১৮ আগস্ট ২০১৯

অফিস কক্ষে পিটিয়ে হাত-হাড়গোড় ভেঙ্গে দিল সভাপতির লোকজন

অধ্যক্ষের কক্ষে কমিটির সভাপতির সামনে অভিভাবককে পিটিয়ে হাত ও হাড়গুর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অভিভাবকের দুই কর্মচারীকেও সেখানে আটকে রেখে বেধড়ক পিটালো সভাপতির লোকজন। এ ঘটনায় আহত অভিভাবক সাতদিন ধরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আহত অভিভাবকের নাম আব্দুর রাজ্জাক (৫৫)। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনের মালিক। তার দুই সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশুনা করেন।

আহত আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চান্দনা হাইস্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিন বছর মেয়াদে ১০ লাখ টাকা জামানত দিয়ে মাসিক ২৫ হাজার টাকার ভাড়ায় স্কুলের ক্যান্টিন চালান। তাকে গত ১৬ জুলাই অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে কমিটির সভাপতির সামনে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়; তিনি স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হালিম সরকারকে গালমন্দ করেছেন।

এক পর্যায়ে সভাপতির সামনে ৫-৭ জন লোক অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। এসময় প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীসহ কয়েকজন শিক্ষকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হজ্বব্রত পালন করতে যাওয়ায় অধ্যক্ষ অফিসে ছিলেন না।

পরে পলাশ নামে এক ব্যবসায়ী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিলে তাকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই এক্সরে করে দেখা গেছে তাকে মারধরের ফলে তার বাম হাত ভেঙ্গে গেছে, বুকের একটি পাজর ও কোমরের হাড় ফেটে গেছে। তিনি সাত দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, বিনা দোষে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমার ধারণা কেউ আমার সম্পর্কে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সভাপতিকে ভুল বুঝিয়েছে। সভাপতি আমার কোন কথাই শুনেননি। সুস্থ্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

আহত আব্দুর রাজ্জাক আরো জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে তার এক মেয়ে ১০ম শ্রেণীতে এবং ছেলে কলেজ শাখায় একাদশ শ্রেণীতে লেখা পড়া করে। এ ঘটনার পর ভয়ে তার সন্তানেরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
ক্যান্টিনটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়ে চাবি নিয়ে গেছে সভাপতির লোকজন। দোকানে নগদ ৩২ হাজার টাকা ও মালামাল ছিল। সেগুলোর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কমিটির সভাপতি এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, ক্যান্টিনের ভাড়ার বিষয় নিয়ে ক্যান্টিন মালিক আব্দুর রাজ্জাক স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে গালমন্দ করেছিলেন বলে শুনেছি।
বিষয়টি পরস্পর জানতে পেরে সভাপতি ক্যান্টিনের দুই কর্মচারীকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে মালিক রাজ্জাক সাহেবকে ডেকে আনা হয়। তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাককে মারধর করা হয়। সেখানে পূর্ব থেকেই তার দোকানের কর্মচারি জিয়ান (১০) ও ম্যানেজার রজব আলীকেও আটকে রেখে মারধর করা হয়। ওইদিন রাত এগারটার দিকে দুই কর্মচারীকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে ঘটনা অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হালিম সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ক্যান্টিনের ১১ মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে। তাকে ডেকে ভাড়া পরিশোধের কথা বলা হয়েছিল।


আরো সংবাদ

কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির পর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি নারায়ণগঞ্জ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চান সেলিম ওসমান কাশ্মির স্টাইল ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগ? গ্রেফতার হয়নি রিফাত হত্যার এজহারভুক্ত ৪ আসামী, ২২ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল ‘শান্তি’র আহবান নিয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পদযাত্রায় শান্তি খুলনায় সহপাঠীকে ধর্ষণ মামলায় কর কমিশনারের ছেলে শিঞ্জন রিমান্ডে মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শহিদুল আলমের মামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ আপিল বিভাগের ছাত্রদলের মনোনয়ন ফরম শেষ! কিউইদের হারিয়ে লঙ্কানদের জয় অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত লোহাগড়ার সেই পরিবার

সকল