২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শরীয়তপুরে অপহৃত শিশু শিশির উদ্ধার, আটক ৩

শরীয়তপুরে অপহৃত শিশু শিশির উদ্ধার, আটক ৩ - নয়া দিগন্ত

অপহরণের ১৮ ঘন্টার মাথায় আব্দুন নুর শিশির (৮) নামে এক অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় গোসাইরহাটের কোদালপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইউসুফ ঢালী, রাসেদ ও সৌরভ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন। অপহৃত আব্দুস নুর শিশির শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের মাস্টার সাত্তার খালাসী ও সালমা আক্তার বকুল দম্পতির একমাত্র সন্তান। শিশির শরীয়তপুর কালেক্টরেট কিশলয় কে.জি স্কুলের নার্সারী শ্রেণীর ছাত্র।

শিশিরের পরিবার ও পালং মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত বছর নড়িয়ার ভয়াবহ পদ্মার ভাঙ্গনে সহায় সম্বর হারিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামে বাড়ী করে বসবাস করে আসছে মাস্টার সাত্তার খালাসী। গত সোমবার স্কুল থেকে এসে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যায় মাস্টার সাত্তার খালাসীর ছেলে শিশির । খেলা শেষে শিশির আর বাড়ি ফিরে আসেনি। প্রতিবেশীর বাড়ি, এলাকায় ও নিকটাত্মীয়দের বাসায় খোঁজ করে শিশিরের কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার। পরে ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শিশিরের বাবার মোবাইল ফোনে (০১৭০৬৯১৭০৭৪) অপরিচিত নম্বরে কল করে ছেলের বিনিময়ে ১ কোটি টাকা মুক্তিপন দাবী করে।

বিষয়টি উল্লেখ করে ওই দিন রাতে অপহৃত শিশিরের পিতা পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করে। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পালং থানা পুলিশ গোসাইরহাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় কোদালপুর এলাকার হাজী দেওয়ান বাড়ী গ্রামের স্থানীয় আল আমিন মেম্বারের বাড়ী থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে।

পুলিশ আরো জানায়, ঐ দিন রাত ১১ টার সময় অপহরনকারী দলের জনৈক ব্যাক্তি শিশুটিকে নিয়ে ইউপি সদস্য আল আমিনের বাড়ীর পাশে দাড়িয়ে ছিল। এ সময় আল আমিনের ভাই আলাউল মাছ শিকার করে বাড়ী ফিরছিলেন। গভীর রাতে একটি অসুস্থ শিশুকে নিয়ে ঐ যবুককে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হলে তিনি কারণ জানতে চায়। তখন অপহরনকারী দলের সদস্য তার ভাইয়ের ছেলে পরিচয় দিয়ে গাড়ী আনার কথ বলে সটকে পড়ে।

অপহৃত শিশিরের বাবা মাস্টার সাত্তার খালাসী বলেন, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে শিশির নিখোঁজ হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় অপরিচিত নম্বর থেকে আমার মোবাইলে কল আসে। ওপাশ থেকে আমাকে বলে, ‘তোর ছেলেকে খুঁজে লাভ নাই? তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে হলে ১ কোটি টাকা লাগবে। ওরা আমার ছেলের সাথে কথা বলতে দেয়নি। আমি পুলিশকে বিষয়টি বলি। পালং মডেল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আমার ছেলেকে উদ্ধার করেছে। তা না হলে অপহরণকারীরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলত। আমি অপহরণকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই’।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন বলেন, মুক্তিপণের জন্য শিশির নামে ৮ বছরে একটি শিশুকে অপহরণ করে। সঠিক সময়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অপহরণকারীরা তাকে মেরে ফেলত। শিশুটিকে অপহরনকারীরা নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোসহ মারধর করেছে। এতে শিশুটি মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা মাস্টার সাত্তার খালাসী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 


আরো সংবাদ