২২ আগস্ট ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি : নিহত যুবক বোবা

সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি : নিহত যুবক বোবা - ছবি : নয়া দিগন্ত

সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে শনিবার গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম সিরাজ মিয়া। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ড এলাকার আবদুর রশিদ মন্ডল ও কমলা বেগমের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনিতে নিহত যুবক বোবা ও বধির। প্রতিবন্ধি হওয়ায় মারধর করা সত্ত্বেও সে কোনো কথা বলতে পারেনি।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম জহির জানান, শনিবার সকালে ঘটনার পরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করি।

পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জোনের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, আমি ও সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ এস আই সাখাওয়াত সুলতান ও টিপু সুলতানের নেতৃত্বে নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ অনুসাঙ্গিক পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ জানান,গণপিটুনির শিকার ছেলেটা বোবা ও বধির ছিল।যার ফলে মারধোর করার কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি।

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে যুবকে পিটিয়ে হত্যা ও এক নারীকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ছেলে ধরা সন্দেহে বিভিন্ন এলাকায় গুজব সৃষ্টি করে উত্তেজিত জনতা যে কাউকে মারধর করছে। কেহ আইন হাতে তুলে না নিয়ে ছেলে ধরা সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে খবর দেয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা করা হলো।

শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় ও বেলা পৌনে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া ও পাইনাদী শাপলা চত্বর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং এক নারীকে গুরুতর আহত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সাখাওয়াত জানান, ৬-৭ বছরের এক মেয়ে শিশুর হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছিল ওই যুবক। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে দুই যুবকের সন্দেহ হয়। তারা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি নিজের বলে দাবি করে ওই যুবক। ইতোমধ্যে শিশুটির বাবা ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটি তার বাবার কাছে চলে যায়।

এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজন ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে মিজমিজি শাপলা চত্বর এলাকায় ২২ থেকে ২৫ বছরের এক নারী খেলনা ও খাবার দিয়ে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহ হলে তারা শিশুটি কার জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী তাকে পিটুনি দেয়া শুরু করে।

 


আরো সংবাদ