাটতে দেখা যায়।

তারা জানায়, ধান তলিয়ে গেছে। পাট যদি ঘরে তুলতে না পারি। তবে না খেয়ে মরতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে কাচি নিয়ে বের হয়েছি।

গোলাপী বেগম ও সাজেদা বেগম বললেন, ভাইজান সরকারকে বইলেন, আমাদের খাদ্য সংকট চলছে। সরকার যেন ত্রাণের ব্যবস্থা করেন।


আরো সংবাদ

যে দুটি ট্রফি এখনো অধরা মেসির, এবার কি হবে? বগুড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন ইমরানকে ‘পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন’ মোদি পরিবারের শিকড় পাকিস্তানে বলায় সোনমকে ভারত ছাড়ার হুমকি মৃত ভেবে চিতাবাঘের ছবি তুলতে গিয়ে... শখের বসে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে শিক্ষার্থী নিহত রাণীনগরে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসূচি বিদেশী অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার শর্তাবলী প্রকাশের আহ্বান টিআইবির ঢাকায় ফেরত ১৮ হাজীর লাগেজ নিয়ে বিপত্তি সরকার ক্ষ‌তিগ্রস্তদের পা‌শে থাক‌বে, চলন্তিকা বস্তিতে ওবায়দুল কাদের

সকল