২০ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকায় সনাক্ত হয়নি, শরীয়তপুরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু কলেজশিক্ষার্থীর

দাদন লস্কর - ছবি : সংগৃহীত

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় দাদন লস্কর (২১) নামে এক কলেজশিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

দাদন শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার উপজেলার মাছুয়াখালি গ্রামের দরিদ্র কৃষক জামাল হোসেন লস্করের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দাদন সংসারের বড় ছেলে। তিনি গোসাইরহাট সরকারি সামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভাবের সংসারের হাল ধরতে ঢাকার বনানী কাঁচাবাজারের হাজী রেস্তোরাঁয় ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন।

চাকরিরত অবস্থায় গত ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার হঠাৎ জ্বর অনুভব হয় তার। জ্বর ক্রমশই বাড়তে থাকলে ঢাকায় পরীক্ষা করালে সেখানে ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত না হওয়ায় ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়ি চলে আসেন তিনি।

পরের দিন ২৩ আগস্ট দাদনকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত হয়। ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।

গতকাল রোববার বিকেলে দাদনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠান। গোসাইরহাট থেকে প্রাইভেটকারে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীটি গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ আগস্ট ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদর হাসপতালে রেফার করা হয়। সদর হাসপাতালে নেয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।’

নিহত দাদনের বাবা কৃষক জামাল হোসেন লস্কর বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমি কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। সংসারে অভাব দেখে বড় ছেলে দাদন ঢাকার একটি হোটেলে ম্যানেজারী করতো। আজ আমার ছেলে সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা: মো: খলিলুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গোসাইরহাটের একজন ছাত্র মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই ছেলেটি ঢাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা থেকেই আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুরে এসেছেন। জেলায় এ পর্যন্ত ৩৮১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটা ভালো মনে হচ্ছে। আগের থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে।


আরো সংবাদ