১৮ অক্টোবর ২০১৯

বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে ৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি : শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে ৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি : শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ - নয়া দিগন্ত

মাদারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়শা সিদ্দিকা নামে এক শিক্ষিকা শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারায় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষিকাকে অপসারণ কারার জন্য কর্তৃপক্ষ তিনদিন সময় নিলেও এখন পর্যন্ত সেই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে আসছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অভিবাবকরা স্কুল মাঠে বিক্ষোভ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পৌর-পেয়ারপুর ১০৯নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকা শ্রেণী কক্ষে গেলে ভয়ে আতঙ্কে থাকে শিক্ষার্থীরা। অনেকে ছাত্র-ছাত্রী তার অমানুুষিক অত্যাচারে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তার নামে একাধিক অভিযোগ করার পরও ক্ষমতার বলে এখনো সে বিদ্যালয়ে চাকুরি করে যাচ্ছে এবং আগের মতই শিক্ষার্থীদের অমানুষিক অত্যাচার করেছে। গত শনিবার ৫ম শ্রেণির একটি ক্লাসে পড়া না পারায় ৬ জন শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দেন। এতে দুই জন ছাত্রী ও একজন ছাত্রের নাখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো পঞ্চম শ্রেণির তৃষা দাস, ঐশি দাস, নব মালো।

এ ঘটনার পর অভিভাবকরা বিষয়টি জনাতে পেরে তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালে সে তাৎক্ষণিক একটি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে তিন দিনের সময় নেন। কিন্ত তিনদিন পার হলেও সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায়, অভিভাবকরা তাদের বিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন জনগণ বিদ্যালয়ের আয়াশা সিদ্দিকা নামে ঔ শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।

বিদ্যালয়ের ছাত্রী তৃষা দাসের মা মিলি দাস বলেন, আমার মেয়েকে পড়া না পারায় আয়শা ম্যাডাম দীর্ঘসময় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দিয়েছে, এমনকি মাথা উঠাতে দেয়নি, মাথা উঠালেই স্কেল দিয়ে পিঠে আঘাত করেছে, এভাবে দীর্ঘ সময় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে রাখায় নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে পড়াশুনা করতে দিয়েছি। মার খেতে দেই নাই।

ঐশি দাসের বাবা টিটু দাস বলেন, এই ম্যাডাম এর আগেও বাচ্চাদের মারধর করত। আমার মেয়েকে শাস্তি দেয়ার কথা বলে অমানুষিক অত্যাচার করেছে। আমি এই ম্যাডামের শাস্তি চাই। এই ম্যাডাম স্কুলে আসলে আমি আমার সন্তানকে স্কুলে দেব না।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নব মালো জানান, আমি পড়া না পারায় আমাকে বেঞ্চের নিচে মাথা রেখে স্কেল দিয়ে পিঠে ও কোমরে পিটিয়েছে। এতে আমার অনেক সমস্যা হচ্ছে আর হাটতে কষ্ট হচ্ছে।

পৌর-পেয়ারপুর ১০৯নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, স্কুলে পড়া না পারায় আমি শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিয়েছি। এটা আমার ভুল হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা সকালে খাবার না খেয়ে আসার কারনে অসুস্থ হয়ে পরেছে। প্রধান শিক্ষিকা নাঈমা আক্তার বলেন, আমি আয়শা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে ৩দিনের মধ্যে একটি ব্যবস্থা নেব।

এই বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি জালাল মাহমুদ বলেন, আমি এখন দূরে আছি কথা বলতে পারব না, এই বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমানের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। জবাবটি আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্যারের কাছে পাঠিয়েছি।

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানান, আমি বিষয়টা শুনেছি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


আরো সংবাদ